বিকাল ৩:১৭, মঙ্গলবার, ৩০শে মে, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / তেরোতে বিয়ে চৌদ্দতে আত্মহত্যা
তেরোতে বিয়ে চৌদ্দতে আত্মহত্যা
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হতভাগ্য এক কিশোরীর ১৩ বছর চার মাসে বিয়ে ও ১৪ বছরে আত্মহত্যার খবর দিয়েছে জাতীয় গণমাধ্যম। উপজেলার বেতকোনা ইউনিয়নের মাঠেরহাট হরিপুর গ্রামে শনিবার রাতে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

ওই কিশোরী গৃহবধূ সুমি আকতার স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আটমাস আগে প্রেমের টানে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছেড়ে বিয়ে অতঃপর দাম্পত্য জীবনে কলহের কারণে তার জীবন দুবির্ষহ হলে অবশেষে বাবার বাড়িতে ঠাঁই। একদিন পরিবারের অনুপস্থিতিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা। আমাদের দেশে মেয়েদের এক বড় অংশের বিয়ে হয় বাল্য বয়সে।

বাল্য বিয়ের বদনাম থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখলেও কৌশলে বিশেষ ক্ষেত্রে বাবা-মা বা অভিভাবকদের সম্মতিতে এর নিচের বয়সেও বিয়ে দেওয়া যাবে।

 বাল্য বিয়ের প্রবণতা রোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কঠোরভাবে যখন আইন প্রয়োগ করা দরকার তখন অদ্ভুত যুক্তি দেখিয়ে বিয়ের বয়স কমানোয় বাল্য বিয়ের আগ্রাসনকেই বৈধতা দেওয়া হবে। সুমিকে মা-বাবা বিয়ে দেননি সত্যি। কিন্তু শিশু বয়সে বিয়ের এমন প্রবণতা সুমিদের কোথায় ঠেলে দিচ্ছে। আবার শখ পুরনের জন্য বা সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে নিজেদের শিশু সন্তানকে বিয়ে দেন এমন বাবা-মার সংখ্যা এদেশে অসংখ্য।

 আমাদের দেশের শতকরা ৯০ শতাংশ মেয়েকে কিশোরী বেলার শুরুতেই বখাটেদের উৎপাতের মুখে পড়তে হয়, যে কারণে গ্রামাঞ্চলের বাবা-মায়েরা তাদের কন্যা সন্তানের বিয়ের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করেন। বাল্য বিয়ে কিশোরীদের মুত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। সৃষ্টি করছে অপুষ্টিসহ সামাজিক সমস্যা। এ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top