রাত ২:৫৭, সোমবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / নদ-নদী হারাচ্ছে দীর্ঘকালের ঐতিহ্য
নদ-নদী হারাচ্ছে দীর্ঘকালের ঐতিহ্য
January 2nd, 2017

 


বাংলাদেশের সব নদ-নদী হারিয়েছে দীর্ঘকালের ঐতিহ্য। হাজার বছরের পথ পরিক্রমায় বেশির ভাগ নদীই আজ বিপন্ন ও অস্তিত্বহীন। দেড় হাজার নদীর মধ্যে বছর জুড়ে নাব্য নদীর অস্তিত্ব রয়েছে মাত্র ২৩০টির।

 নিয়ন্ত্রণহীন দূষণের যাঁতাকালে পিষ্ট হয়ে মরে গেছে অধিকাংশ নদ-নদী এমন কি খাল-বিলও। নগর সভ্যতার বিকাশে উন্নয়ন পরিকল্পনার ও উজান থেকে নেমে আসা পানি সংকটেও নদ-নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভয়াবহ নদীর দূষণ। রাজধানী ঢাকার পাশ ঘেঁষে বহমান ঐতিহ্যবাহী বুড়িগঙ্গা নদী সহ বাংলাদেশের বেশির ভাগ নদ-নদী আজ মানুষের কাছে ইতিহাস হয়ে পড়ে আছে। বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। ঢাকার চার নদী ছাড়াও দেশে বিভিন্ন নদীর তীরে রয়েছে ছোট-বড় লঞ্চ মেরামত শিল্প।

শুধু বুড়িগঙ্গাই নয়, শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে দেশে শিল্পজনিত নদী দূষণের মাত্রা আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। শুধু বুড়িগঙ্গাই নয়, শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর তীরে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে দেশে শিল্পজনিত নদী দুষণের মাত্রা আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলের সীতাকুন্ডে প্রতিষ্ঠিত জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প থেকে ঘটছে ভয়াবহ পরিবেশ দুষণ।

 ভয়াবহ দূষণে আক্রান্ত বাংলাদেশের অন্যান্য নদীর মধ্যে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, যমুনা, গঙ্গা, মধুমতি, ধলেশ্বরী, আড়িয়াল খা, ভৈরব, বিষখালি, বালু, মনু, কপোতাক্ষ করতোয়া, মহানন্দা, সুরমা, কুশিয়ারা, কীর্তন খোলা, ধলেশ্বরী, সন্ধ্যা খোয়াই, ধরলা, গোমতি, পায়রা, বংশী, হালদা, কালীগঙ্গা ইত্যাদি নদী ও খান বিলের পানি দুষণের কারণে ভু-পৃষ্ঠের পানি হয়ে পড়েছে ব্যবহার অযোগ্য। নদীকে ঘিরে চলছে সভ্যতার ক্রম বিকাশ। নদীর পানি দূষিত করে নদীকে গলা টিপে মেরে সমৃদ্ধ দেশ গড়া সম্ভব নয়।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :