রাত ৮:০৭, বৃহস্পতিবার, ২২শে জুন, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / পাসের হার বাড়িয়ে শিক্ষার মানের অবনতি ঘটানো হয়েছে : খালেদা জিয়া
পাসের হার বাড়িয়ে শিক্ষার মানের অবনতি ঘটানো হয়েছে : খালেদা জিয়া
মে ১৩, ২০১৭

বর্তমান সরকার শিক্ষার মৌলিক লক্ষ্যকে পদদলিত করেছে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, আত্মতুষ্টির কারণে পাসের হার বাড়িয়ে শিক্ষার মানের ক্রমাবনতি ঘটানো হয়েছে। তার শঙ্কা, এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে আগামী দিনে আমাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে এবং আমরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ব।  শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে বিএনপি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেগম জিয়া।

শিক্ষার প্রসারে তার দলের অবস্থান তুলে ধরে ‘ভিশন-২০৩০’ পরিকল্পনায় শিক্ষাখাতে জিডিপি’র শতকরা ৫ ভাগ ব্যয় করে দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ ও অন্যান্য শিক্ষা সমস্যা থেকে উত্তরণের কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, আমরা এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলব যাতে শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের হাতিয়ার হবে না, হবে জীবনে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার হাতিয়ার। সর্বোপরি শিক্ষা অর্জনের সুযোগ লাভের ক্ষেত্রে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জেন্ডার ও অর্থৈনৈতিক বাধাসমূহ দূর করা হবে।

মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক কাঠামো যেভাবে বদলে যাচ্ছে তা মোকাবেলায় মূল কৌশল হবে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করা এবং আকর্ষণীয় চাকরির বাজার সৃষ্টি করা। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রয়োজনীয় সেতুবন্ধন রচনা করা। অগ্রসর জ্ঞান, প্রযুক্তি, তথ্য প্রযুক্তি ও শিক্ষার মাধ্যমে মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক জ্ঞান, প্রায়োগিক ও তাত্ত্বিক গবেষণাসহ সব ধরণের জ্ঞান চর্চার মধ্যে ভারসাম্য অর্জন করতে পারলে পরিবর্তন সাধন করা সম্ভব।

শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষকে গণতন্ত্র, ভিন্নমত ও ভিন্নমত প্রকাশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার শিক্ষার এই মৌলিক লক্ষ্যকে পদদলিত করেছে। বিরোধী মতের লোকজনকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করছে। মোদ্দাকথা, শিক্ষার সকল উদ্দেশ্য আজ ভূলুন্ঠিত। সুশাসন, আইনের শাসন আজ নেই বললেই চলে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ক্ষমতাসীন সরকার সকল বিরোধী মতকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য জীবনভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার মতো শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। বর্তমানে একাধিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রত্যেকটি ব্যবস্থার লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন। বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হলে প্রচলিত সব ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে অনেক কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। জন ইচ্ছার প্রতিফলনে আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি শিক্ষা ব্যবস্থাকে জনকল্যাণমুখী করবে। শুধুমাত্র ডিগ্রী প্রাপ্তির মোহ থেকে দেশের তরুণদের মুক্ত করতে হবে। সামর্থ্য, মেধা ও কর্মসংস্থানের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ও শিক্ষকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের নিশ্চিত ব্যবস্থা আমরা করতে চাই। পেশাগত ও কারিগরি শিক্ষা, প্রকৌশল বিদ্যা, চিকিৎসা বিদ্যা, বিজ্ঞান শিক্ষা ও বিজ্ঞানের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা, শত শত ধরণের ট্রেড ও পেশার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি মানবসম্পদকে বিকশিত করতে পারে। এই ব্যাপারে ‘ভিশন-২০৩০’ চিন্তা-ভাবনাও তুলে ধরেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সমাপনী অধিবেশনে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ শিক্ষা দর্শন বিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ করেন। এর আগে সকাল থেকে চার পর্বের এই সেমিনারে বিভিন্ন শিরোনামে শিক্ষার ওপর আলোচনা সভা হয়, যাতে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে সকালে এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ। প্রথম অধিবেশনে সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহের সভাপতিত্বে ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবির সহযোগী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম ও শাহ শামীম আহমেদ। দ্বিতীয় অধিবেশনে ঢাবির অধ্যাপক সদরুল আমিনের সভাপতিত্বে ‘শিক্ষার বিভিন্ন ধারা’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে তৃতীয় অধিবেশনে ‘উচ্চ ও প্রাগ্রসর শিক্ষা’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবির সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ইউসুফ হায়দার। চতুর্থ অধিবেশনে ঢাবির অধ্যাপক আজমেরী এসএ ইসলামের সভাপতিত্বে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা’-শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল। সমাপনী অধিবেশনে ঢাবির নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আখতার হোসেন খান দিনব্যাপী সেমিনারের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্যে নুরুল আমিন, খলিলুর রহমান, লুৎফর রহমান খান, সুকোমল বড়–য়া, আবদুল লতিফ মাসুম, এম এনামুল্লাহ (পারভেজ), মাহমুদুল হাসান, খসরুল আলম, নজরুল ইসলাম, নাজমুস সালাত, মামুন আহমেদ, এমতাজ হোসেন, মোরশেদ হাসান খানসহ ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনাসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকরা অংশ নেন। এছাড়া বিএনপির খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ এবং ২০ দলীয় জোটের আন্দালিব রহমান পার্থ, ফজলে রাব্বী চৌধুরী, শফিউল আলম প্রধান, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, রেদোয়ান আহমেদ, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, গোলাম মোস্তফা আকন্দ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top