ভোর ৫:৪০, সোমবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / নৌকা মার্কায় ভোট চাইলেন শেখ হাসিনা
লক্ষ্মীপুরে বিশাল জনসভা
নৌকা মার্কায় ভোট চাইলেন শেখ হাসিনা
মার্চ ১৪, ২০১৭

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের মত আগামী সব নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের উপর ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। আওয়ামী লীগের কাছে কখনও চাইতে হয়না, এ ভরসাটা রাখবেন। আগামীতে যত নির্বাচন আসবে প্রত্যেক নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ করে দেবেন।  মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত আওয়ামী লীগের এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নৌকায় ভোট চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা, নূহ নবীর কিস্তি। বিপদে নৌকা মানুষকে রক্ষা করে। জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করেছে বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই দেশের উন্নয়ন করতে  পেরেছি। উন্নয়নের অঙ্গীকার করে লক্ষ্মীপুরবাসীর কাছে দোয়া, ভালবাসা ও নৌকায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকায় ভোট দেবেন তো?’ এ সময় উপস্থিত সবাই হাত উঁচু করে আগামীতে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। দেশের অভ্যুদয় ও উন্নয়নে নিজের পরিবারের অবদান ও পঁচাত্তরের মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে দেশকে গড়ে তুলি। আমার ব্যক্তিগত কোন চাওয়া পাওয়া নেই। আমি তো সব হারিয়েছি। বাংলাদেশে এসেছি কেবল  দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করতে। আমি বাবার মতো, আমার পরিবারের মতো, আপনাদের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছি। প্রয়োজন হলে বাবার মত নিজের জীবন দিয়ে জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাব।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, জিয়া-এরশাদ-খালেদা (ভারত থেকে) এক ফোটা পানিও আনতে পারে নাই। তারা কোন স্থল চুক্তি করতে পারেনি, শান্তি চুক্তি করেনি। আমরা ক্ষমতায় এসে সব করেছি। সরকারের ভিশন ও গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবেনা। একজন মানুষও ঘরবাড়ি ছাড়া থাকবেনা। গৃহহীন মানুষকে বিনা পয়সায় ঘরবাড়ি বানিয়ে দেবো। আমরাই দেশে বিনা পয়সায় বই বিতরণ করছি। আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করি। আমরাই বর্গা চাষীদের বিনা সুদে ঋণ দেওয়া শুরু করি। শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দিচ্ছি। মায়ের হাসি প্রকল্প চালু করেছি। শিশুদের উপবৃত্তির টাকা মায়েদের মোবাইল ফোনে যাবে। এজন্য ২০ লাখ মাকে মোবাইল ফোন দিয়েছি। উপবৃত্তির টাকা যাবে এসব মোবাইল ফোনে। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি। আপনারা এসব ডিজিটাল সেন্টারের সুবিধা নিবেন। প্রধানমন্ত্রী অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নিজের সন্তানের খোঁজ রাখবেন।

তারা  যেন জঙ্গিবাদের পথে না যায়। কারণ ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম কোন মানুষকে হত্যা করতে বলেনি। বরং বলেছে মানুষ হত্যা মহাপাপ। ছাত্র-ছাত্রীদের উপর শিক্ষকদের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে খোঁজ-খবর রাখবেন। ইসলামের উন্নয়নে বিএনপি কিছুই করেনি দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামী ফাউন্ডেশন জাতির জনক প্রতিষ্ঠা করেছেন। স্বাধীনতার পরপরই বিভিন্ন অনৈসলামিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিএনপির কোন ধর্ম নেই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা ধর্মের নামে কোরআন পোড়ায়, মানুষ পোড়ায়। কিসের ধর্ম! কিসের জনগণের কল্যাণ! শেখ হাসিনা বলেন. ইসলামের উন্নয়নে আমরা প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি মসজিদ ও একটি ইসলামি কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করবো।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে তারা দুর্নীতি ও লুটপাট করে। আর বিরোধী দলে গিয়ে মানুষ হত্যা করে। ২০১৩ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে জ্বালাও-পোড়াও করেছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয়ে বসে ও তার কুলাঙ্গার ছেলে বিদেশে বসে হুকুম দিয়েছে, আর তাদের ক্যাডার বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার, হত্যা ও নির্যাতন করেছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্যই হলো উন্নয়ন করা। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা। তারা ক্ষমতায় আসলে জনগণের নাভিশ্বাস ওঠে, কারণ তারা দেশে ত্রাসের রাজনীতি করে। আওয়ামী লীগ সভাপতি অভিযোগ করেন- বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময় আওয়ামী লীগের কোন নেতা-কর্মী ঘরে থাকতে পারেনি। এসময় নুরুল ইসলাম, সামসুদ্দোহা পাটোয়ারী, মিজানসহ ১৭ জন নেতা-কর্মীকে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছিল।

আর নির্যাতনের শিকার শতাধিক নেতা-কর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ইতিপূর্বে লক্ষ্মীপুর সফরকালে তার দেওয়া উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রতিশ্রুতি ও তার বাস্তবায়ন চিত্র তুলে ধরেন এবং নতুন নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। শেখ হাসিনা বলেন, লক্ষ্মীপুর ছিলো অবহেলিত জায়গা। এখানে যা যা করা দরকার তা সব করে দেব। এমনকি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা পর্যন্ত পাকা রাস্তা করে দেব। যাতে এলাকাবাসীকে কাদা মাটিতে থাকতে না হয়। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় বিশেষ একটি হেলিকপ্টারে করে লক্ষ্মীপুরের দালালবাজার ডিগ্রি কলেজ মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে গাড়িতে করে তিনি সার্কিট হাউজে যান। সেখানে জোহরের নামাজ আদায় ও দুপুরের খাবার খেয়ে জনসভাস্থলে যান ২টা ৫০ মিনিটে। উপস্থিত হয়েই বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ৩টা ২৫ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে ৪০ মিনিট বক্তব্য দেন। এর আগে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার হাজারো মানুষ জনসভাস্থলে উপস্থিত হন। প্রধানমন্ত্রীর আগমণ উপলক্ষে পুরো শহর জুড়েই ছিল সাজ সাজ রব। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে, প্রখর রোদে উপেক্ষা করে জেলা স্টেডিয়ামে লাখো লোক জনসভাস্থলে উপস্থিত হন। আরো হাজার হাজার মানুষ জনসভাস্থলে ঢুকতে পারেনি। বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রায় সব জেলা থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীরা জনসভায় অংশ নেয়।

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন নাহার লাইলী, যুব ও ক্রীড়া উপ-মন্ত্রী আরিফ খাঁন জয়, স্থানীয় এমপি একে এম শাহজাহান কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ নোমান, লায়ন এম এ আউয়াল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহের, আওয়ামী লীগ নেতা এমএ মমিন পাটোয়ারী, সামছুল ইসলাম পাটোয়ারী প্রমুখ।

উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: এদিন প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদ ভবন, সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম, কমলনগর উপজেলা পরিষদ ভবন, কমলনগর উপজেলা অডিটোরিয়াম, লক্ষ্মীপুর পৌর আইডিয়াল কলেজ ভবন, মোহাম্মদিয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র নির্মাণ (৩য় ও ৪র্থ), কমলনগর উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও প্রাণী হাসপাতালসহ ১০টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন। এছাড়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, কোস্টগার্ডের প্রশাসনিক ভবন ও নাবিক নিবাস, পুলিশ অফিসার্স মেস-লক্ষ্মীপুর সদর পুলিশ ফাঁড়ি, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন, ৫০০ মে.টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ, রামগঞ্জ উপজেলায় ১৩২/৩৩ কেবি গ্রিড বিদ্যুত উপ-কেন্দ্র নির্মাণ, পিয়ারাপুর সেতু, চেউয়াখালী সেতু, মজু চৌধুরীর হাটে নৌ-বন্দর, লক্ষ্মীপুর পৌর আধুনিক বিপনী বিতান, রামগঞ্জে আনসার ও ভিডিপি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর কমপ্লেক্স, লক্ষ্মীপুর পৌর আজিম শাহ (রা.) হকার্স মার্কেট, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ একাডেমিক ভবন কাম পরীক্ষা কেন্দ্র, লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইন্স মহিলা ব্যারাক নির্মাণ, লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়কে পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, রায়পুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনসহ ১৭টি উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top