রাত ৩:১১, সোমবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রাজশাহী / বগুড়ায় সন্ধ্যা রাতে ফিল্মি স্টাইলে জুয়েলার্স দোকানে ডাকাতি
আড়াই কোটি টাকার সোনা লুট
বগুড়ায় সন্ধ্যা রাতে ফিল্মি স্টাইলে জুয়েলার্স দোকানে ডাকাতি
জানুয়ারি ১৪, ২০১৭

প্রকাশ্যে সন্ধ্যারাতে ফিল্মি স্টাইলে বগুড়া শহরের মেরিনা রোডে বৃহত্তর নিউমার্কেটে আল হাসান জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। মুখোশপরা ডাকাত দল জুয়েলার্স মালিককে গুলি করে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের পাঁচশ’ ভরির অধিক সোনার গহনা ও পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। পালিয়ে যাবার সময় ডাকাতদল ১৫-২০টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এর আধা ঘন্টার মধ্যেই ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস আটকসহ একজন ডাকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির লুন্ঠনকৃত সোনার গহনা ও টাকা।

শহরের সাতমাথা থেকে দুইশো গজ উত্তরে মেরিনা রোডে বৃহত্তর নিউ মার্কেটের পূর্ব পার্শ্বে এম এ খান লেনে গোল্ডেন মার্কেটে আল হাসান জুয়েলার্স অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  সন্ধ্যা ছয়টা ৫০ মিনিটের দিকে ৭-৮ জনের একটি ডাকাতদল সাদা রংয়ের একটি হাইচ মাইক্রোবাস যোগে এসে ওই জুয়েলার্সের কাছে একটি মন্দিরের সামনে নামে। এরপর ডাকাতদল জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে এসে সরাসরি ওই জুয়েলার্সে ফিল্মি স্টাইলে ঢুকে পড়ে। তারা জুয়েলার্স মালিক গুলজার রহমানের পায়ে গুলি করেই লুটপাট শুরু করে। ডাকাতদল জুয়েলার্সে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে পাঁচশ’ ভরির অধিক সোনার গহনা এবং সিন্দুক থেকে পাঁচ লাখ টাকা লুট করে একটি বস্তায় তুলে মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যায়।

জুয়েলার্স মালিক গুলজার রহমান জানান, তার দোকানে কোন কাস্টমার ছিল না। তিনি পেপার পড়ছিলেন। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৭/৮ জনের মুখোশপরা ডাকাত দল দোকানে প্রবেশ করেই তাকে পিস্তলের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এক পর্যায়ে ডাকাতদল তার ডান পাঁয়ে গুলি করে দোকানে লুটপাট চালায়। তিনি আরো জানান, দোকানে সিসি ক্যামেরা থাকলেও ডাকাতরা তা সহ হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গেছে। তিনি জানান, লুট হওয়া স্বর্ণের মূল্য আড়াই কোটি টাকা হবে। উল্লেখ্য, গুলজার রহমানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছে।
দোকান ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, মুখোশপরা ডাকাতদল তাদের জুয়েলার্সে ঢুকেই অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। দোকানে তিনিসহ চারজন কর্মচারী ছিলেন। ডাকাতরা কর্মচারিদের দোকান থেকে বের করে দিয়েই দোকানে ডাকাতি শুরু করে। এর ১৫-২০ মিনিট আগে এক ব্যক্তি আংটি কেনার অজুহাতে জুয়েলার্সে এসেছিল। তাদের ধারণা ওই ব্যক্তিও ডাকাত দলের সদস্য। ওই ব্যক্তি ক্রেতা সেজে ছদ্মবেশে এসে তাদের দোকান রেকি করে যায়। এরপর পরই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
দোকান কর্মচারি নাজমুল ও সুমন জানিয়েছেন, ডাকাত দল ডাকাতি করতে মাত্র ১০-১৫ মিনিট সময় নেয়। ডাকাতি শেষে ডাকাতদল লুন্ঠনকৃত সোনার গহনা ও টাকাগুলো একটি বস্তায় ভরে নেয়। এরপর তারা বের হয়েই বৃষ্টির মত বোমা ফাটিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়।

জুয়েলার্স মালিক গুলজার রহমানের সমন্ধি আব্দুল করিম জানান, ডাকাতদল একটি সাদা রংয়ের হাইচ মাইক্রোবাস নিয়ে এসেছিল। মাইক্রোবাসটি জুয়েলার্স থেকে এক-দেড়শ’ গজ উত্তর-পূর্বে জৈন মন্দিরের সামনে দাঁড় করে রেখেছিল। এ সময় ডাকাতের একজন মাইক্রোবাসের দরজা খুলে রেখেছিল বলে তিনি দেখতে পেরেছেন। ডাকাতির পর ডাকাতরা ওই মাইক্রোবাসযোগেই পালিয়ে যায়। ডাকাতির পরপরই বগুড়ার পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডলসহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া র‌্যাব ও পিবিআই সদস্যদেরকেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়। তল্লাশি চৌকি বসানো হয় শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ছাড়াও উপজেলাগুলোতে। অভিযানে নামানো হয় ডিবিসহ জেলার সকল থানার পুলিশকে। এরই এক পর্যায়ে ডাকাতের আধা ঘন্টার মধ্যে শাজাহানপুরের ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের নয় মাইল নামক স্থান থেকে ডাকাতির ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও লুন্ঠনকৃত সোনারগহনা ও টাকা উদ্ধারসহ ডাকাত দলের এক সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। তবে পুলিশ গতরাত নয়টা পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত ডাকাতের নাম জানায়নি।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top