রাত ৯:৩৯, রবিবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ Top News / পাবনার সেই সাত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর কৃতিত্বপূর্র্ণ সাফল্য
পাবনার সেই সাত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর কৃতিত্বপূর্র্ণ সাফল্য
মে ১৯, ২০১৭

পাবনা প্রতিনিধি : এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জন করেছে পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টের তত্ত্বাবধায়নে থাকা সাত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। শ্রুতি লেখকের সহায়তায় অন্য সব শিক্ষার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ সফলতা অর্জন করে তারা।পাবনা সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুল এবং রাধানগর মজুমদার একাডেমি স্কুলকেন্দ্র থেকে তারা পরীক্ষা দেয়। এ সাত শিক্ষার্থীর সফলতাকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সহায়তা করতে সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন পাবনার বিশিষ্টজনরা।


পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জনকারী সাত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হলো- আনোয়ারুল ইসলাম (জিপিএ ৪.৬৮), আব্দুল মতিন তুষার (৪.৪১), আব্দুর ছবুর (৪.৬৮), নাদিম হোসেন (৪.৬৪), হারুনুর রশিদ ফারুক (৩.৯৬), কাওছার হোসেন (৪.৪৫) এবং শিবলী নোমান মুরাদ (৪.৩০)।এসব শিক্ষার্থীকে পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে রেখে বিনাখরচে তাদের পড়ালেখা করার সুযোগ দেয়া হয়। তাদের বাড়ি বিভিন্ন জেলায়। শিক্ষার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শ্রুতি লেখকের সহায়তায় একই প্রশ্নে তাদের পরীক্ষা দিতে হয়।

 অনেক সময় আমরা সঠিক বলে দিলেও শ্রুতি লেখক লেখতে ভুল করে বসে। এতে মার্ক কমে যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে দেশের সব অন্ধদের সাহায্য করাই তার মূল লক্ষ্য। পাবনা মানব কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবুল হোসেন বলেন, অন্ধদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সুযোগ নেই। এখন পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন শ্রুতি লেখকের। দরিদ্র এ অন্ধদের শ্রুতি লেখকদের সম্মানি তো দূরের কথা, লেখাপড়া করার ন্যূনতম আর্থিক ব্যয় নির্বাহ করারও সক্ষমতা নেই। তারপরও থেমে থাকেনি এসব সংগ্রামী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর শিক্ষা জীবন।


তিনি বলেন, এই সাতজন পরীক্ষার্থীর মতো আরো প্রায় ৫২ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টে লেখাপড়া করছে। এখানে নবম শ্রেণিতে ছয়জন, দশম শ্রেণিতে সাতজন, একাদ্বশ শ্রেণিতে পাঁচজন, এমএ’তে ২ জন পড়ালেখা করে যাচ্ছে।পাবনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর কামরুজ্জামান বলেন, অন্ধ শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জে আমাদের সহায়তা করা উচিত। তাদের এই ফল প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। মানবকল্যাণ ট্রাস্টকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হলে সারাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষালয় হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করেন। পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অন্ধ শিক্ষার্থীদের ফলাফল আশাব্যঞ্জক। সরকার এদের সম্ভাব্য সহায়তা করবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top