রাত ১১:৩৪, বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ ময়মনসিংহ / নেত্রকোনায় আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১২, জাসদের ১
নেত্রকোনায় আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১২, জাসদের ১
নভেম্বর ২৩, ২০১৬

জেলা পরিষদ নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এর ব্যাতিক্রম নেই নেত্রকোনায়ও। আসন্ন এই নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় মনোনয়নের জন্য মরিয়া হয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণি ফোরামের নেতাদের কাছে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নেত্রকোনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ১২জন নেতা কেন্দ্রীয়ভাবে আবেদন করে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে যেকোনও একজন মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল জাসদ ছাড়া অন্য কোনও দলের নেতাকে এই নিবার্চনে এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে মনোনয়নের জন্য লবিং করতে দেখা যায়নি।

এছাড়া দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপি কেন্দ্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী জেলা পরিষদ নিবার্চনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় ওই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তেমন কোনও উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না।
জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন খান দলীয়ভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের বিষয়ে বলেন, ‘দলীয় হাই কমান্ড থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত না হওয়ায় জেলা বিএনপির তেমন কোনও তৎপরতা নেই।’
জেলা পরিষদের আইন অনুযায়ী সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এই নিবার্চনে ভোটার হবেন। তারা জেলা পরিষদের ২১ সদস্য বিশিষ্ট প্যানেলে একজনকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (উপ-মন্ত্রী পদমর্যাদা) সম্পন্ন, ৫ জনকে সংরক্ষিত নারী সদস্যা ও ১৫ জনকে সাধারণ সদস্য হিসেবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন। এই নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ মেম্বার ও সংরক্ষিত নারী মেম্বাররা।
এবার নেত্রকোনা জেলা পরিষদের নিবার্চনে চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের হেবি ওয়েট নেতাদের সঙ্গে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ নেতা। তারা বলছেন, দলীয় সভানেত্রী এবার তরুণদেরকেই বেশি প্রাধান্য দিতে পারেন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিয়ুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুজ্জোহা, সাবেক সহ-সভাপতি সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক তফসির উদ্দিন খান, অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের বড় ভাই নুর খান মিঠু, সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায়, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম বজলুল কাদের শাজাহান, আওয়ামী লীগের নেতা লে. কর্নেল (অব.) আবদুন নুর খান, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি কেশব রঞ্জন সরকার, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ওমর ফারুক, আওয়ামী লীগ নেতা অসিত কুমার সরকার এবং সাবেক যুবলীগ নেতা এস.বি খান শাহীন।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক মতিয়ুর রহমান খানের নাম শোনা যাচ্ছে। দলের মনোনয়ন পেতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক মতিয়ুর রহমান খান বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পরিষদের দায়িত্ব দিয়েছিল। সেই দায়িত্ব আমি শতভাগ পালন করেছি। আমি ইতোমধ্যে দেশের ১০টি বৃহত্তর অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল রুম নিমার্ণের মধ্যে নেত্রকোনায় এর কাজ শুরু করেছি। নেত্রকোনায় জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের একটি মোড়াল নিমার্ণের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এছাড়াও সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের জন্য জেলার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করেছি। তাছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছি বাস্তবায়নের জন্য। আমি দলীয়ভাবে মনোনীত হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দলীয় সভানেত্রী ও বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুদা,দারিদ্রমুক্ত,ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে শতভাগ কাজ করে যাব।’
অন্যদিকে বর্তমান সরকারের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইছেন জাতীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) বর্তমান যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. মুখলেছুর রহমান মুক্তাদির। তিনি দলের একক প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়নের জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেহেতু এখন পর্যন্ত কোনও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি, তাই স্থানীয় জাসদ নেতা-কর্মীদের ধারণা দল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দিলে এবার জেলা পরিষদ নিবার্চনে লড়াই হবে জাসদ আর আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মধ্যে।
এ ব্যপারে জাসদ মনোনয়ন প্রত্যাশী মুখলেছুর রহমান মুক্তাদির বলেন, ‘যদি মনোনয়ন পাই তাহলে নিবার্চন অব্যই করবো। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে নিবার্চনের বিকল্প কিছু নেই।’
তবে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেলে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নেবেন এমন কথা এখনও শোনা যাচ্ছে না। এছাড়া সদস্য (পরিচালক) পদের জন্য আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা তদবির করছেন। তবে বিএনপির জেলা পরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে কোনও তৎপরতা নেই।
আগামী ২৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনাসহ সারাদেশে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে জেলার ১০টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ৮৬টি ইউনিয়নে এক হাজার ২১৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top