রাত ১০:১১, সোমবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / পোড়া ডিসিসি মার্কেটে তদন্ত কমিটি উচ্ছেদ আতঙ্কে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, কান্না ছাড়া কোন পথ নেই
* প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা * শুক্রবার খুলবে মার্কেট
পোড়া ডিসিসি মার্কেটে তদন্ত কমিটি উচ্ছেদ আতঙ্কে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, কান্না ছাড়া কোন পথ নেই
January 4th, 2017


রুদ্র রাসেল : মাত্র দুদিনের ব্যবধানে সাজানো-গোছানো গুলশানের ডিসিসি মার্কেট এখন ধ্বংস¯তূপ। তবে এখনও উদঘাটিত হয়নি অগ্নিকান্ডের কারণ। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা জানতে তাদের তদন্ত কমিটি  বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ফায়ারকর্মীরা পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণেও কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা।

এদিকে ‘একটি মহল’ তাদের মার্কেট দখল করে নিয়ে যাবে- এই আতঙ্ক তাড়া করছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, ‘কান্না ছাড়া তাদের আর কোন পথ খোলা নেই।’ তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যদিকে মার্কেটের দোকান মালিকদের নিজ নিজ দোকানের দখল ধরে রাখতে  মাইকিংও করেছে সংশ্লিষ্ট দোকান মালিক সমিতি। আগামী শুক্রবার মার্কেট খোলা হবে বলে জানিয়েছেন ডিসিসি পাকা মার্কেটের সভাপতি এস এম তালাল রেজবী।

দুপুরে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার বাতাসে পোড়া গন্ধ। মার্কেটের ভিতরে কিছু স্থান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ডাম্পিংয়ের কাজ করছিলেন ফায়ার কর্মীরা। এর আগে  সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও তাদের স্বজনরা ভিড় করেছিলেন মার্কেটের সামনে। পরে দোকান মালিকদের ভিতরে যেতে দেওয়া হয়। মার্কের ভিতরে অন্ধকার থাকায় তারা টর্চের আলোতে ভিতরে প্রবেশ করেন।  

অন্যদিকে দুপুরে মার্কেটের দোতলায় উঠতেই পুড়ে ছাই হওয়া একটি দোকান। এখানে কিসের দোকান ছিল তা বোঝার উপায় নেই। অগ্নিকান্ডের সাক্ষী হয়ে শুধু দাঁড়িয়ে আছে বিবর্ণ দেয়াল। ভিতরে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। জানা গেলো দোকানটির নাম কোলন অ্যান্ড কটন। এটিতে জামা-কাপড় বিক্রি হতো। সামনে যেতেই ঝলমলে আলোর বদলে এখানে এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। টর্চলাইট জ্বালিয়ে কিছু দেখতে হলেও খুব কাছাকাছি যেতে হয়। দোতলায় নিশ্বাস নিতে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ধোঁয়া জমে ছিল। সেখানে ঢোকার আগেই গণমাধ্যমকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন ফায়ার কর্মীরা। শ্বাস-প্রশ্বাস সচল থাকার মতো পদ্ধতিও বলে দিয়েছিলেন তারা। মার্কেটের মেঝেতে জমে আছে ছাই-পানি। ছড়িয়ে আছে বিদ্যুতের তার। আগুনে গলে গেছে দোকানের কাচের দরজা। মেঝের টাইলস ভেঙে চুরমার। কোলন অ্যান্ড কটন নামের দোকানের মালিক আখতারুজ্জামান জানান, স্যুট-প্যান্টের মতো পোশাকের চাহিদা বেশি থাকে শীতের সময়। এ জন্য প্রতিবছর শীত  মৌসুমে পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য আনা হয় দোকানটিতে। ডিসেম্বরে মাঝামাঝি ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার পোশাক, ঘড়ি, জুতা দোকানে তোলেন তিনি। পুরো দোকানে প্রায় তিন কোটি টাকার সামগ্রী ছিল জানিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘সব পুড়ে ছাই। চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

অন্যই এরই মধ্যে অনেক ব্যবসায়ী দোকান পরিষ্কার করা শুরু করেছেন। ডিসিসি পাকা মার্কেটের সভাপতি তালাল রেজবী বলেন, ‘আমরা শুক্রবার মার্কেট খুলে দিচ্ছি। এজন্য বুধ ও বৃহস্পতিবার পরিচ্ছন্নতার কাজ চলবে। এরই মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরও পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন।’
উল্লেখ্য, গুলশানের ডিসিসি মার্কেটে গত সোমবার রাত ২টার দিকে আগুন লাগে। প্রায় ১৬ ঘন্টা পর তা নিয়ন্ত্রণে আসে।  ডিসিসি কাঁচা ও পাকা মার্কেটে ৬ শতাধিক দোকান ছিল। আগুনে প্রায় আড়াইশ’ দোকান পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং বাকিগুলো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top