সকাল ৬:৪৩, সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ স্বাস্থ্য / নারীদের তলপেটে ব্যথার কারণ
নারীদের তলপেটে ব্যথার কারণ
জানুয়ারি ৭, ২০১৭

ঋতুস্রাবের সময় নারীদের তলপেটে হালকা ব্যথা হতে পারে। এটা স্বাভাবিক। হটবাথ বা গরম ছ্যাক দিলে এটা কমে যায়। তবে এই ব্যথা যদি সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় বা যখন তখন ব্যথা শুরু হয়, তাহলে বুঝবেন এটা খারাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটা হতে পারে জীবাণু সংক্রমন যাকে পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ বলা হয়।


সাধারণত ১৪-২৫ বছর বয়সের নারী পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। অপরিচ্ছন্ন ও অসচেতন নারীদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। নাইসেরিয়া, গনোকক্কাস, স্ট্রেটোকক্কাস, ব্যাকটেরয়েড, বিশেষ করে ক্লামাইডিয়া দ্বারা জরায়ু, ডিম্বাশয়, ডিম্বনালীসহ আশপাশের অন্যান্য অঙ্গ আক্রান্ত হয়ে এ প্রদাহের সৃষ্টি হয়। প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবে অশিক্ষিত ও অসচেতন নারীরা বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। অনেকে লজ্জায় বিষয়টা এড়িয়ে যান। ফলে রোগ জটিল হতে থাকে।

 এক পর্যায়ে তা ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। অথবা, সন্তান ধারণে বিঘœ সৃষ্টি করে। দেখা দিতে পারে বন্ধ্যাত্ব।
এই প্রদাহ দুই রকম হতে পারে। প্রথমত জননাঙ্গের নিচের দিকের প্রদাহ, দ্বিতীয়ত জননাঙ্গের ওপরের দিকের প্রদাহ। এ রোগ হলে তলপেটে তীব্র ব্যথা হয়। এ ব্যথা কোমর ও বাহুতে বিস্তার করে। পেটে ভারী অনুভব করা, সহবাসে এবং জরায়ুমুখ স্পর্শ করলে প্রচ  ব্যথা অনুভব করা। যোনিপথে দুর্গন্ধযুক্ত সাদাস্রাব বা পুঁজ নির্গত ও জ্বালা-যন্ত্রণা হয়। এছাড়া শরীরে জ্বর, মাথা ব্যথা, বমি ভাব, পেট ফাঁপা, খেতে অরুচি ও স্বাস্থ্য ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে।


স্বামীর যদি যৌনরোগ থাকে তা থেকেও নারী এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। একাধিক যৌন সঙ্গীর কারণেও এ রোগ হতে পারে। গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণের কারণেও পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) হতে পারে। জননাঙ্গে যক্ষ্মা জীবাণুর সংক্রমণেও পিআইডি হতে পারে। এছাড়া অল্প বয়সে যৌন জীবন শুরু, মাসিকের সময় সহবাস, অস্বাস্থ্যকর ও অদক্ষ হাতে গর্ভপাত ও ডেলিভারি করানোর কারণে হতে পারে পিআইডি। এ রোগ দেখা দিলে একেবারেই সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দিলে পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ অনেকাংশে রোধ
করা সম্ভব। তবে অবস্থা
জটিল হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে
হবে।     -তথ্যসূত্র ইন্টারনেট



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top