রাত ২:৫০, শনিবার, ২১শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / পদ্মা সেতুতে ব্যর্থ হয়ে রামপাল নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে: ড. হাছান
পদ্মা সেতুতে ব্যর্থ হয়ে রামপাল নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে: ড. হাছান
এপ্রিল ২০, ২০১৭

 পদ্মা সেতুতে ষড়যন্ত্রে সফল না হয়ে এখন রামপাল নিয়ে ষড়যন্ত্র করার পথ বেছে নেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ হাছান মাহমুদ। গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

হাছান মাহমুদ বলেন, কাল যিনি সংবাদ সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি এবং তাঁর সংগঠনসহ টিআইবি এবং জাতীয় তেল-গ্যাস-বন্দর রক্ষা কমিটির অনেকেই পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উঠে পরে লেগেছিলেন। কিন্তু মামলায় বিশ্বব্যাংক হেরে যায়। এ মামলার রায়ের পরে আমরা তাদেরকে জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। রামপাল ইস্যুতে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, তখন একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ ও সচিব গ্রেপ্তার হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের বক্তব্যই প্রমাণিত হয়েছে। রামপাল ইস্যুতে এখন যারা জাতি বিভ্রান্ত করে ষড়যন্ত্র করছেন তাদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে। এবারও সরকারের বক্তব্যই সত্য বলে প্রমাণিত হবে। হাছান মাহমুদ বলেন, রামপাল নিয়ে তাদের অভিযোগ অনুমান নির্ভর, আবেগ এবং জ্যোতিষ বিদ্যা নির্ভর। বিজ্ঞান নির্ভর নয়। যারা অভিযোগ করছেন, তাদের শীর্ষ ব্যক্তিদের অভিযোগ অনুমান কিংবা আবেগ নির্ভর নয়, ষড়যন্ত্র নির্ভর। যারা আবেগের কারণে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। তাদের আমরা সন্মান জানাই। তাদেরকে বিজ্ঞান নির্ভর কোন যুক্তি উপস্থাপনের আহ্বান জানাই। রামপাল নিয়ে সরকার দেশে-বিদেশে অসত্য তথ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়ে কোনো তথ্য দিচ্ছে না- এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন না। সুলতানা কামালের প্রতি সন্মান রেখে আমি বলছি, তিনিসহ যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তারাই জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। এক্সিম ব্যাংক ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে অর্থায়ন করছে। তাই এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। তিনি বলেন, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশাপাশের এলাকার পরিবেশ রক্ষায় প্রথমে সুপার ক্রিটিকাল পদ্ধতি ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু সরকার অধিকতর নিরাপত্তার জন্য আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এ জন্য যন্ত্রপাতি আমদানি করছে সরকার। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্সরিত ছাই কিনতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানা এখনই যোগাযোগ করছে বলেও জানান হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, বড় পুকরিয়া কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সেখানখার ক্ষেতখামারের উৎপাদন না কমে, কোন কোন জায়গায় তা বৃদ্ধি পেয়েছে। সনাতন পদ্ধতির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে যেখানে পরিবেশের কোন ক্ষতি হয়নি। সেখানে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতির কারণে ওইসব এলাকার কোন ক্ষতি হবে না। আওয়ামী লীগ নেতা হাছান বলেন, গতকালকের সংবাদ সম্মেলনে যেসব আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত উপস্থাপন করেছেন, তাদের কয়েকজনকে আমি চিনি। পৃথিবীতে টাকা দিলে অনেক ভাড়াটে বিশেষজ্ঞ পাওয়া যায় । রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরানোর সরকারের কোন পরিকল্পনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সরকার প্রধান বলেছেন সকল প্রকার সুরক্ষা নিয়েই আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেতেছি। তাই এ প্রকল্প অন্যত্র সরানোর কোন সম্ভাবনাই নেই। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলী, আবদুস সোবহান গোলাপ, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আব্দুস সবুর, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার‌্যনির্বাহী সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু, রিয়াজুল কবির কাওছার, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top