সকাল ৬:৪১, সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত / পায়ুপথ দিয়ে ১২ টি সোনার বার বের করে দিলেন যাত্রী
পায়ুপথ দিয়ে ১২ টি সোনার বার বের করে দিলেন যাত্রী
জানুয়ারি ৫, ২০১৭

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শরীফ আহমেদে নামে এক যাত্রীর তলপেটের ভিতরে আনা ১২টি স্বর্নের বার ধরা পড়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার দিনগত মধ্যরাতে তাকে আটক করা হয়। শুল্ক কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটকের পর এক্সরে করলে পেটের ভিতর তিনটি পোটলার অস্বিত্ব মিললেও অস্বীকার করেন তিনি। পেটে অস্ত্রোপচার করতে অপারেশন থিয়েটারে নিলে স্বর্ণের কথা স্বীকার করেন তিনি। ওই যাত্রী পায়ুপথ দিয়ে বিশেষ কায়দায় কনডমের ভিতরে থাকা স্বর্ণগুলো বের করে দেন।

শুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান জানান, মালিন্দ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে (ওডি ১৬২) রাত সোয়া ১২টায় শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন শরীফ আহমেদ। গোপন খবর পেয়ে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া শুল্ক গোয়েন্দারা তাকে নজরদারিতে রাখেন। কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করে চলে যাওয়ার সময় তাকে চ্যালেঞ্জ করেন গোয়েন্দারা। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদেও স্বর্ণ থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি। পরে শুল্ক গোয়েন্দাদের একটি দল রাত ৩ টায় উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যান তাকে। তার পেট এক্সরে করলে ৩টি অস্বাভাবিক  পোটলার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এক্সরে রিপোর্ট দেখালেও সে সোনা থাকার কথা অস্বীকার করছিলেন। আত্মীয়-স্বজন বড় সরকারি কর্মকর্তা বলে তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হুমকি দিতে থাকেন। এরপর শুল্ক গোয়েন্দাদের উদ্যোগে কর্তব্যরত ডাক্তার তলপেট কেটে স্বর্ণ  বের করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিলে ওই যাত্রী স্বর্ণ থাকার কথা স্বীকার করে এবং অস্ত্রোপচার ছাড়াই স্বর্ণ বের করে দেওয়ার কথা জানায়। এরপর চলে স্বর্ণ বের করার পালা। যাত্রীকে শাহজালালের কাস্টমস হলে নিয়ে এসে পানি খাওয়ানো হয়। পরে টয়লেটে নিয়ে তলপেটে চাপ দেওয়া হয় দীর্ঘক্ষণ। এতেও কাজ না হলে তাকেই বলা হয় স্বর্ণ বের করে দিতে।

তাকে লুঙ্গি পড়ানো হয়। এরপর গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতে টয়লেটের ভিতরে বিশেষ কায়দায় পায়ুপথ দিয়ে একে একে ৩টি কনডম বের করে আনেন ৩৩ বছর বয়সী যাত্রী শরীফ আহমেদ। বের করা ৩টি কনডমের ভিতরে ৪টি করে মোট ১২টি স্বর্ণবার পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, যাত্রী চারটি গোল্ডবার স্কচ টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে একটি কনডমে রেখে তা আবার স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রেক্টামে (পায়ুপথ) প্রবেশ করান। এ রকম ৩টি কনডম প্রবেশ করান তিনি। ফ্লাইট অবতরণ করার ৩০ মিনিট আগে বিমানের বাথরুমে গিয়ে কনডমগুলো পায়ুপথে পুশ করেন তিনি। এজন্য মালয়েশিয়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন তিনি। শুল্ক গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়াতে এই অভিনব পদ্ধতিতে সোনা পাচার করছিলেন বলে তিনি জানান। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও টাকার জন্য এই পন্থা অবলম্বন করার কথাও স্বীকার করেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যাত্রী গোয়েন্দাদের জানান, স্থানীয় বাজারের মুদি ব্যবসায়ী তিনি। গত ৩ জানুয়ারি ব্যবসার কাজে মালয়েশিয়া যান। ২০১৬ সালে তিনি ১০ বার বিদেশ ভ্রমণ করেন। এর আগে গত ১৭ অক্টোবর এক যাত্রীর তলপেট থেকে ৮টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top