সন্ধ্যা ৬:১২, রবিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / ফরহাদ মজহারকে অপহরণের প্রমান মেলেনি : পুলিশ প্রধান
*আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে
ফরহাদ মজহারকে অপহরণের প্রমান মেলেনি : পুলিশ প্রধান
জুলাই ৮, ২০১৭

তদন্তে এখনও ফরহাদ মজহারকে অপহরণের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। শনিবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মাদকবিরোধী এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

আইজিপি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তদন্তে ফরহাদ মজহার অপহরণ হয়েছিলেন এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।’ তবে কি কারণে দিনভর ফরহাদ মজহার কার সঙ্গে কোথায় অবস্থান করেছিলেন তা জানতে দু-তিন দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের আইজি।

এর আগে আলোচনা সভায় পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘হলি আর্টিজানের ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ২১টি অভিযান হয়েছে। এসব অভিযানে জঙ্গিরা কোণঠাসা ও দুর্বল হয়েছে। ঢাকা শহরে তাদের আর সংগঠিত হওয়ার শক্তি নেই। এ কারণে তারা ঢাকার বাইরে যাওয়ার করার চেষ্টা করছে। আমরা তাদের নজরদারিতে রেখেছি।’ মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত ফরহাদ মজহারের চলার পথে কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে, যার রহস্য খুঁজে বের করতে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঢাকা ফেরার পথে নিজের নাম বাদ দিয়ে অন্য নামে হানিফ পরিবহনের টিকেট নিয়েছিলেন ফরহাদ মজহার। আদালতকে এ ব্যপারে বিবরণ দিয়েছেন ওই কাউন্টারের ম্যানেজার। বলেছেন টিকেট নিজেই সংগ্রহ করেছিলেন ফরহাদ মজহার।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জুলাই সোমবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের ‘হক ভবন’ থেকে স্বাভাবিক পোশাকে, স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বের হন ফরহাদ মজহার। কিছুক্ষণ পরে তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের মোবাইল ফোনে ফরহাদ মজহার নিজেই জানান, কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। সেসময় তাকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও আশঙ্কার কথাও জানান তিনি। ফরহাদ মজহার নিয়মিত যে নম্বর ব্যবহার করেন তার বদলে মাঝেমধ্যে ব্যবহার করেন এমন নম্বর থেকে তার স্ত্রীর ফোনে ফোন আসে। প্রয়োজন হতে পারে জানিয়ে ফোনে ফরহাদ মজহার ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতেও বলেন। এরপর নিখোঁজ লেখক-কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তার মোবাইল ট্রাকিংয়ের ম্যাধমে মোবাইলের লোকেশন সনাক্ত করে খুলনার কেডিএ অ্যাপ্রোচ রোড এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। পরে সেদিন রাতেই যশোর থেকে উদ্ধার করা হয় ফরহাদ মজহারকে।

মঙ্গলবার সকালে তাকে ঢাকা মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয় ও পরে আদালত হাজির করা হয়। সেখানে বিচারকের খাস কামরায় জবানবন্দি শেষে নিজ জিম্মায় মুক্তি পান তিনি। এরপর তাকে ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই মামলাটি এখন তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top