রাত ২:৩৪, শুক্রবার, ৩০শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য / নিজস্ব খরচে অবিলম্বে ভবন ভাঙার নির্দেশ বিজিএমইএকে
নিজস্ব খরচে অবিলম্বে ভবন ভাঙার নির্দেশ বিজিএমইএকে
নভেম্বর ১৩, ২০১৬

দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের শিল্পোদ্যোক্তাদের সমিতি বিজিএমইএকে ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি করে বেআইনিভাবে গড়ে তোলা তাদের ১৬ তলা ভবন অবিলম্বে নিজেদের খরচে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। বিজিএমইএ তা না করলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রেও ভবন ভাঙার টাকা তারা বিজিএমইএর কাছ থেকে আদায় করবে।   

প্রায় দুই দশক আগে নির্মিত ভবনটি ভেঙে ফেলতে হাই কোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে গত জুনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছিল, মঙ্গলবার প্রকাশিত তার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে এসেছে এই নির্দেশনা। হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ বলেন, ‘৩৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি ইতোমধ্েয সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।’ এই রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি বিজিএমইএ এবং রাজউকের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। রায়ের নির্দেশনা জানার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাসির জানান, তারা আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন। রায় প্রকাশের এক মাসের মধ্যে রিভিউ করার একটা অপশন আছে। আমরা অবশ্যই সে সুযোগটা নেব। এর পরে মহামান্য আদালত যে ডিসিশন দেবে আমাদের তো তা মেনে নিতেই হবে। নাসির বলেন, শেষ পর্যন্ত যদি ভবন ভেঙে ফেলতেই হয়, সেক্ষেত্রেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই খাত যে নির্বিঘ্নে চালিয়ে নেওয়া যায়, সেজন্য ‘ব্রিদিং স্পেস’ রাখার কথা রিভিউ আবেদনে বলা হবে। এখন পর্যন্ত রায়ের কপি হাত পাননি জানিয়ে রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, রায় পড়ে দেখে তবেই তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে চান। এক সপ্তাহ আগে তিনি বলেছিলেন, বিজিএমইএ ভবন ভাঙার খরচ কে দেবে- সেখানে রাজউকের দায়িত্ব কী হবে- তা নিশ্চিত হতে না পারায় তারা পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় আছেন। আর গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, রায় পেলে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে দেরি হবে না। এ মামলায় হাই কোর্টের অ্যামিকাস কিউরির দায়িত্ব পালন করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, আদালত ভেঙে ফেলতে বলেছে, বিজিএমই নিজেরাই যদি ভেঙে ফেলে তা তাদের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করবে। না হয় এটি তাদের ভাবমূর্তিতে একটি কালো দাগ হয়ে থেকে যাবে, যে বিজিএমইএর মত প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে একটি ভবন নির্মাণ করেছিল।

বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল রায়ে বলেছিল, ‘বিজিএমইএ ভবনটি সৌন্দর্যমণ্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যান্সারের মতো। এ ধ্বংসাত্মক ভবন অচিরেই বিনষ্ট না করা হলে এটি শুধু হাতিরঝিল প্রকল্পই নয়, সমস্ত ঢাকা শহরকে সংক্রামিত করবে।’ তৈরি পোশাক খাতের শিল্পোদ্যোক্তাদের সমিতির এই ভবনের বিষয়ে রায়ে বলা হয়, ‘আর্থিক পেশিশক্তির অধিকারী বলে’ শক্তিশালী একটি মহলকে ‘আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে’ এমন যুক্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২ জুন হাই কোর্টের ওই রায়ই বহাল রাখে। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, সব দিক বিবেচনা করে হাই কোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো কারণ আপিল বিভাগ দেখছে না। আইন ও পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় হাই কোর্ট বিভাগ যৌক্তিক রায় দিয়েছে জানিয়ে আপিল বিভাগ বলেছে, ‘আমাদের বলতে দ্বিধা নেই, সংশ্লিষ্ট সব আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা বিজিএমইএ ভবন দাঁড়িয়ে থাকে পারে না। বরং অবিলম্বে ওই ভবন ভেঙে ফেলা উচিৎ।’
 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top