সকাল ১০:১১, রবিবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / পঞ্চগড়-ঢাকা রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তলিয়ে গেছে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়ক
আত্রাই নদীর বাঁধে ভাঙন : বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত
পঞ্চগড়-ঢাকা রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তলিয়ে গেছে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়ক
আগস্ট ১২, ২০১৭

করতোয়া রিপোর্ট : কয়েকদিনের অতি বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে পঞ্চগড় পৌর এলাকাসহ পাঁচ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। করতোয়া, তালমা, মহানন্দা, ছোট যমুনা, ডাহুক, ভেরসাসহ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীর দু’পাড়ের শতাধিক গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে।

দিনাজপুরে দু’দিনের টানা বর্ষণ এবং উজানের নেমে আসা ঢলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে জেলার কয়েক হাজার মানুষ। দিনাজপুর সদর উপজেলায় ভেঙে গেছে আত্রাই নদীর বাঁধ। জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জে তলিয়ে গেছে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়ক। বালুয়াডাঙ্গা স্লুইজগেট প্রবল পানির তোড়ে উপড়ে গেছে।

লালমনিরহাটে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি হয়েছে। সকাল থেকে দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সে.মি ও কুলাঘাট পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৩২ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত তিন লাখ মানুষ।
শনিবার সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৬৫ সে.মি. তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। যা স্বাভাবিকের (৫২দশমিক ৪০) চেয়ে ২৫ সে.মি. উপরে। এ অবস্থায় ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট খুলে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এছাড়া রংপুর, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদিবধ অব্যাহত রয়েছে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জনান, আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ায় পৌর এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে বিভিন্ন স্কুল কলেজে আশ্রয় নিয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে  শনিবার বিকেল পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খুব কম সংখ্যক শুকনা খাবার বিতরণ করা হলেও খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় শিশু নারীসহ বন্যা দুর্গতরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আকষ্মিক বন্যায় ভেসে গেছে অনেক পুকুরের মাছ। এদিকে প্রবল বর্ষণের ফলে নয়নীবুরুজ রেল স্টেশন এলাকায় রেল লাইনের মাটি ও পাথর ভেসে যাওয়ায় পঞ্চগড়-ঢাকা রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বর্ষণ  শনিবার বিকেলে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আকস্মিক অতি বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাািন নিষ্কাশনের সুযোগ কম থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পানি আটকে আছে। এই পানি গিয়ে উঠছে বসত বাড়িতে। একই সময়ে পঞ্চগড়ের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবিরাম বর্ষণ হওয়ায় সেই পানি নদী দিয়ে পঞ্চগড়ে প্রবেশ করায় সকল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলায়।

করতোয়া ও মহানন্দা নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, আমন ক্ষেত, রাস্তাঘাট। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পানি উঠেছে। অধিকাংশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। প্লাবিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাময়িক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে জেলার তেতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ভেরসা নদীর ওপর নির্মিত ভেরসা প্রকল্পের একটি গেট ভেঙ্গে গেছে। গেটগুলো না খোলায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সদর উপজেলার আন্তসড়ক কহুরুহাট থেকে রতনিবাড়ি পর্যন্ত সড়কে কোমর পানি হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তালমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দক্ষিণ তালমা এলাকার একটি টাইলস ফ্যাক্টরীর মালামাল ভেসে গেছে। হিমালয় বিনোদন পার্কে এখন কোমর পানি।  পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পঞ্চগড় ২৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। করতোয়া বিগদ সীমার খুব কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরে দু’দিনের টানা বর্ষন এবং উজানের নেমে আসা ঢলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে জেলার কয়েক হাজার মানুষ। দিনাজপুর সদর উপজেলায় ভেঙ্গে গেছে আত্রাই নদীর বাঁধ। জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জে তলিয়ে গেছে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়ক। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে টানা এই বর্ষণ শুরু হয়। এতে ফসলী জমিসহ নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বেড়েছে নদ-নদীর পানি। অনেক স্থানেই সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এরমধ্যে জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ এলাকায় দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার ফলে যানচলাচলে বিঘœ ঘটছে। দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন এলাকায় আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় আশপাশের গ্রামগুলো পাবিত হয়েছে।

দিনাজপুর সদর, বিরল, খানসামা, বীরগঞ্জ, পার্বতীপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বীরগঞ্জে তিস্তা নদীর বাঁধ এলাকা থেকে বেশ কিছু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। প্রবল বর্ষনে তলিয়ে গেছে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ক্ষেত। দিনাজপুরে গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ২১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ তোফাজ্জুর রহমান। এদিকে পানি উন্নয়ন র্বোড জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় ১৮৭.৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি তাৎক্ষণিক ভাবে বন্যার্তদের নিরাপদ স্থানে নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন এবং বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

লালমনিরহাট অফিস জানায়, লালমনিরহাটে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। সকাল থেকে দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সে.মি ও কুলাঘাট পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৩২ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত তিন লাখ মানুষ।  শনিবার সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৬৫ সে.মি. তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। যা স্বাভাবিকের (৫২দশমিক ৪০) চেয়ে ২৫ সে.মি. উপরে। এ অবস্থায় ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট খুলে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ী ঢলে জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, আদিতমারী ও সদর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের ৩৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত তিন লাখ মানুষ। তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ী, রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মসজিদ মাদরাসাসহ অসংখ্য স্থাপনা। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে পানির মাত্রা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। আগামী বুধবার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে পানি নিয়ন্ত্রনে ডালিয়া ব্যারাজের সবক’টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে।  পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জানান, বৃষ্টি অব্যহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনবাসন কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার সুজা উদ দৌলা জানান বন্যা কবলিত উপজেলা গুলোতে আগাম ত্রাণ মজুদ রয়েছে। সেখান থেকে বিতরণ কাজ শুরু হয়েছে। এরপরও জেলায় মজুদ রয়েছে ২০২ মে. টন জিআর চাল ও সাড়ে ৪ লাখ টাকা। প্রয়োজন হলে আরও বরাদ্ধ চাওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক বন্যার্তদের খোজ খবর নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় কোন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৪১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়ে পড়েছে নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর ও উলিপুর উপজেলার নি¤œাঞ্চলের প্রায় ৫০ ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এসব এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।  সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কুমরপুর এলাকায় কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়ক তলিয়ে যাওয়া যেকোন মুহূর্তে জেলা শহরের সাথে নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মানুষজন ঘর-বাড়ি ছেড়ে বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাকা সড়কে আশ্রয় নিচ্ছে।

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, তিন দিনের টানা প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে রাস্তাঘাট, তলিয়ে গেছে আমন ধান ও মাছের খামার।

তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে যে কোন সময় অতিক্রম করতে পারে। সরেজমিন বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার চর চতুরা, চর নাজিরদহ, পল্লীমারী, চর গদাই, পাঞ্জরভাঙ্গা, গুপিডাঙ্গা, আরাজি হরিশ্বর, প্রাননাথচর, চর ঢুসমারা, হয়বত খাঁ, চর গনাই, টাপুর চর, বিশ্বনাথ চর, আজম খাঁ, হরিচরন শর্মা, রাজিব অংশ ৪, নিজপাড়া, তালুকশাহবাজ গ্রামে তিস্তা নদীর পানি ঢুকে বন্যাকবলিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সেই সাথে বিভিন্ন ইউনিয়নের রাস্তা ঘাট ভেঙে গেছে, তলিয়ে গেছে আমন ধান, বীজতলা, সবজি ক্ষেত, নার্সারি বাগান, মাছের খামার ও পুকুর। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব সেই সাথে গোখাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত সরকারি কোন ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়নি।

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) জানান,  দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গত ৩ দিনে দফায় দফায় ভারী বর্ষণে প্লাবিত হয়ে গেছে এলাকার নি¤œাঞ্চল। এতে উপছে গেছে শতাধিক পুকুর এবং তলিয়ে গেছে রোপা আমন ধানের ক্ষেত ।
এবার বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে একটানা বর্ষণসহ মাঝে মাঝে ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ আশপাশের নি¤œ অঞ্চলগুলো এখন প্লাবিত হয়ে আছে। এলাকার বেশির ভাগ পুকুরগুলোর পাড় উপছে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে পুকুরের মাছ সব বের হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাঠের পুকুরগুলোর সবগুলোরই পাড় উপছে গেছে। তলিয়ে গেছে নি¤œাঞ্চলের আমন ধান ক্ষেত। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন ধান চাষিরা।
 
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, ভূরুঙ্গামারীতে বন্যায় ১০টি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের প্রায় ৭০ হাজার লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলার শিলখুড়ি সীমান্তে ভারতের তুফানগঞ্জে কালজানি নদীর উপর নোটাফেলা বাঁধ খুলে দেয়ায় ঐ ইউনিয়নের কাজিয়ার চর উত্তর ধলডাঙ্গা, দক্ষিণ তিলাই গ্রাম তলিয়ে গেছে। বলদিয়া ইউনিয়নে দুধকুমর নদের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।

শেরপুর জেলা প্রতিনিধি জানান,  টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি নদী ভোগাইয়ের অন্তত ১৩টি স্থানে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর তীর গড়িয়ে প্লাবিত হচ্ছে চেল্লাখালী নদীর পানিও। এতে পৌরসভাসহ এ উপজেলার অন্তত অর্ধশত গ্রাম আকস্মিক বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। শনিবার ভোর থেকে দেখা গেছে, পাহাড়ি নদী চেল্লাখালীর তীর উপচে বিপদ সীমার উপর দিয়ে ঢলের পানি আশপাশের গ্রামে প্রবেশ করছে। এতে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে এবং পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বানের পানিতে। ওইসব এলাকা এখন বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম)  প্রতিনিধি জানান, নাগেশ্বরীতে গত এক মাসের ব্যবধানে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। ভেঙ্গে গেছে বাঁধ। কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী সড়কের দুই জায়গা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বন্যার পানি। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। তলিয়ে গেছে ৮ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেত। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে আরো বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, তিনদিনের টানা প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন  বোর্ড ও রেলওয়ে মেরিন বিভাগ সূত্রে জানা যায়,  শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় ৭০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এতে তলিয়ে গেছে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি ও সবজি ক্ষেত। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। এদিকে বন্যা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী কয়েক হাজার মানুষ।
 
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, গত তিন দিনের টানা বর্ষণে বগুড়ার আদমদীঘি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে রোপা আমন, উঠতি আউশ ধান ও রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
গত তিন দিন যাবৎ টানা ভারী ও মাঝারি বর্ষণে আদমদীঘি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত রামশালা খাল, রক্তদহ বিল খাল, ইরামতি খালসহ কয়েকটি খালে জলাবদ্ধতার কারণে খাড়িগুলোর দুই পার্শ্বের শতশত হেক্টর জমির রোপা আমন ধান, উঠতি আউশ ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া রেললাইনের দক্ষিণ এলাকার দক্ষিণ গনিপুর, করজবাড়ি, কদমা, কাশিমালা, রামপুরা, মন্ডবপুর. হলুদঘর, বরবড়িয়াসহ নি¤œাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান,  টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে জমিসহ এলাকার রাস্তাঘাট। শুক্রবার দুপুর থেকে অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়তে থাকে। ঢাকা-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কের উপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জালাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খাল দিয়ে আসা পানি সামনের দিকে সরতে পারছে না। যে
রংপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, তিন দিনের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তায় পানি বিপদসীমার ৩৫ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে রংপুরের কাউনিয়া, গঙ্গাচড়ায় ও পীরগাছ রংপুরের উপজেলায় ৬০ গ্রামের ৩৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে রাস্তাঘাট, তলিয়ে গেছে আমন ধান ও মাছের খামার।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল আসলাম জানান, তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করলেও তিস্ত রেল ও সড়ক সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ১ সে. মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top