সকাল ৯:৪৪, বুধবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ Top News / ধর্ষনের অভিযোগ স্বীকার করেছে সাফাত -সাদমান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে
ধর্ষনের অভিযোগ স্বীকার করেছে সাফাত -সাদমান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে
মে ১২, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদকে ছয় দিন ও তার সহযোগী সাদমান সাকিফকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার এই আদেশ দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। গ্রেফতার সাফাত ও সাদমান ধর্ষনের অভিযোগ স্বীকার করেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।


বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের একটি বাড়ি থেকে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত ও পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক ও রেগনাম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ঢাকায় নিয়ে আসার পর মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে রেখে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। এরপর বিকালে তাদের আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আব্দুল্লাহ আবু ও অতিরিক্ত পিপি শাহ আলম তালুকদার। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রহমান হাওলাদার এর বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন।


 শুনানি শেষে বিচারক জামিন নাকচ করে সাফাতকে ছয়দিন ও সাদমানকে পাঁচ দিনের হেফাজতের আদেশ দেন বলে বলে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধণ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান। দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের এই মামলায় সাফাতের আরেক বন্ধু নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম হাসান মো. হালিম), সাফাতের দেহরক্ষী ও গাড়িচালকও আসামি। মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করেন সাফাত ও নাঈম। সাদমানসহ অন্য তিনজন ছিলেন সহযোগী।

 ওই দুই তরুণী বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালতে জবানবন্দি দেন। তাদের মধ্যে একজন এর আগে বলেছিলেন, সাদমান তাদের বন্ধু; তাদের দুই বান্ধবীকে সেই পীড়াপীড়ি করে সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নিয়েছিল। ঘটনার মাসখানেক পর গত ৬ মে এক তরুণী বনানী থানায় মামলা করার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সাফাত গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের সমালোচনাও ওঠে। এরপর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় এক প্রবাসীর বাসা থেকে সাফাত ও সাদমানকে গ্রেফতার করা হয়।


‘কাঠগড়ায় বিমর্ষ’

আলোচিত এ মামলার দুই আসামিকে হাজির করার খবরে বিকালে আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করে উৎসুক জনতা। আইনজীবীদের কাউকে কাউকে এ সময় দুই আসমিকে নিয়ে শ্লেষোক্তি করতে শোনা যায়। আদালতে হাজির করার পর ঢাকার ধনী পরিবারের সন্তান সাফাত ও সাদমানকে কাঠগড়ায় অনেকটাই বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। এজলাসে ঢোকার সময় তাদের চোখ মুছতে দেখার কথাও পিপি আব্দুল্লাহ আবু। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘কথিত এ ঘটনা ঘটেছে বহুদিন আগে। যদি ঘটনা ঘটেও থাকে, তাহলে ধর্ষণের যে চিহ্ন-আলামত কীভাবে পুলিশ ও চিকিৎসক সনাক্ত করবে? এটা ধর্ষণ মামলা হিসেবে টিকবেই না, এ মামলা বিচারের জন্য আমলেই আসবে না। এ মামলা উদ্দেশ্যমূলক। প্রভাবশালী আসামিদের হেনস্তা করতে, সুবিধা না পেয়ে এই মামলা করা হয়েছে।’ অন্যদিকে আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘এতেদিন তারা (ভিকটিম) প্রভাবশালী আসামিপক্ষের হুমকিতে কথা বলেনি, এখন অনকূল পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছে, সত্য উন্মোচিত করেছে।’


পুলিশের দুটি কমিটি

দুই আসামিকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। এ মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের উপ-কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিনও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘দুই আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।’ সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ধর্ষণের মামলাটির তদন্তে সহায়তা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়ের নেতৃত্বে এই কমিটিতে আছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ কমিশনার মুশতাক আহমেদ এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের উপ কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন।


 এই ধর্ষণের মামলা নিতে বনানী থানায় কোনো গাফিলতি হয়েছে কি না সেটি তদন্তে করা হয়েছে আরেকটি কমিটি। এই কমিটির সদস্যরা হলেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মিজানুর রহমান, কৃষ্ণপদ রায় এবং মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন। কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘মামলার বাকি আসামিরা এখনও পলাতক। এখনও অভিযান চলমান আছে, তাদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে গ্রেফতারের অভিযানটা শেষ হবে। পাশাপাশি আমাদের তদন্ত কার্যক্রম সবিশেষ গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে যাবে। তদন্তের পারিপার্শ্বিক যে তথ্যগুলো আছে, যেসব ফিজিক্যাল এভিডেন্স আছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে যে এভিডেন্সেগুলোর ফরেনসিক এবং ডিজিটাল ফরেনসিক এবং মেডিকেল ফরেনসিক বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে সে তথ্যগুলো আমরা সংগ্রহ করছি।’

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top