সকাল ৭:৩৮, সোমবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ Today Lead / দুর্ধর্ষ জঙ্গি মারজান ও সাদ্দাম নিহত
দুর্ধর্ষ জঙ্গি মারজান ও সাদ্দাম নিহত
জানুয়ারি ৬, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গুলশান হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড নব্য জেএমবির নেতা নুরুল ইসলাম ওরফে মারজান (২৮) এবং রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও  হোশিসহ কয়েকটি হত্যাকান্ডের চার্জশিটভুক্ত আসামি সাদ্দাম হোসেন (৩২) নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ধর্ষ এই দুই জঙ্গিকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহতদের একজন মারজান, যাকে গুলশান হামলার পর থেকে পুলিশ খুঁজছিল। আর সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল ছিলেন উত্তরাঞ্চলে জেএমবির অন্যতম সংগঠক। রংপুরে কুনিও হোশিসহ পাঁচটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি তিনি। পুলিশের দাবি, মারজানের সাথে যোগাযোগ করেই গুলশানে হলি আর্টিজানের ভেতর থেকে রক্তাক্ত লাশের ছবি বাইরে পাঠিয়েছিল হামলাকারীরা। মারজানের স্ত্রী প্রিয়তি গত ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেফতার হয়।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ইউনিট রাতে বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি চেকপোস্ট বসায়। রাত আড়াইটার দিকে জঙ্গি নেতা মারজান দুই সহযোগীসহ  মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় পুলিশের তল্লাশির মুখে পড়ে। সে সময় মারজানের দেহরক্ষী পুলিশকে গুলি করলে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। ঘটনাস্থলেই মারজানসহ ২ জন নিহত হয় এবং অন্য একজন পালিয়ে যায়।

 হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভোর সোয়া ৪টার দিকে দুই জঙ্গির মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেখে যায় পুলিশ। পুলিশ জানায়, গুলশান হামলার কয়েকদিন পর কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় পাওয়া ছবি  থেকে হলি আর্টিজান হত্যাকান্ডের অপারেশনাল চিফ মারজানের নাম পরিচয় জানা যায়। পরে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতে পারেন, হত্যাকান্ডের নৃশংস ছবি মারজানের কাছেই পাঠিয়েছিলো জঙ্গিরা। মারজানকে ধরতে এরপরই ছড়ানো হয় গোয়েন্দা জাল। তবে ঘন ঘন অবস্থান বদল করায় তাকে ধরতে সমস্যা হচ্ছে বলে এর আগে জানিয়েছিলো পুলিশ।

পালিয়ে থেকে নতুন সদস্য সংগ্রহ, জঙ্গিদের সংগঠিত করা ছাড়াও অর্থ ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করতো শীর্ষ জঙ্গি নেতা মারজান। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ডিসি জানান, রাত ৩টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে জঙ্গিরা বেড়িবাধে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গ্রেনেড ছোড়ে এবং গুলি করে। পরে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে দুইজন আহত হয়। তাদের হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, রাত ৩টা ৪০ এ মোহাম্মদপুর থানার গাড়িতে করে একজন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ দুইজনের লাশ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। একজনের বয়স আনুমানিক ২৮, আরেকজনের ৩২ বছরের মত। তাদের মাথা ও বুকে গুলি লেগেছে।

 শিবির নেতা থেকে জঙ্গিবাদে মারজান : সূত্র মতে, পাবনার হেমায়েতপুরের আফুরিয়া গ্রামের হোসিয়ারি শ্রমিক নিজাম উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলাম পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর পাবনা শহরের পুরাতন বাঁশবাজার আহলে হাদিস কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর পাবনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করে তিনি ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। গতবছর অগাস্টে পুলিশ গুলশান হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে মারজানের নাম ও ছবি প্রকাশের পর তার বাবা ওই ছবি তার ছেলে নুরুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন। সে সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ছেলের বিয়ের খবর পেলেও আট মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নেই। আরবি বিভাগের ছাত্র মারজান ২০১৫ সালের ফেব্র“য়ারিতে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা অসম্পূর্ণ রাখেন। এরপর আর ভর্তি হননি তিনি। এরপর ২০১৫ সালের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধার কয়েকটি ল্যাপটপ ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের নথিপত্র পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, মারজান ছিলেন ওই সংগঠনের একজন সাথী।

উত্তরবঙ্গের জেএমবি সংগঠক সাদ্দাম : পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দ এলাকার তাজু আলম ওরফে আলম জলার ছেলে। বিভিন্ন সময়ে তিনি চঞ্চল, রাহুল, সবুজ ও রবি নাম নিয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় জেএমবির জঙ্গি কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে ৬৬ বছর বয়সি জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। জুলাই মাসে পুলিশ আদালতে যে অভিযোগপত্র দেয়, তাতে সাদ্দামের নাম আসে।

 পরে রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা, পঞ্চগড়ের মঠ অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়কে হত্যা, কুড়িগ্রামে ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীকে হত্যা এবং বাহাই নেতা রুহুল আমীনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযোগপত্রেও সাদ্দামকে আসামি করা হয়। এছাড়া গাইবান্ধার চিকিৎসক দীপ্তি, জঙ্গি সদস্য ফজলে রাব্বি, ব্যবসায়ী তরুণ দত্ত হত্যা এবং নীলফামারীতে মাজারের খাদেম ও দিনাজপুরে এক চিকিৎসককে হত্যাচেষ্টা মামলাতেও আসামির তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে পুলিশের ভাষ্য।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top