রাত ২:০৭, রবিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সাহিত্য / দুষ্টু কাক ও বুড়িমা
দুষ্টু কাক ও বুড়িমা
আগস্ট ১৯, ২০১৭

 সোহেল রানা: গ্রামের চার রাস্তার মোড়ে ছিল একটা বড় বটগাছ। আর ঐ বটগাছের উপরে বাস করত একটা দুষ্টু প্রকৃতির কাক। দুষ্টু কাক সে গ্রামের এক বুড়িমাকে সবসময় জ্বালাতন করত। বুড়িমা যখনই বটগাছের নিচ দিয়ে যাতায়াত করত ঠিক তখনই দুষ্টু কাকটা বুড়িমার মাথার উপরে পায়খানা করে দিতো আর আনন্দে কা কা করে বুড়িমার এদিক ওদিক ঘুরঘুর করত। বুড়িমা যতদিন ঐ বটগাছের নিচ দিয়ে গিয়েছে ততদিনই ঐ দুষ্টু কাক পায়খানা করে বুড়িমার ভালো কাপড় নষ্ট করে দিয়েছে।


বুড়িমা কাকের এই কান্ডে কখনও রাগ না করলেও একদিন অনেক রেগে গিয়েছিলেন। রাগ হওয়ারই কথা। কারণ সেদিন তিনি অনেক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। বটগাছের কাছে এসে তিনি অনেক সাবধানে তার নিচ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও পার পাননি। কারণ কাকটা আগে থেকেই ওত পেতে ছিল বুড়িমার কাপড় নষ্ট করে দেয়ার জন্য। সেদিন বুড়িমা লাঠি নিয়ে কাকটাকে ইচ্ছেমত তাড়া করেছিলেন। তাড়া করে আর কি তাকে নাগালে পাওয়া যায়? সে দিব্যি বটগাছের মাথার উপরে বসে বুড়িমাকে দেখে ব্যাঙ্গ করে কা কা করছিল।


বুড়িমা কাকের এই দুষ্টামির কথা কারও কাছে না বললেও এক কান দুই কান করতে করতে এলাকার মানুষের কাছে বিষয়টি আর অজানা ছিল না। কেউ কেউ বুড়িমাকে দেখে কা কা বলে রাগানোরও চেষ্টা করত। কিন্তু বুড়িমা ছিলেন খুব শান্ত স্বভাবের মানুষ। তাই কারো কথাতে রাগ করতেন না বলে আর কেউ দ্বিতীয়বার এই কাজটি করত না। বুড়িমার সাথে কাকের এই ধরণের আচরণের কথা একদিন তার মেয়ের কানে পৌঁছালো। মেয়ে বুড়িমাকে কিছু না জানিয়ে তার ছেলেকে পাঠালো দুষ্টু কাককে শায়েস্তা করার জন্য।

 নাতি অনেকদিন পর বুড়িমার বাড়িতে বেড়াতে আসায় বুড়িমা তাকে অনেক আদর আপ্যায়ন করল। আপ্যায়ন শেষে নাতির যখন বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময় হলো তখন বুড়িমা তাকে সাথে করে বটগাছ পর্যন্ত এগিয়ে দিতে আসলো। নাতিও এটা চাচ্ছিল যে, তার নানি বটগাছ পর্যন্ত আসুক আর কাকটাকে হাতের নাগালে পাক। বটগাছের কাছে পৌঁছার আগেই বুড়িমার নাতি প্রস্তুত ছিল কাকটাকে আঘাত করার জন্য। যেই বুড়িমা বটগাছের নিচে আসলো আর ওমনি কাকটা বুড়িমার মাথার উপর পায়খানা করতে উদ্যত হলো। পায়খানা করার আগেই বুড়িমার নাতি একটা লাঠি ছুঁড়ে মারলো কাকের দিকে আর কাকটি নিজেকে লাঠির আঘাত থেকে রক্ষা করতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।


বুড়িমা নাতির এই কান্ডে অবাক হয়ে একবার কাকের দিকে আরেকবার নাতির দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকল। কাকটির অবস্থা খারাপ দেখে তিনি নাতিকে রেখে কাককে হাতে তুলে নিয়ে বাড়ির দিকে অতিদ্রুত রওনা দিলেন। নাতিও ছুটলো নানির পিছন পিছন। কাকের প্রতি নানির এমন ভালোবাসা দেখে নাতির চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। নানি কোনো কথা না বলে অনেক সেবা করে কাকটিকে সুস্থ্য করে তুললেন।

 তখনও কাকটি ঠিকমত দাঁড়াতে পারছিল না। তারপরও কাকটি বার বার বুড়িমার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করছিল। কেউ না বুঝলে নানি হয়ত বুঝতে পেরেছিলেন কাকের কথা। তাই নাতিকে উদ্দেশ্য করে নানি বললেন, ‘দেখেছো নাতি? আজকে কাকটি তার ভুল বুঝতে পেরে বার বার আমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছে। তাই সবসময় একটা কথায় মনে রাখবে, ‘শত্রুকে একমাত্র ভালো ব্যবহার ও ভালোবাসা দিয়েই আপন করা যায়, অন্য কিছু দিয়ে নয়’।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top