বিকাল ৪:৩২, বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / দানবীয় বস্ফিোরণে প্রশ্নবদ্ধি সভ্যতা
দানবীয় বস্ফিোরণে প্রশ্নবদ্ধি সভ্যতা
এপ্রিল ১৮, ২০১৭

আতাউর রহমান মিটন: যারা হাসতে হাসতে মানুষ খুন করে তাদেরকে আমরা ‘ঠান্ডা মাথার খুনি’ বলি। ইতিহাসে এমন লোমহর্ষক হত্যাকারীদের অনেক বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু একজন রাষ্ট্রনায়ক, যিনি আবার দুনিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের অধিকর্তা সেই মানুষটি যখন ‘ডেজার্ট খেতে খেতে হামলার হুকুম’ দেন তখন তাঁকে আমরা কি বলতে পারি?

 

সংবাদ সংস্থা এএফপি’র বরাত দিয়ে বাংলাদেশের কোন কোন সংবাদপত্রে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এর একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে যেখানে তিনি নিজেই বলেছেন, ‘তখন আমরা ডেজার্ট খাচ্ছিলাম, আমাদের সামনে ছিল এ যাবৎকালের শ্রেষ্ঠ চকোলেট কেক। প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং (চীনা প্রেসিডেন্ট) সেটা উপভোগ করছিলেন। এমন সময় জেনারেলদের কাছ থেকে ম্যাসেজ এলো আমাদের যুদ্ধজাহাজগুলো হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।


 আপনি কী করবেন? হামলা করার ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত দৃঢ় ছিল। সুতরাং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রওনা হয়ে গেল।’ সিরিয়ায় ৫৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ফেলার ঘটনাকে এমন কাব্যিকভাবে ট্রাম্প উপস্থাপন করলেও আমার কাছে তা মানবতার প্রতি ‘নিষ্ঠুর তামাসা’ বলে মনে হয়েছে। ডেজার্ট খেতে খেতে অন্য একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর মত নিষ্ঠুরতা যে মানুষটি দেখাতে পারে তাঁর হাতে বিশ্ব মানবতা এবং সর্বোপরি বিশ্ব সভ্যতা কতখানি নিরাপদ তা ভেবে আমি শঙ্কিত বোধ করছি।


আইএস নিধনের নামে আমেরিকা সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে। আমেরিকা স্পষ্ট করেই বলছে তাদের উদ্দেশ্য সিরিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপতি বাশার আল আসাদকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করা। ইরাকেও তারা একই কান্ড ঘটিয়েছে। সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করার জন্য তারা সেখানে ‘ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র’ থাকার জিকির তুলেছিল। কিন্তু সাদ্দামকে হত্যা করার পর সেখানে আজও পর্যন্ত আমেরিকানদের কথিত ‘ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র’ পাওয়া যায়নি।


 তাহলে সাদ্দামকে হত্যা করা হলো কেন? সিরিয়ার ক্ষেত্রে ওরা এখন বলছে যে সেখানে রাসায়নিক বোমা রয়েছে এবং সিরিয়ান সরকার সেটা নিরীহ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। সিরিয়ার সরকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাশিয়া এবং ইরান বলেছে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সেটাই সঠিক। কিন্তু তদন্ত না করেই এভাবে আগ বাড়িয়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করাটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমেরিকা গায়ের জোরে এটা করেছে এবং এটা তাদের সা¤্রাজ্যবাদী চেহারার নগ্ন প্রকাশ মাত্র।

 

আমেরিকা গোটা বিশ্¦ে শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছে। ‘গাঁয়ে মানেনা তবু মোড়ল’ সেজে সে বিশ্বের দেশে দেশে বোমাবাজি, অস্ত্রবাজি করে চলেছে আর শান্তির বাঁশিতে ফুঁ দিচ্ছে। মানুষ কি এতই বোকা যে তাঁরা আমেরিকান সরকারের নীতি ও কর্মসূচি সম্পর্কে কিছুই বুঝতে পারে না?

 

শান্তির কথা বলে আমেরিকা গত ১৩ এপ্রিল আফগানিস্তানের নানগড়হর প্রদেশে যে দানবীয় বোমা ফেলেছে সেটা কি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে? আমেরিকার যুদ্ধ জাহাজ উত্তর কোরিয়া উপদ্বীপের কাছে অবস্থান নিয়ে বিশ্বকে কি শান্তির কবিতা শোনাচ্ছে? আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমরা কি ধরণের পৃথিবী রেখে যাচ্ছি?


মোয়াব বা মাদার অব অল বম্বস বা সংক্ষেপে ‘মা বোমা’ বলে পরিচিত যে বোমাটি আফগানিস্তানে ফেলা হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে এর আগে এর চেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা ফেলা হয়নি। নানগড়হর প্রদেশের গভর্ণরের মুখপাত্র আতাউল্লাহ খোগয়ানি বলেছেন, এই হামলায় এ পর্যন্ত ৯৪ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন যার মধ্যে মাত্র ৪ জন কথিত জঙ্গি নেতা। তাহলে প্রশ্ন জাগে নিহত বাকি ৯০ জন কারা? এরা কি বেসামরিক নাগরিক? যদিও আমেরিকান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এই হামলায় কোন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়নি।


 আমরা যেহেতু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের উপর নির্ভরশীল সে কারণে আমরাও নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আসলে কী! মানুষ নিহত বা আহত হওয়া একটা বড় হিসাব কিন্তু বোমা নিক্ষেপের ফলে ঐ এলাকায় অন্যান্য প্রাণী, স্থাপনা, মাটি, পানি ও বাতাসের যে ক্ষয়ক্ষতি হয় তা কি হিসেবে নেয়া হয়? জাপানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা যে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করেছিল সে বোমার তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব এখনও বিদ্যমান বলে গবেষকরা বলে থাকেন।

তাহলে নানগড়হর এ বিস্ফোরিত দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সাইজের অপারমাণবিক বোমার ক্ষয়ক্ষতি সামান্য হবে তা ভাবার কোন কারণ নেই। বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখার দাবি রাখে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য-উপাত্ত গণমাধ্যমে প্রকাশ করে জনগণকে সবকিছু জানতে দেয়া। আসুন, আমরা সংক্ষেপে ‘মা বোমা’ বা মোয়াব সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাবার চেষ্টা করি।


 মাদার অব অল বম্বস বা মোয়াব এর পোশাকি নাম ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাষ্ট’। ইরাক যুদ্ধে আক্রমণের উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালে আমেরিকা জিপিএস পরিচালিত এই বোমা তৈরি করেছিল। পরমাণু বোমার পরেই এই বোমা সবচেয়ে শক্তিশালী। এর ওজন ১০ হাজার কেজির মতো।

 

৮,১৬৪ কেজির মতো বিস্ফোরক থাকে এর মধ্যে। টিএনটি বিস্ফোরকের তুলনায় ১১ গুণ শক্তিশালী এই বোমা। এটি দেড় মাইল এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পরমাণু বোমার মতই এই বোমা বিস্ফোরণের পর আকাশে মাশরুমের মত দেখতে মেঘের সৃষ্টি হয়েছিল যা প্রায় ২০ মাইল দূর থেকেও দেখা গিয়েছে।


 আমেরিকা এই প্রথম বোমাটি ব্যবহার করল। এটি গুহা, সুড়ঙ্গ এবং ভূগর্ভস্থ ডেরা ধ্বংস করতে সক্ষম। এই বোমা বিস্ফোরণের ১০০০ গজ এলাকার মধ্যে সব কিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বোমার শকওয়েভে ১.৭ মাইলের মধ্যে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মৃত্যু হয়।

 

২ মাইলের মধ্যে থাকা প্রাণীরা বধির হয়ে যায়। কম্পন ছড়িয়ে যায় ৫ মাইল এলাকা জুড়ে। আর ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রচুর। একটি মোয়াব তৈরিতে খরচ হয় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মার্কিন ডলার বা ১২৮ কোটি টাকা। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার কাছে এরকম ২০টি মোয়াব বা ‘মা বোমা’ রয়েছে।

 

পৃথিবীতে মানুষ যত সভ্য হচ্ছে বলে দাবি করছে ততই যেন পৃথিবীটাকে একটা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করছে। ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় সর্বত্র দামামা বাজছে হানাহানির। অশান্ত মানুষের মনের আগুনে যুদ্ধের বারুদ ঢালা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নানা নামে মানুষকে হত্যা করছে আরেকদল মানুষ।

 

মানুষই মানুষের হত্যাকারী, বনের বাঘ বা গর্তের সাপ নয়! আফগানিস্তানে মোয়াব বিস্ফোরিত হওয়ার পরে এখন শোনা যাচ্ছে রাশিয়ার হাতেও এর চেয়ে শক্তিশালী বোমা মজুদ আছে। রাশিয়ান সেনারা যাকে চেনে ‘ফাদার অব অল বম্বস’ বা ফোয়াব বলে।

 

 এটা নাকি মোয়াব এর থেকেও চার গুণ বড়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকা ও রাশিয়ার অপারমাণবিক বোমার সঙ্গে ভারত, চীন ও পাকিস্তানের বোমার কোনও তুলনাই চলে না। এত ধ্বংসাত্মক অপারমাণবিক বোমা এই তিন দেশের কারও কাছেই নেই। তবে যে সব নন-নিউক্লিয়ার বোমা ভারত, চীন ও পাকিস্তানের কাছে আছে, সেগুলো একদম হেলাফেলা করার মতো নয়।


আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকা নানগড়হর প্রদেশে আমেরিকার ছোড়া এক বোমায় ধ্বংস হয়ে গেল পুরো টানেল কমপ্লেক্স। প্রবল বিস্ফোরণে গুহায় গুহায় তৈরি হওয়া গোপন আইএস বাঙ্কারগুলো স¤পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে মার্কিন সূত্র দাবি করেছে। এলাকাটি পুরোটাই পর্বত-সঙ্কুল। উত্তর দিকে রয়েছে হিন্দুকুশ পর্বতমালা। দক্ষিণাংশে রয়েছে সফেদ কুহ বা ¯িপন ঘর পর্বতমালা।

বেশ দুর্গম এই এলাকায় গুহা ও সুড়ঙ্গ পথ রয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে। এটা এক সময় সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুজাহিদিনদের সমর্থনে তৈরি করেছিল সিআইএ। কথিত আছে এসব গুহা এবং সুড়ঙ্গকে ব্যবহার করেই এই এলাকাকে নিজেদের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে তুলেছিল আইএস। দীর্ঘ দিন ধরেই মার্কিন ও আফগান বাহিনী ওই অঞ্চলে আইএস-এর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালাচ্ছিল।

কিন্তু অজস্র গুহা এবং সুড়ঙ্গ থাকায় সেখানে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খুঁজে বের করা সহজ ছিল না। আকাশপথে বার বার অভিযান চালিয়েও অচিন নামের এই জেলার আইএস ঘাঁটি গুড়িয়ে দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এবার একটি মাত্র দানবীয় বিস্ফোরণে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সেই টানেল কমপ্লেক্স ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হলো।


 কিন্তু এর ফলে কি আইএস নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল? নাকি প্রতিহিংসার চেতনায় আবার নতুন করে অন্য কোন এলাকায়, অন্য কোন নামে আবার কোন গোষ্ঠী মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে? কথায় আছে ‘চোখের বদলা চোখ’ উভয়কেই অন্ধ বানিয়ে দেয়। কিন্তু বিশ্ব নেতৃবৃন্দ কি সে কথা মনে রেখে পদক্ষেপ নিচ্ছেন? নাকি তারা আছেন তাদের অস্ত্রের ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে নিজেদের সম্পদ-সা¤্রাজ্য আরও বিস্তৃত করতে? বিশ্বের সকলেই জানেন, আইএস আমেরিকার মদদে তৈরি হয়েছে। এই গোষ্ঠীর ব্যবহৃত অস্ত্র-গোলা-বারুদের একটি বড় অংশই মার্কিন বাহিনী থেকে পাওয়া।


এমনকি সামরিক প্রশিক্ষণও তারা সেখানেই পেয়েছে বলে শোনা যায়। নিজেদের স্বার্থে যখন ব্যবহৃত হয় তখন তারা দেশপ্রেমিক আর যেই তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান, কখনই তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য কামান দাগানো। যুদ্ধ ঘোষণা চিরতরে নির্মূলের। এটা অন্যায় এবং বাজে রাজনীতি।

 

কায়েমী স্বার্থবাদীদের এই খেলা দীর্ঘদিন থেকে চলছে এবং সাধারণ মানুষ অহেতুক এই নোংরা রাজনীতির ঘোরপ্যাচে পড়ে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে। আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে। আওয়াজ তুলতে হবে শান্তির সপক্ষে। নোংরামি আর হিংসার রাজনীতি দিয়ে জনসেবা হয়না।


আমরা জনগণ সত্যিকারের সেবক চাই। সেবার নামে আমাদের ভবিষ্যত খেকোদের আর কোনভাবেই প্রশ্রয় দিতে চাই না। আমেরিকা বানিয়েছে মাদার অব অল বম্বস বা মোয়াব আর রাশিয়ার রয়েছে ফাদার অব অল বম্বস বা ফোয়াব। আমাদের কাছে উভয়ই ভয়ঙ্কর।

 

আমরা উভয়ের কাছে ভয় নয় ভরসা চাই। আমরা বোমা নয়, মানুষের জীবন বাঁচাতে, জীবনকে সুন্দর করে সাজাতে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ রাখতে উন্নততর প্রযুক্তি চাই। বোমার পেছনে ব্যয় নয়, আমরা চাই ঐ টাকাগুলো দিয়ে বিশ্বের দেশে দেশে মানুষের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করা হোক।


বিশ্বের ১০ মিলিয়ন শিশু যারা দাস হিসেবে অমানবেতরভাবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে তাদের দাসত্ব নিরসনে ব্যয় করা হোক। আমরা চাই আমাদের ভবিষ্যতকে কিভাবে আরও সুন্দর, আরও নিরাপদ করে গড়ে তোলা যায় তার জন্য গবেষণায় অধিকতর অর্থ বিনিয়োগ করা হোক।

অস্ত্র ব্যবসা অনেক করা হয়েছে। মানুষ হত্যার আয়োজনের পেছনে টাকা ঢালা বন্ধ করুন। আমেরিকার জনগণের কাছে অনুরোধ, আপনারা প্রশ্ন করুন কেন আপনাদের ট্যাক্সের টাকা যুদ্ধের পেছনে ব্যয় করা হবে? আর যুদ্ধটা যেখানে মিথ্যার উপরে আশ্রিত? ইরাক যুদ্ধ থেকে আমেরিকা কি অর্জন করেছে সেই প্রশ্নটা করতে বাধা কোথায়? যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। বোমা নয় ভাত চাই।
লেখক: সংগঠক-প্রাবন্ধিক
miton2021@gmail.com
০১৭১১৫২৬৯৭৯



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top