রাত ৩:৫৪, শনিবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / তিস্তা ছাড়া আর কোনো চুক্তি জনগণ মানবে না : বিএনপি
তিস্তা ছাড়া আর কোনো চুক্তি জনগণ মানবে না : বিএনপি
মার্চ ১৩, ২০১৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ছাড়া অন্য কোনো চুক্তি জনগণ মেনে নেবে না বলে দাবি করেছে বিএনপি। এদিকে, ২০০১ সালে বিএনপির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেছে দলটি।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিপক্ষে যায় এই ধরণের কোনো চুক্তি বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। ভারতের পত্র-পত্রিকায় এসেছে, ২৫ বছরের চুক্তি আবার একটা হতে যাচ্ছে-এই ধরণের একটা খবর। দেশবাসী এ ব্যাপারে জানে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে সেখানে কী আলোচনা হতে যাচ্ছে- এটা আগেই বলা উচিত। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আমরা আশা করে আছি, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক থাকায় তিস্তার পানিটা অন্তত পাবো। কিন্তু আজ পর্যন্ত এক ফোঁটা পানিও আমরা পাইনি। শুধু তাই না, পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হচ্ছে- পানি দেওয়া সম্ভব না। সীমান্তে বাংলাদেশিদের বেআইনিভাবে হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ফখরুল। জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবসের প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়ে দলের প্রতিক্রিয়া জানতে  চাইলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে, এটা আইনে আসুক। আমরা গণহত্যার বিরুদ্ধে, আমরা কনডেম করেছি। নৌ বাহিনীর জন্য চীন থেকে আনা দুটি সাবমেরিনের বিষয়ে তিনি বলেন, সাবমেরিন যদি ঠিকমতো ডুবে এবং যদি শত্রু পক্ষের জাহাজকে মারতে পারে, তাহলে ওয়েলকাম জানাই।

২০০১ সালে বিএনপির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-গ্যাস রপ্তানিতে তিনি রাজি হননি বলে ২০০১ সালে ‘র’ ও যুক্তরাষ্ট্রের যোগসাজশে আওয়ামী লীগকে ভোটে হারানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যে আমরা হতবাক হয়েছি। এত বড় একটা দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তি তিনি বলতে পারেন, এটা আমাদের চিন্তার মধ্যেই আসে না। এই উক্তির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এটা প্রকাশ্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, এ দেশে বিদেশিরা কাজ করছে এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম সরকার পরিবর্তনের সাথে তারা সম্পৃক্ত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার (প্রধানমন্ত্রী) রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি অবলীলায় মিথ্যাচার করেন। আর এই মিথ্যাচারগুলো করার ফলে জাতি আরো বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে বিদেশিরা ভূমিকা রাখলে আওয়ামী লীগ বিদেশিদের কাছে কী মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তা জানতে চান ফখরুল। ২০০১ সালে ‘হাওয়া ভবন’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এমন সব কথা-বার্তা, যাতে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই, সম্পূর্ণভাবে মিথ্যাচার। এখন তো পাবলিক পারসেপশন হচ্ছে, খোদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেই না-কি বাইরের লোকজন বসে থাকে। কারা বসে থাকে তা আমরা জানি না, লোকজন বলে তাই। এদিকে, গত রোববার রাতে ঢাকার মালিবাগে ফ্লাইওভারের গার্ডার দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি জাতির সামনে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের পর দিন প্রকল্পের খরচ-ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে এবং এই ঘটনাগুলো ঘটছে। ওই রাস্তায় যারা যাতায়াত করেন, তারা জানেন যে কী ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top