দুপুর ১২:০৫, শুক্রবার, ২৪শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ শিরোনাম / নাসিকের অভিজ্ঞতায় জেলা পরিষদ ভোটে আওয়ামী লীগ
নাসিকের অভিজ্ঞতায় জেলা পরিষদ ভোটে আওয়ামী লীগ
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬

মাহফুজ সাদি : আগামীকাল বুধবার জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) ভোটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর এর মাধ্যমে ভালো শান্তিপূর্ণ ভোটে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বছর শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে দলটি। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলার মধ্যে ২২টিতেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। ২০টি জেলায় রয়েছে বিরোধ।

 * বিরোধপূর্ণ জেলায় কেন্দ্রীয় নেতারা

বিরোধ নিষ্পত্তি করতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে প্রতিনিধি দল। প্রতিটি জেলায় সৃষ্ট বিরোধ মেটাতে শেষ মূহুর্তে জেলায় জেলায় গেছেন এই প্রতিনিধি দলের নেতারা। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জামায়াত এই ভোটে অংশ না নেয়ায় অনেকটা একদলীয় কায়দায় ভোট হবে। ফলে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে না পারলে নিজেদের হাতে নিজেদের রক্ত ঝড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই শান্তিপূর্ণ ভোটে দল সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করতে তৎপরতা চালাচ্ছেন দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, দলীয় প্রতীকে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলেও প্রতিটি জেলাতে একজন করে প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিরোধপূর্ণ জেলার অনেক গুলোতেই আওয়ামী লীগ করেন, এমন একাধিক ব্যক্তি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। আবার অনেক জেলাতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনও একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হলেও তার পক্ষে কাজ করছেন না মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কিছু কিছু জেলাতে দলীয়ভাবে সমর্থন দেওয়া প্রার্থীর বিরুদ্ধেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কাজ করছেন বলে অভিযোগ এসেছে কেন্দ্রে। এরই প্রেক্ষিতে দল থেকে সমর্থন দেওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে এক বৈঠকে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে অশান্তি সৃষ্টি না হতে পারে সে জন্য বিরোধপূর্ণ জেলাগুলোতে দলীয় কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে প্রতিনিধি দল গঠনের নির্দেশ দেন সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশে গঠিত প্রতিনিধি দলগুলো  সোমবার জেলায় জেলায় যেতে শুরু করেছে।বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এমন চারটি প্রতিনিধি দল সফর শুরু করছেন। প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার এবং বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল যাচ্ছেন মানিকগঞ্জে। জামালপুর যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের নেতৃত্বাধীন দল। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে দুইটি প্রতিনিধি দল যাচ্ছে যথাক্রমে নরসিংদী ও পাবনাতে।
বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক দৈনিক করতোয়াকে জানান, নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন ভোট আমাদের আরো বেশি আত্মবিশাসী করে তুলেছে। আসন্ন জেলা পরিষদ ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। এজন্যই কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে তৃণমূলে দলের অভ্যন্তরে বিরোধ মেটাতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, গঠিত এসব প্রতিনিধি দলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে তৈরি হওয়া গ্রুপগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধ নিষ্পত্তি করার মাধ্যমে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করা। সেই সাথে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়েও যাতে বিরোধ তৈরি না হয় সেটিও নিশ্চিত করা হবে। সংশোধিত জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী, জেলা পরিষদ হবে ২১ সদস্যের। এর মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও ৫ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকবেন। তারা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সরাসরি বা অনলাইনে দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অনলাইনে যেকোনো প্রার্থী নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top