সকাল ৯:৪০, শনিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত / দুই বিচারকের মৃত্যুতে ছুটি সুপ্রিম কোর্টে
দুই বিচারকের মৃত্যুতে ছুটি সুপ্রিম কোর্টে
জানুয়ারি ২, ২০১৭

অবকাশ চলাকালে দুই বিচারকের মৃত্যুতে  সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ছুটি ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। সোমবার দুপুরে আপিল বিভাগের বিচারপতি বজলুর রহমানের জানাজার পর তার কফিনে ফুল দিয়ে দেওয়ার পর এই ঘোষণা দেন বিচারাঙ্গনের প্রধান। আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান ছানা রোববার মারা যান। অবকাশ চলাকালে গত মাসে মারা যান হাই কোর্টের বিচারপতি জ্যোতিন্দ্র নারায়ন দেব চৌধুরী।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই দুই বিচারকের আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমি সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে আজকের বিচারকাজ ছুটি ঘোষণা করলাম।’ তার এই ঘোষণার পর সর্বোচ্চ আদালতে সোমবার আর কোনো বিচারকাজ হয়নি। সকাল সাড়ে ১০টায় সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বিচারপতি বজলুর রহমানের জানাজায় আপিল ও হাই কোর্ট বিভাগের বর্তমান বিচারকদের সঙ্গে অংশ নেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান উদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল হোসেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আইনজীবীরাও জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে বিচারক বজলুর রহমানের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধান বিচারপতি। এ সময় প্রয়াত বিচারপতির স্ত্রী ও দুই ছেলে উপস্থিত ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টে জানাজার পর বজলুর রহমানের লাশ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে রওনা হয় তার পরিবার। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। বজলুর রহমান গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আপিল বিভাগে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মৃত্যুর পর আপিল বিভাগের বিচারকের সংখ্যা এখন আটজন। বজলুর রহমানের মৃত্যুতে বিচার বিভাগ একজন প্রজ্ঞাবান, কর্তব্যনিষ্ঠ বিচারপতিকে হারাল বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। বিচারপতি বজলুর রহমানের জন্ম ১৯৫৫ সালের ১২ এপ্রিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ করার পর ১৯৮৪ সালে জেলা আদালত এবং ১৯৮৭ সালে হাই কোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ২০০১ সালের ৩ জুলাই হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বজলুর রহমান। পরে ২০০৯ সালের ১০ মে হাই কোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন তিনি। গত ১৫ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে অবকাশ শুরুর দিনেই মারা যান হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক জে এন দেব চৌধুরী। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুই বছরের জন্য হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের বাসিন্দা বিচারপতি জে এন দেব ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top