সকাল ৬:৩৩, সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা পরগাছামুক্ত ছাত্রলীগ চাই : কাদের
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা পরগাছামুক্ত ছাত্রলীগ চাই : কাদের
জানুয়ারি ৪, ২০১৭

বিভিন্ন কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালনকে ‘অশুভ প্রবণতা’ আখ্যায়িত করে এ ধরনের কর্মকান্ড বন্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ব্যর্থতাকে দায়ী করলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, মেধা, যোগ্যতা আর আচরণের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে আকর্ষণীয় করতে হবে। অনুপ্রবেশকারীদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। আমরা ছাত্রলীগকে পরগাছামুক্ত দেখতে চাই।  বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্রলীগকে পরগাছা মুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাদের বলেন, ২০১৭ সালের অঙ্গীকার হবে, অনুপ্রবেশকারী, পরগাছামুক্ত ছাত্রলীগ। এই অনুপ্রবেশকারী, পরগাছারাই ছাত্রলীগের এগিয়ে যাবার পথে প্রধান বাধা। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটিতে বিভিন্ন কায়দায় এই অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে সমস্যা সৃষ্টি করে। এই সমস্যা সৃষ্টির পেছনে জড়িত গুটি কয়েক পরগাছা, বদনাম হয় গোটা পার্টির, বদনাম হয় শেখ হাসিনা সরকারের, বদনাম হয় গোটা ছাত্রলীগের। নিয়মিত ছাত্রদের সংগঠনের কমিটিতে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এই ধারা শুরু হয়ে গেছে। ছাত্রলীগে ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়ে কাদের বলেন, ত্যাগী কর্মীরা যেন কোনঠাসা না হয়। ছাত্রলীগে যেন পকেট কমিটি কোথাও না হয়। এটা আমি বিশেষভাবে বলছি। আজকে অমুকের এই ভাগ, তমুকের এই ভাগ। এই ভাগাভাগি করলে ছাত্রলীগের অগ্রযাত্রা ব্যহত হবে। ছাত্রলীগের মান ক্ষুন্ন হবে। কারও বাসা বাড়ি পাহারা দেওয়া ছাত্রলীগের কাজ না। সংগঠনের মধ্যে এসব চলবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, তোমাদের কোয়ান্টিটি দেখে আমি ভয় পাই। কোয়ান্টিটির সঙ্গে কোয়ালিটির সংযোগ করতে হবে। টেডিশনের সঙ্গে টেকনোলজির যোগ করতে হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়নের মহাসড়কে আজ প্রধান বাধা উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। এখান থেকে আজ ছাত্রলীগকে এটার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে পরাজিত করার। ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আজকে কোথাও কোথাও, কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। এটা অশুভ প্রবণতা। এটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের জন্য চরম ব্যর্থতা। তিনি বলেন, যদি আভ্যন্তরীন কোনো গেঞ্জামের জন্য ক্যম্পাসের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়, এর জন্য আমাদের সাংগঠনিক ব্যবস্থা আছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা আছে, যেই ব্যক্তিদের জন্য এই সমস্যা সৃষ্টি হবে, তাকে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে, কিন্তু এই অজুহাতের জন্য একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালে জন্য বন্ধ করে দেওয়া, শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাজ নয়। আওয়ামী লীগ নেতা কাদের বলেন, আমি পরিষ্কার বলতে চাই, এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, কথায় কথায় ধর্মঘট। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট যেমন চলবে না, তেমনি অনির্দিষ্টকাল কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা চলবে না। এটা যারা করে এটা তাদের ব্যর্থতা। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রাও বের করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যন্টিন থেকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে ওবায়দাল কাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনে শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নির্বাচন যখন থাকবে, তখন যারা প্রার্থী হবে, তারা ভাববে আমি যদি খারাপ আচরণ করি তাহলে শিক্ষার্থীরা আমাকে ভোট দিবে না। কাজেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন দরকার। আজকে ২৫ বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে সকল ছাত্র সংসদ। খোলা থাকলে অন্তত ৫০ জন নেতা তৈরি হতো। বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, আজকে বিএনপির বুদ্ধিজীবীরা বলে, বিএনপি হাঁটু ভাঙ্গা দল। আমি বলব, ফেলে আসা বছরের সবচেয়ে ব্যর্থ দল হচ্ছে বিএনপি।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের পর আগামী নির্বাচনে বিএনপির জেতা অস্বাভাবিক। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে হারার পর বিএনপি দিশেহারা দলে পরিণত হয়ে গেছে। এখন তারা আবোল-তাবোল বকছে, উন্মাদের মতো হয়ে গেছে। বিবৃতি সর্বস্ব কর্মকান্ড করছে। তাই আমি আমার সহবর্মীদের বলি এদের সকল প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দরকার নেই। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের সঞ্চালনায় এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আব্দুস সোবহান গোলাপ, এনামুল হক শামীম, এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স প্রমুখ। উদ্বোধন শেষে র‌্যালিটি শাহবাগ, মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব হয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হবে। র‌্যালিতে ছাত্রলীগের ঢাবি, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন কলেজ, হোম ইকোনমিক্স, বদরুন্নেসা, ঢাকা কলেজ, কবি নজরুল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এর আগে  সকাল সাড়ে ৬টায় রাজধানীতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কেক কাটেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top