বিকাল ৪:০৯, শুক্রবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ শিরোনাম / তেজপাতার বাগান করে স্বপ্ন পূরণ আদিবাসী শিরিল মুর্মুর
তেজপাতার বাগান করে স্বপ্ন পূরণ আদিবাসী শিরিল মুর্মুর
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭

আমিনুল ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর) : পত্রিকায় সংবাদ পড়ে স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আদিবাসী শিরিল মুর্মু। তিনি উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আদিবাসী পাড়ার মৃত চুন্ডা মুর্মুর ছেলে।

তার স্বপ্নের সূত্রপাত ঘটে ২০১৫ সালের প্রথম দিকে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা শিরিল মুর্মু পত্রিকায় প্রকাশিত তেজপাতার বাগান সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি মনোযোগ দিয়ে পড়েন। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনিও একটি বাগান করার স্বপ্ন লালন করতে থাকেন এবং ওই বছরে তেজপাতার বাগান করতে বিভিন্ন জনের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে আগস্ট মাসে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ৭৫ শতকের একটি এক ফসলি জমিতে সিঙ্গাপুর জাতের ২১৬টি গাছ রোপণ করে তেজপাতার বাগানটি গড়ে তোলেন।

শিরিল মুর্মুর সাথে বাগান সম্পর্কিত আলাপকালে তিনি তার স্বপ্নের কথাগুলো বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি চারা গাছ ১৫০ টাকা দরে ২১৬টির দাম পড়েছে প্রায় ৩২ হাজার ৪০০ টাকা এবং চার পাশে বাঁশের বেড়া, লেবুর গাছের বেড়া, মজুরি ও অন্যান্য খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। তবে মজার ব্যাপার হলো তার বাগানে চারা রোপণের মাত্র ১৬ মাসের মাথায় দুবার তেজপাতা বিক্রি করে অর্থ পেয়েছেন ২০ হাজার ২০০ টাকা। বর্তমানে বাগানে তৃতীয় বারের মত বিক্রির উপযোগী পাতা রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য হবে প্রায় ২০ হাজার টাকা মত।

 অপরদিকে শিরিল মুর্মুর তেজপাতা বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে পার্শ্ববর্তী পাকেরহাট গ্রামের আব্দুর রাকিব ৫০ শতক জমিতে প্রায় ৪০০টি গাছের তেজপাতার বাগান করেছেন। তিনিও ১৬ মাসে দুবারে প্রায় ৩৫ হাজার টাকায় পাতা বিক্রি করেন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তেজপাতা বিক্রিতে আশাতীতভাবে অর্থোপার্জন হওয়ায় লিচু কিংবা অন্য কোন ফলদ বাগানের চেয়ে অনেক লাভজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব বাগানের পরিচর্যা করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ নিয়মিত সহযোগিতা করছেন বলে জানান শিরিল মুর্মু। অপরদিকে তেজপাতার মুনাফা দেখে শিরিল মুর্মুর বড় ভাই পিয়ন মুর্মুও ২৫ শতকের জমিতে ৯০টি গাছ দিয়ে একটি বাগান করেছেন।তেজপাতার আদিনিবাস ইন্দোনেশিয়ায় হলেও বহুগুণে গুণান্বিত চিকিৎসা উপকরণ ও মসলা জাতীয় এ গাছটি

বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানেও জন্মায়। পায়েস, পোলাও, বিরিয়ানি, মাংস ও মাছের ঝোল, ভুনাসহ হরেক প্রকার খাবারের স্বাদ আনতে যে সব মসলা রান্নার কাজে ব্যবহার হয় তার অন্যতম হলো তেজপাতা। এছাড়াও চিকিৎসা শাস্ত্রেও রয়েছে তেজপাতার ব্যাপক কদর। তেজপাতার নির্যাস যেসব রোগের প্রতিষেধক হিসেবে উপকারী তার মধ্যে হজমশক্তি বৃদ্ধি, শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ সর্দিকাশি থেকে মুক্তি, শরীরের বিভিন্ন ব্যথা নিরাময়, কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ, হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস, শরীরের দুর্গন্ধ হ্রাস, ত্বক ও দাঁত উজ্জ্বল রাখা, খুশকি এবং চুলপড়া কমাতে খুবই কার্যকর তেজপাতা ঘরের সংরক্ষিত কাপড়ের ভেতর রাখলে কোনো পোকার আক্রমণ হয় না। আর একটি তেজপাতা গাছ হতে ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ভালো মানের পাতা সংগ্রহ করা যায়।

বাণিজ্যিকভাবে করা তেজপাতার বাগান সম্পর্কে উপজেলা কৃষি অফিসার এজামুল হক জানান, শিরিল মুর্মু এবং পাকেরহাট গ্রামের আব্দুর রকিবের আগ্রহ দেখে আমরা অভিভূত হয়েছি। তাদের একান্ত আগ্রহের কারণে কৃষি দফতরের সকলে বিষয়টি নিয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। তারা সফল হয়েছেন। কৃষি অধিদফদরের উপপরিচালক মহোদয়ও তাদের তেজপাতার বাগান পরিদর্শন করে গেছেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top