রাত ৯:৫৭, বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুন, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / পাটের সুদিন ফিরছে
পাটের সুদিন ফিরছে
মার্চ ৭, ২০১৭

তৈরি পোশাকের রফতানি আয়ের একটা বড় অংশ চলে যায় এর প্রধান কাঁচামাল সুতা এবং কাপড় আমদানিতে। সে দিন হয়তো খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন সুতা এবং কাপড়ের একটা বড় জোগান মিলবে দেশীয় পাট থেকে। গবেষণার মাধ্যমে পাটের আঁশ থেকে মিহি এবং উন্নতমানের সুতা উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলছে। তৈরি পোশাকের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, পাট থেকে উন্নত সুতা পাওয়া গেলে তা হবে দেশের রফতানি বাণিজ্যের মত বড় সুখবর। তুলানির্ভর আমদানির পরিবর্তে পাটের সুতা ব্যবহার করা গেলে সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যয়ের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

 স্বাধীনতার পর পাট ছিল প্রধান অর্থকরি ফসল। নানা কারণে সোনালি আঁশের গৌরব হারিয়ে যাচ্ছিল। হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পাটের বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবহার বাড়ছে। পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের আবিষ্কার করা পাটের চা এখন রফতানি হচ্ছে। পাটকাঠি পুড়িয়ে উৎপাদিত ছাই দিয়ে তৈরি হচ্ছে কার্বন বা চারকোল। সব ধরনের কালি উৎপাদন এবং প্রসাধনী তৈরিসহ অন্যান্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে চীনসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে এই চারকোল।

পাট গাছের মূল দিয়ে তৈরি হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। অত্যাধুনিক জেট বিমান থেকে সাধারণ খেলনাসহ প্রায় সব পণ্যেই এখন কোন কোনভাবে পাটের ব্যবহার হচ্ছে। অন্তত এক হাজার বহুমুখী পণ্য তৈরি হচ্ছে পাট দিয়ে। প্রচলিত ব্যবহারের পাশাপাশি বহুমুখী ব্যবহারের ফলে পুনরুদ্ধার হচ্ছে রফতানি বাজার। আবাদ, উৎপাদন ও দর বেড়েছে পাটের। গত মওসুমে মণপ্রতি সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে কাঁচাপাট, পাটের সম্প্রসারণে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে পণ্যের বৈচিত্র্যহীনতা, বিপণন কৌশল দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিংয়ে ঘাটতি পূরণ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top