সকাল ৮:৩৪, সোমবার, ২৪শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / বঙ্গবন্ধু একটি অনুভূতির নাম
বঙ্গবন্ধু একটি অনুভূতির নাম
মার্চ ১৬, ২০১৭

মাশরাফী হিরো : বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে  লেখা বহু স্মৃতিচারণমূলক লেখা হয়তো বের হবে। যারা বঙ্গবন্ধুকে দেখেছেন অথবা চর্চা করেছেন তাদের। কিন্তু, আমাদের মত অসংখ্য কর্মি যারা বঙ্গবন্ধুকে না দেখে আদর্শ মনে করি তাদের সামনে সম্ভবত ইতিহাস, তার সহচরদের বর্ণনা অথবা শেখ হাসিনার উপর নির্ভর করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে না দেখে তার স্বরূপ অংকন করার চেষ্টা আমাদের মত আওয়ামী লীগের কর্মির পক্ষে হয়তো পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয়। তারপরও ব্যর্থ চেষ্টা। আজকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বহু গবেষণা হচ্ছে। টিভি, পত্র-পত্রিকা, সভা-সমাবেশ, টকশোতে বিস্তর আলোচনা চলছে।

 কিন্তু, ৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে খুব কম গবেষকই গবেষণা করেছেন। বিশেষ করে ৯৬ এর পূর্ব পর্যন্ত। ২১ বছর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রায় নিষিদ্ধ। কিন্তু, তাতে বঙ্গবন্ধু হারিয়ে যাননি। বরঞ্চ প্রতিদিন তার নাম ইতিহাসের পাতায় মলিনতার পরিবর্তে উজ্জ্বল হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে হয়তো টিভি, টকশো হচ্ছে। সারা বাংলাদেশের মানুষ জানছে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে। কিন্তু, তাতে আওয়ামী লীগের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি। আমাদের শুনতে হয় আওয়ামী লীগের চাইতে শেখ হাসিনার সরকার অনেক বেশি শক্তিশালী। বঙ্গবন্ধুর সময়ও ঠিক একই অবস্থা। আওয়ামী লীগের চেয়ে বঙ্গবন্ধু অনেক বেশি জনপ্রিয় ছিলেন। এর মূল কারণ হলো আমাদের মত অসংখ্য ‘সুবিধাবাদী’। যারা প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে বিতর্কিত করছি। যার কারণে বিতর্কিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

একজন মানুষের পক্ষে সব করা সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধুর পক্ষেও তা করা সম্ভব ছিল না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা সেদিন নিজেদের নিয়ে এতই মত্ত ছিলেন যে, বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের ১৮ জন মানুষ শহীদ হলেন তারপরও অসংখ্য নেতা জীবিত ছিলেন। আমাদের মতো সুবিধাবাদীদের কারণে বঙ্গবন্ধু মারা গিয়েও বাঁচতে পারেননি। প্রতিনিয়ত তাদের অপকর্মের জবাবদিহি করেছেন বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও  ঠিক তাই। যারা গবেষণা করেন, স্মৃতিচারণ করেন তারাও অনেকে সেদিন নিশ্চুপ ছিলেন। সেদিনকার সময় দেখার কোন সুযোগ পাইনি। কিন্তু, ১/১১ এর সময় অনেক বিষয় পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ হয়েছে। যারা ছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার এক নম্বর সৈনিক তারাই তার বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। অনেকে আবার বাঁচার তাগিদে দেশ ছেড়েছিলেন।

 চামড়া বাঁচানোর জন্য। কিন্তু, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েননি। জেল খেটেছেন। সেদিন যুদ্ধাপরাধিরা বেঁচে গেলেও শেখ হাসিনাকে জেল খাটতে হয়েছে। শুধু কাছে থাকলেই অথবা ঘনিষ্ঠভাবে মিশলেই এক নম্বর সৈনিক হওয়া যায় না। হাওয়া বদলের সঙ্গে সঙ্গে অনেকের রূপ বদলায়। কিন্তু, বাংলার মেহনতি, খেটে খাওয়া মানুষের রূপ বদলায় না। যারা কোনদিন টিভি টকশো দেখেন না, পেপার পত্রিকা পড়েন না। যারা লিখতে জানেন না, পড়তে পারেন না, তারা কখনও সত্য উপেক্ষা করেন না। যাদের হৃদয়ে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। শ্রমজীবী এসব খেটে খাওয়া মানুষ কারো আনুকূল্য পাওয়ার চেষ্টা করেন না।

 মনে রেখেছেন বঙ্গবন্ধুকে। এগিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনাকে সামনের দিকে। কে তাকে মনে রাখলো তা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কিছু আসে যায় না। জনপ্রিয়তার জন্য বঙ্গবন্ধু কিছু করেননি। বাস্তবতার নিরীখে সেদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। শুধু স্বপ্ন নয়, বাস্তবায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধু। তাইতো সুদূর প্রসারী বঙ্গবন্ধু বেছেনিয়েছিলেন নজরুলের জয় বাংলা স্লোগান। রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলার পাশাপাশি নজরুলের বাংলাদেশ। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রের সাথে ধর্মনিরপেক্ষ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ। যার আবর্তে ঘুরপার্কর্ খাচ্ছে বাংলাদেশ ও বাঙালি।

 তার দেওয়া আদর্শ থেকে বেরুতে পারিনি আমরা। তার যারা বিরোধী গোষ্ঠী তারাও মুখ ফসকে এসব কথা বলে থাকেন। মুখে না বললেও পালনে অভ্যস্ত অনেকে। বঙ্গবন্ধু কোন কিছু চাপিয়ে দেননি। বাঙালি ও বাংলাদেশ যা ধারণ  করেছেন তা নেতা হিসেবে তিনি প্রকাশ করেছেন। এখানেই নেতার সাথে মানুষের সম্পর্ক। যা সমস্ত কিছুর উর্ধ্বে। হৃদয়ের এ সম্পর্ক কোন কলমে আঁকা যায় না। টিভি-টকশোতে ধারণ করা যায় না। এ অনুভূতি কথায় অথবা বক্তৃতায় বিবৃত করা যায় না। হৃদয় যেমন দেখা যায় না, আদর্শ যেমন ছোঁয়া যায় না, শুধু অনুভব করা যায়। তেমনি বঙ্গবন্ধুকে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না। শুধু অনুভব করা যায় হৃদয় দিয়ে। তাইতো বাঙালির হৃদয়ে চিরভাস্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
লেখক ঃ মাশরাফী হিরো
উপ-দপ্তর সম্পাদক,
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ
০১৭১১-৯৪৪৮০৫



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top