দুপুর ১২:৫৯, শুক্রবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / পবিত্র লাইলাতুল ক্কদরের তাৎপর্য
পবিত্র লাইলাতুল ক্কদরের তাৎপর্য
জুন ১৯, ২০১৭

মোঃ আব্দুস সাত্তার খন্দকার: আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে ২৭ পারা সুরা জারিয়াত আয়াত নং-৫৬, আল্লাহ এরশাদ করেছেন- ‘‘আমি মানুষ ও জীন জাতিকে সৃষ্টি করেছি আমার এবাদত করার জন্য।” ইবাদতের শব্দগত অর্থ- দাসত্ব বা বাধ্যানুগত। ইবাদতের মর্ম কথা হলো- মানুষ দুনিয়াতে এসে এবং জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার পর জীবনের চলার পথে যেমন- শিক্ষা, চাকুরী, কৃষি ও ব্যবসাসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে জীবন যাপন করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্ তায়ালা মানুষের পূর্ণ জীবন ব্যবস্থা দিয়েছেন- যেমন- পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা এবং ব্যবসা বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে আল্লাহ মানুষের জীবন জীবিকার পূর্ণ ও পরিষ্কার দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। যা আমাদের অবশ্যই পালন করা কর্তব্য।


‘‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ্’র নিকট একমাত্র মনোনিত ধর্ম ইসলাম’’, ‘‘পবিত্র কোরআনে পারা-৩, সুরা- আল এমরান, আয়াত-১৯’’। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ যেমন- কালেমা, নামাজ, রোযা, হজ¦ ও যাকাত এইগুলি যথাযথভাবে পালন করতঃ দান-খয়রাত ও মানবসেবা ইত্যাদি ভাল কাজগুলি সুষ্ঠুভাবে পালন করা অর্থাৎ আল্লাহ্র  আদেশ এবং রসুল (সা.) এর নির্দেশিত পথে সকলকে সর্বদায় চলতে হবে।

আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে রুজীর অনুসন্ধান করতে হবে।  পবিত্র কোরআনের ‘‘পারা-২৮, সুরা-জুমু’আ আয়াত-১০’’, আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘‘অনন্তর নামাজ শেষ হওয়ার পরই তোমরা জমিনের উপর (যার যার কর্মক্ষেত্র) ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর নির্দেশিত পথে রুজির সন্ধান কর আর আল্লাহকে অধিক পরিমাণ স্মরণ করিতে থাক, যেন তোমরা সফলতা লাভ কর।


আল্লাহর আদেশ এবং রসুল (স.) নির্দেশ অনুযায়ী জীবনের সকল কর্ম পরিচালনা করাই ইসলামের বিধান এবং তাহাই আল্লাহর ইবাদত।এরশাদ হচ্ছে ‘‘তোমাদের উপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল। আশা যদি তোমরা মুত্ত্বাকী হইবে’’। ‘‘পবিত্র কোরআন পারা-২, সুরা বাকারা আয়াত-১৮৩’’। রমজান মাসে একটি সওয়াবের কাজ করিলে অন্য মাসের চেয়ে ৭০০গুণ পর্যন্ত সওয়াব বৃদ্ধি হতে পারে। রমজান মাসে জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।


 আর রমজান মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (আল হাদিস) অন্য সকল কাজের সাওয়াব ফেরেস্তাদের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট পৌঁছে, আর রোযার সওয়াব আল্লাহ নিজে বান্দাদের প্রদান করবেন। (আল হাদিস) ইবাদত মানে জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ নিষেধ অনুসারে ও রসুল (স.) এর নির্দেশিত পথে দুনিয়ার সকল কাজ সম্পাদন করা।

আমরা দুনিয়াতে এসে জীবন চলার পথে আল্লাহর আদেশ ভুলে গিয়া গুনাহর কাজের লিপ্ত হতে থাকি। তাই দয়াময় গফুরুর রহিম আল্লাহ  তায়ালা বৎসরে বিভিন্ন মাস দিন, রাত ও সময় বান্দার গুনাহ বেশি বেশি মাফ করার জন্য নির্ধারণ করেছেন যেমন- রমজান মাস ও লাইলাতুল ক্বদর, বা সম্মানের রাত্রি উল্লেখযোগ্য। মহা পবিত্র মাহে রমজান মাস গুনাহ মাফের একটি সর্বশ্রেষ্ঠ মাস এবং পবিত্র রজনী লাইলাতুল ক্বদর বা সম্মানের রাত্রি। ইবাদতের অর্থই- জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ নির্দেশ মেনে সকল কার্য্য সম্পাদন করা।


 কিন্তু মানুষ দুনিয়াতে এসে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে অপরাধ বা গুনাহ করে থাকে। তাই আল্লাহ গফুরুর রহিম মানুষের সব গুনাহ মাফের জন্য বান্দাদের বিশেষ সুযোগ দান করেছেন: যেমন- লাইলাতুল ক্বদর উল্লেখযোগ্য।  লাইলাতুল ক্বদরের অর্থ- সম্মানের রাত্রি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র ‘‘কোরআনের ৩০ পারা সূরা ক্বদর প্রথম আয়াতে বলেছেন- ‘‘নিশ্চয় আমি ক্বদরের রাত্রি কোরআন নাযিল করিয়াছি”। ২নং আয়াতে বলেছেন- ‘‘আপনি জানেন কি! ক্বদরের রাত্রি কি”? ৩নং আয়াতে বলেছেন- ‘‘লাইতুল ক্বদর হাজার মাসের (৮৩ বছর ৪ মাস) এবাদতের চেয়েও উত্তম”। আমাদের সমাজের মানুষের গড় আয়ু ৬০-৭০ বসর। যে মানুষ জীবনে একবার লাইতুল ক্বদরের সন্ধান পাইল তবে সে কত সৌভাগ্যবান। সেটা চিন্তা করে শেষ করা যায় না।


হাদিসে এসেছে- রসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন- ‘‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইতুল ক্বদরের সন্ধান কর”। রসুলুল্লাহ (সঃ) আরও বলেছেন- ‘‘যে ব্যক্তি লাইতুল ক্বদরের সন্ধান করলো না এবং সেই রাত্রি জেগে ইবাদত করলো না সে ব্যক্তি খুবই হতভাগা”। (ইবনে মাজা-১৩১৭)রসুলুল্লাহ (স.) অন্য হাদিসে বলেছেন- ‘‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদরের রাত্রি জেগে ইবাদত করলো আল্লাহ তায়ালা তার সারা জীবনের গুনাহ মাফ করে দিবেন’’, সোবহানাল্লাহ। (বোখারী-২০৫৩) আসুন আমরা লাইলাতুল ক্বদরের রাত্রি সন্ধান করি এবং সেই মহিমান্বিত পবিত্র রাত্রিতে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত বন্দেগী করে নিজের পরিবারসহ সকলের জন্য দোওয়া করি, আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করুন- আমিন।
লেখক ঃ সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জড়া বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান
বগুড়া জেলা শাখা।
০১৭১২-৬৮৩৬৩৬



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top