সকাল ৬:০৭, শুক্রবার, ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / ঝিনাইদহ অভিযান সমাপ্ত, দ্বিতীয় দিনে মেলেনি কিছু
ঝিনাইদহ অভিযান সমাপ্ত, দ্বিতীয় দিনে মেলেনি কিছু
মে ১৭, ২০১৭

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষ করেছে র‌্যাব। দেড় দিনের এ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে নতুন কিছু মেলেনি। র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান মুফতি মাহমুদ খান বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

এর আগে মঙ্গলবার প্রথম দিনের অভিযানে জঙ্গি আস্তানার আশপাশ থেকে দুটি সুইসাইড ভেস্ট, পাঁচটি বোমা, ১৮টি ডিনামাইট স্টিক ও বোমা তৈরির ১৮৬টি সার্কিট বোর্ড উদ্ধার করা হয়।

সোমবার রাতে ওই গ্রামের তুহিনের ভাই সেলিম (৪৫) ও তার চাচাত ভাই প্রান্তকে (২০) আটক করে র‌্যাব। তাদের বাড়িতে বিস্ফোরক ও জঙ্গি থাকতে পারে সন্দেহে মঙ্গলবার সকালে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি বাড়ি ঘিরে অভিযান শুরু করা হয়। রাতের বিরতির পর বুধবার সকালে আবার অভিযান চালায় র‌্যাব।

অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মিডিয়া উইং প্রধান মুফতি মাহমুদ খান দ্বিতীয় দিনের অভিযানে নতুন কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানান। তিনি বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা মারা গেছে বা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছে।

“বাইরে থাকা কিছু জঙ্গি নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ করে, বোমা তৈরি করে নাশকতার জন্য বিভিন্ন এলাকায় পাঠাচ্ছে।”

ঝিনাইদহ এলাকায় ‘নব্য জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপ’ সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এ এলাকায় রিমন নামে এক জঙ্গি নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছে।”

রিমনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দাদের মাধ্যমে আত্মগোপনে থাকা জঙ্গিদের তথ্য সংগ্রহ করছে। নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালাচ্ছে। এ মুহূর্তে রিমন সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।”

উদ্ধার করা পাঁচটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আর সার্কিটগুলো আলামত হিসেবে ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।” ঝিনাইদহে গত এক মাসে এ নিয়ে পাঁচটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালাল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

গত ২০ এপ্রিল সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামে আব্দুল্লাহ নামে ধর্মান্তরিত এক ব্যক্তির বাড়ি ঘিরে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

দুই দিনের সেই অভিযান শেষে ২০টি কেমিকেল কন্টেইনার, ছয়টি বোমা, তিনটি সুইসাইড ভেস্ট, নয়টি সুইসাইড বেল্টসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এরপর গত ৫ মে মহেশপুর উপজেলায় এক বাড়িতে পুলিশের অভিযানে নব্য জেএমবির দুই জঙ্গি নিহত হন। আর সদর উপজেলার লেবুতলায় আরেক বাড়িতে পাওয়া যায় আটটি বোমা ও একটি ৯ এমএম পিস্তল।

আর ৭ মে জেলার মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে মারা যান সোমবার চুয়াডাঙ্গা গ্রামে আটক সেলিমের ভাই তুহিন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top