সকাল ৯:৩৮, শুক্রবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / ফেলানী হত্যার দ্রুত বিচার দেখতে চায় মা-বাবা
ফেলানী হত্যার দ্রুত বিচার দেখতে চায় মা-বাবা
January 7th, 2017

ছয় বছর আগে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার। ফেলানী হত্যার ষষ্ঠ বার্ষিকীতে  শনিবার রাজধানীর শিশু পরিষদ মিলনায়তনে নাগরিক পরিষদ নামের একটি সংগঠন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা এই দাবি তোলেন।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্ত হয়ে বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে ঢোকার সময় বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে প্রাণ হারায় কিশোরী ফেলানী।
কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে বাংলাদেশ সরকার ও মানবিকার সংস্থাগুলোর কড়া প্রতিবাদে বিচারের ব্যবস্থা হলেও ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিএসএফের আদালত আসামি বিএসএফের কনস্টেবেল অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয়। ফেলানীর পরিবারের আপত্তিতে বিএসএফ মহাপরিচালক রায় পুনর্বিবেচনার আদেশ দিলে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নতুন করে শুনানি শুরু হয়। কিন্তু পুনর্বিচারে একই আদালত তাদের পুরনো রায় বহাল রাখে। নিহত ফেলানী খাতুনের পরিবারকে পাঁচ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে গতবছর ভারত সরকারকে সুপারিশ করে দেশটির জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। নাগরিক পরিষদের আহ্বানে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন ফেলানীর মা জাহানারা বেগম ও বাবা নুরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে জাহানারা বেগম মেয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লে পুরো মিলনায়তন নিরব হয়ে যায়। জাহানারা বলেন, ‘ফেলানীকে তার বাবার কাছে বিয়ে দিতে পাঠিয়েছিলাম। একটি পারিবারিক কাজে তখন আমি ভারতে ছিলাম। ঘটনার তিনদিন পর মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানাতে পারি। তার বাবাকে বলেছিলাম আমার মেয়েকে আমি জীবিত ফেরত চাই। আমি চাই সীমান্তে যেন গুলি না চলে। কোন মায়ের সন্তানকে যেন গুলি খেয়ে মারা যেতে না হয়। এজন্য ফেলানী হত্যার বিচার দ্রুত যেন শেষ হয় সেই উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই।’ এখন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ কেউই তাদের খোঁজ রাখেন না বলে অভিযোগ করেন জাহানারা। ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ফেলানীকে চোখের সামনে গুলি করতে দেখি। এরপর তার লাশ চারদিন সীমান্তের কাটাতারে ঝুলছিল।

কোন বাবার চোখের সামনে মেয়ের এমন মৃত্যু হলে তার জীবন কেমন হয় সেটা সবাই বুঝতে পারেন। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আমাদের বাড়িতে এসে বলেছিলেন, আমার পরিবারের দায়িত্ব তিনি নেবেন। কিন্তু এই ছয় বছরে তিনি কোন খবর নেন নাই। সন্তানদের নিয়ে এই সময়ে চলা আমার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’ মেয়ের হত্যার বিচার হলে আর কাউকে গুলি খেয়ে মরতে হতো না বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মো.শামসুদ্দীন ৭ জানুয়ারিকে ফেলানী দিবস হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, ফেলানী হত্যার বিচার নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। ফেলানী হত্যা মামলা নিয়ে এখন সেখানকার আদালতে দুটো মামলা চলছে। একটি মামলা হলো রিট মামলা ও অন্যটি করেছেন সেখানকার মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’(মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ) নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন। সেখানে তারা ফেলানী হত্যা মামলার পুন:তদন্ত দাবি করেছেন। এতে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। চলমান দুটো মামলা সমন্বয় করা সম্ভব হলে দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হতো বলেও মনে করেন তিনি। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক পরিষদের নারী বিষয়ক সম্পাদক মুশতারি বেগম, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাহরাইনে সুলতান বাহার, মানবাধিকার কর্মী মঞ্জুর হোসেন ঈসা, গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি হারুনুর রশীদ প্রমুখ।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top