সকাল ৬:৪৭, রবিবার, ২৩শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / জেলা পরিষদ নির্বাচন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : ফখরুল
জেলা পরিষদ নির্বাচন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : ফখরুল
ডিসেম্বর ২৮, ২০১৬

নির্বাচন-প্রক্রিয়া সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বিএনপি জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  বুধবার দুপুরে বিএনপি জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকে দেখতে গিয়ে  সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। গত সোমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জাগপা সভাপতি মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে, সংবিধানে নির্বাচন সম্পর্কে যে দিক-নির্দেশনা দেওয়া আছে, তাতে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের কথা বলা আছে। কিন্তু জেলা পরিষদে পরোক্ষ নির্বাচন করা হচ্ছে। বিএনপি মনে করে, এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং গণতন্ত্রের জন্য উপযোগী নয়। এ কারণেই বিএনপি জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। নির্বাচন প্রক্রিয়াটাকে এরা ধ্বংস করে ফেলেছে। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, বিএনপি ৫ জানুয়ারি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করবে। আমরা আশা করি, সরকার তাতে বাধা দেবে না। চলতি বছরকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বছরে বিএনপির সাফল্য অনেক। বিএনপি সফলভাবে কাউন্সিল করেছে, প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও দল গোছাতে পারা সাফল্য।এদিকে, জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদনের পরও ‘বেআইনিভাবে’ জেলা পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচন একতরফা ও সংবিধানের পরিপন্থি। আমাদের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে হতে হবে। জেলা পরিষদের যে নির্বাচনটি হচ্ছে, এটি পরোক্ষ ভোট। আইয়ূব খানের সময়ে পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে পার্লামেন্ট ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছেন, যাকে বলা হতো ‘মৌলিক গণতন্ত্র’। শেখ হাসিনা প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইয়ূব খানকে অনুসরণ করেন। তার যে স্বৈরাচারী নীতি, তিনি নিজেও স্বৈরাচার। আইয়ূব খান বিরোধী দল সহ্য করতেন না, শেখ হাসিনাও বিরোধী দল সহ্য করেন না। একতরফা নির্বাচন করতে চান। এখন তিনি আইয়ূব খানের সেই মডেল অনুসরণ করেই জেলা পরিষদ নির্বাচন করছেন।

প্রধানের রোগমুক্তিতে দোয়া
শফিউল আলম প্রধানের আশু রোগমুক্তি কামনায়  বিকেলে রাজধানীর আসাদগেটের দলীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করেছে জাগপা। এতে দলের সহ-সভানেত্রী রেহেনা প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, সকালে জাগপা সভাপতিকে দেখতে হাসপাতালে যান এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণিসহ ২০ দলের নেতারা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top