দুপুর ২:০৫, রবিবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য / ‘বগড়্যার মেলা’র ৩য়দিন মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার অবদান তুলে ধরার আহ্বান
‘বগড়্যার মেলা’র ৩য়দিন মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার অবদান তুলে ধরার আহ্বান
জানুয়ারি ১৪, ২০১৭

মহান মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার অনবদ্য অবদান দেশবাসীর কাছে তুলে ধরে প্রকাশনা বের করতে ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। এ সময় তিনি প্রকাশনার নাম ‘মুক্তিযুদ্ধে বগুড়া’ করার প্রস্তাব দেন।  শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চার দিনব্যাপী ‘বগড়্যার মেলা-২০১৭’ এর দ্বিতীয় দিনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি। ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতি ও বগুড়ার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের  যৌথ উদ্যোগে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধকে ‘বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জন’ দাবি করে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বগুড়ার মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বগুড়া সমিতির ভিন্নতর প্রকাশনা থাকা উচিত। তিনি বলেন, বগুড়ার সংস্কৃতি যথেষ্ঠ সমৃদ্ধ। এই সংস্কৃতিকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে সেখানকার সংস্কৃতিগোষ্ঠীগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে, প্রয়োজনে নতুন করে সংস্কৃতিগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হবে।

 ঢাবির এই অধ্যাপক বলেন, বগুড়ায় আরো উন্নয়ন হওয়া দরকার। সেখানে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া প্রয়োজন। বগুড়ার উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। মেলার মাধ্যমে বগুড়ার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে বগুড়া সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান রন্টু জানান, মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনার জন্য বগুড়া থেকে প্রতিদিন দু’টি বাসে করে শিল্পীদের আনা হচ্ছে। কারণ, আমরা বগুড়ার শিল্পীদের মাধ্যমে বগুড়ার সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চাই। তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়া সমিতির প্রচেষ্টায় বেহাত হওয়া ‘ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ি’ প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়েছে। শিগগিরই তা দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

 এটি সমিতির একটি বড় অর্জন। ঢাকায় ‘বগুড়া ভবন’ তৈরির চেষ্টা চলছে জানিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম কামরুল ইসলাম ঢাকায় প্রতি বছর ‘বগড়্যার মেলা’ অনুষ্ঠানে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এতে বগুড়া সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার তালুকদারসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। বগুড়ার শিল্পীদের পরিবেশনায় আঞ্চলিক গান, বাউল গান, নৃত্যানুষ্ঠান ও নাটক পরিবেশিত হয়। বিকেলে করতোয়া নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর ‘কদম মুন্সির ঠিকানা’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। এরপর বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা হাস্যরসাত্মক নাটিকা ‘সূক্ষ্ম বিচার’ মঞ্চস্থ করে বগুড়া নাট্যগোষ্ঠী।

শিল্পী মাহির পরিবেশনায় বগুড়ার আঞ্চলিক গানও পরিবেশিত হয়। সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে মঞ্চস্থ হয় নান্দনিক নাট্যদলের পরিবেশনায় ‘বর্ণচোর’ নাটকটি। মেলায় পুলি, মুঠা, পাটিশাপটা ও দুধ পিঠা, গাজর ও গুড়ের সন্দেশসহ চার রকমের দই ও ঘি নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছে সাউদিয়া দই ক্ষীরসা এন্ড সুইটস। বিক্রি কেমন, জানতে চাইলে বিক্রেতা হোসনে আরা ইতি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সাউদিয়া সুইটস থেকে মিষ্টান্ন কেনার পর দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকায় বসবাসরত প্রকৌশলী আসিফ রহমান সৈকত দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দাম কিছুটা বেশি বলেই মনে হয়। তবে এটা বড় কোনো ব্যাপার না। আগামীকাল সোমবার মেলার সমাপ্তি ঘটবে।
আজকের কর্মসূচি : মেলামঞ্চে আজ রোববার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টায় হবে কবিগান, নৃত্য, পালাগান, নাটক, সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top