দুপুর ১২:৫২, শুক্রবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ রাজশাহী / ধুনটে নদী-নালা খাল-বিল এখন পানির কাঙাল
ধুনটে নদী-নালা খাল-বিল এখন পানির কাঙাল
মার্চ ৬, ২০১৭

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া) : কুল আছে, কিনার আছে। নেই পানি আর উত্তাল ঢেউ। জলজ্যান্ত নদী-নালা, খাল-বিল এখন পানিশূন্য। নদীর পানি শুকিয়ে পরিণত হয়েছে মরা খালে। জলাশয়ের বুকজুড়ে জেগে উঠেছে চর।

সেখানে চাষ হচ্ছে নানা জাতের মৌসুমি ফসল। দেখে বোঝাই যায় না, এখান দিয়ে এক সময় পানি প্রবাহিত হয়েছে। এমন চিত্র বগুড়ার ধুনট উপজেলার নদী-নালা, খাল-বিলসহ অধিকাংশ জলাশয়ের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার ২৪৭.৭৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের মানচিত্রে পাঁচ নদীর অবস্থান। উপজেলার পূর্ব পাশে যমুনা ও পশ্চিম পাশ দিয়ে বহমান বাঙ্গালী নদী। আর মাঝপথে বয়ে গেছে মানাস, ইছামতি ও বাও নদী। এছাড়া খাল-বিল ও দহ রয়েছে শতাধিক।

এক কালের উত্তাল খরস্রোতা নদীগুলো আজ যৌবন হারা। এখন আর শোনা যায় না পানির কলকল ধ্বনি। কিছু কিছু জায়গায় অবশ্য ডোবার মতো হয়ে আছে। বর্ষা মৌসুম না আসা পর্যন্ত এগুলোর পরিবর্তন হবে না। যেখানে প্রমত্তা নদীর পানিতে উত্তাল-পাতাল ঢেউ থাকার কথা, সেখানে মানুষ বসতি গড়ছে। নদীর বুকজুড়ে এখন দেখা যায় কৃষান-কৃষাণীর চাষাবাদের ব্যস্ততা।

যমুনা পাড়ের শহড়াবাড়ির গ্রামের অশিতপর বৃদ্ধ হযরত আলী বলেন, এক সময় যমুনা নদীর পানি আর প্রবল ঢেউ দেখে ভয় পেতেন। আজ থেকে ৪০-৪২ বছর আগেও গভীর পানি থাকতো নদীতে। কখনো কখনো বালির চর দেখা গেলেও তার মধ্য দিয়েই থাকতো পানির স্রোতধারা। কিন্তু এখন বর্ষা মৌসুম না এলে এমনটি আর দেখা যায় না।
বানিয়াজান গ্রামের জহুরুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একদিন এসব নদী হবে রূপকথার গল্পের মতো। বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের তীব্রতা থাকলেও কখনই চরের প্রত্যাশা করেনি। নদীতে পানি না থাকলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপে ঠিক মতো পানি ওঠে না। নদীকেন্দ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর বুকে আর দেখা মেলে না অথৈ পানি।

নদীতে এখন মানুষ পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছে। নদীর নৈসর্গিক পরিবেশ ও অস্তিত্ব আজ বিলীনের পথে। চলে না আর পাল তোলা নৌকা। এখন আর আগের মত মাঝি মাল্লাদের কণ্ঠে ভেসে আসে না ভাটিয়ালী গানের সুর। বরইতলি গ্রামের সেচ যন্ত্রের মালিক আব্দুল করিম বলেন, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট হয়। এছাড়া সেচ সংকটে পড়েছে বোর ধানের জমি। পানির অভাবে জমিতে আশানুরূপ ফসল ফলানো সম্ভব হয় না। পানির অভাবে নদী-নালা, খাল-বিলে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে।
ফলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন না এলাকায় শত শত জেলে পরিবারের মানুষ। তারা এখন কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শুধু জেলে নয়, মাছধরার সাথে জড়িত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের জীবনেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। কমে গেছে নিত্যদিনের আয়-রোজগার। তাই ধারদেনা আর সঞ্চয় ভেঙে দিন চলছে জেলে পরিবারের লোকজনের।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারি প্রকৌশলী হারুনর রশিদ বলেন, নদী খনন করে পানি প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য প্রতি বছরই প্রকল্প তৈরী করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়। কিন্ত আজও এই প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ হয়নি বলে জানান তিনি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top