দুপুর ২:৫৭, বৃহস্পতিবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ রাজশাহী / নাটোরে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড
নাটোরে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড
এপ্রিল ২০, ২০১৭

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরে অনন্ত চক্রবর্তী অন্তু (১২) নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে হত্যার দায়ে আশারাফ আলী (২৮) নামে এক ব্যাক্তিকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর  পৌনে এক টার সময় এই আদেশ দেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক, জেলা ও দায়রা জজ মো. রেজাউল করিম।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আশরাফ আলী সদর উপজেলার হালসা গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। খালাসপ্রাপ্তরা হলো একই গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে শাহজাহান আলী (৩০) এবং সোলেমান আলীর ছেলে আব্দুল¬াহ আল মামুন (২৫)। আর নিহত অনন্ত চক্রবর্তী অন্তু সদর উপজেলার হালসা গ্রামের অশোক কুমার চক্রবর্তীর ছেলে এবং হালসা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ছিলো।

আদালত সূত্র ও নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) এডভোকেট শাজাহান কবির জানান, ২০১২ সালের ৩১ মে বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রাইভেট পড়ার জন্য হালসা বাজারে যায় অনন্ত চক্রবর্তী ওরফে অন্তু। প্রাইভেট পড়া শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় অন্তু তার বাবার দোকান থেকে বাড়ির জন্য বাজার-সদা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। এসময় একই এলাকার আশরাফ আলী তাকে অপহরণ করে হালসা মাদ্রাসার পাশে একটি পানের বরজে নিয়ে যায়।  সেখানে অন্তুকে দিয়ে তার বাবা অশোক চক্রবর্তীর মোবাইল ফোনে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন আশরাফ আলী। একই সাথে ১ জুন, ২০১২ রাত ৮টার মধ্যে দাবিকৃত টাকা না দিলে ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। এসময় অন্তু চিৎকার- চেচামেচি করার চেষ্টা করলে আশরাফ আলী তার গলা চেপে ধরেন। এতে অন্তু শ্বাসরোধে মারা যায়। পরে তার মরদেহটি গুম করতে রাতেই বস্তায় তুলে পানের বরজের ভিতর  মাটিতে পুঁতে  রেখে টিন দিয়ে ঢেকে রাখে। আর অশোক কুমার চক্রবর্তী তার ছেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি তাৎক্ষণিক নাটোর থানায় অবহিত করলে পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান শুরু করেন। এক পর্যায়ে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে রাতেই অপহরণের সাথে জড়িত সন্দেহে আশরাফ আলী, শাহজাহান আলী ও আব্দুল্ল¬াহ আল মামুন নামে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের স্বীকারোক্তি  মোতাবেক ঘটনাস্থল থেকে রাত ১২টার সময় পুলিশ মাটিতে পুঁতে রাখা অন্তুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে। এঘটনায় নিহত অন্তুর বাবা অশোক চক্রবর্তী বাদী হয়ে নাটোর থানায় ওই ৩ জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণপূর্বক হত্যামামলা দায়ের করেন। মামলাটি নাটোর সদর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল¬াহ আল মামুন তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই মামলার দীর্ঘ শুনানি ও ঘটনার সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিচারক গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রায় ঘোষণা করেন। এতে আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় হত্যা ও মুক্তিপণ দাবির জন্য মৃত্যুদন্ডাদেশ ও দশ হাজার করে জরিমানা, অপহরণের জন্য যাবজ্জীবন ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং মরদেহ গোপনের দায়ে  ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আদেশে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামি শাহজাহান আলী ও আব্দুল¬াহ আল মামুনকে খালাস দেওয়া হয়। এই মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে তিনি নিজে এবং আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট সায়েম হোসেন উজ্জল ও সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন মন্টু।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top