সন্ধ্যা ৭:৩৩, শনিবার, ২৫শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / নিম্নমানের ওষুধ তৈরি
নিম্নমানের ওষুধ তৈরি
মার্চ ১১, ২০১৭

ওষুধ যেমন জীবন বাঁচায়, সব পরিমাণ ঠিক না হলে সেই ওষুধ প্রাণ কেড়েও নেয়। রোগীর কাছে চিকিৎসক, নার্সসহ ওষুধ সংশ্লিষ্ট সবার দায়বদ্ধতা এখানেই। মানুষের জীবন-মরণ যেখানে জড়িত, এর সঙ্গে কোন আপস চলে না। সংসদীয় কমিটির সুপারিশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর যে প্রতিষ্ঠানটির ওষুধ উৎপাদনের সনদই বাতিল করে দিয়েছিল তাদেরই ওষুধ কিনেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। অর্থ ও ওষুধের পরিমাণও কম নয়। ৪৬ লাখ ভায়াল, দাম ১৮ কোটি টাকা। সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত ফলাও করে পত্র-পত্রিকায় এসেছে, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়েছে।

 কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখে পড়েনি, কানে যায়নি। এতে জনগণের অর্থের অপচয় হলো, তাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলা হলো। প্রশ্ন হচ্ছে কার স্বার্থে। সম্প্রতি মানহীন বলে ২৮ কোম্পানীর এন্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড, এ্যান্টিক্যান্সার ও হরমোন সংক্রান্ত ওষুধ উৎপাদন বন্ধে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য ও শিল্প সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ পাঁচজনকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করতেও বলা হয়েছে। আন্তরিক ও সততার সঙ্গেও নির্দেশ পালন করতে হবে।

 দেখা গেছে, মানহীন, ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারক মূলত ঢাকার বাইরে জেলা ও গ্রামাঞ্চলে তাদের ওষুধ বিপণন করে থাকে। কেন্দ্রীয় কোনো নিষেধাজ্ঞা এলে ওইসব এলাকার অনেক চিকিৎসকও সে খবর পায়নি। কিংবা রাখেন না। তারাও ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করতে বলেন রোগীকে। অনেক ডাক্তার ওষুধ কোম্পানীগুলো থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের কৃতজ্ঞতা থেকেও মানহীন বা ভেজাল ওষুধের নাম ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেন। এ জাতীয় অনৈতিক চর্চা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। বিভিন্ন প্রশাসনিক যন্ত্র কাজে লাগিয়ে এই অধিকার নিশ্চিত করার কাজটি রাষ্ট্রের পালন করার কথা।  



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top