সকাল ৯:৩৯, শুক্রবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ সততার সঙ্গে কাজ করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ সততার সঙ্গে কাজ করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর
January 11th, 2017

প্রথমবারের মত ভোটের মাধ্যেমে নির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশসেবার দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছেন।  বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে দেশের ৫৯ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের শপথ পড়ান। শপথ নেয়া জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের দেশ ও জাতির কল্যাণে সততা-নিষ্ঠা ও নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মনোনয়ন দাখিল সংক্রান্ত জটিলতায় নির্বাচন হয়নি কুষ্টিয়া ও বগুড়া জেলায়। তিন পার্বত্য জেলায় নির্বাচনের জন্য আলাদা আইন রয়েছে। শপথবাক্য পাঠ শেষে প্রধানমন্ত্রী নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে বলেন, জেলা পরিষদের হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা থাকবে।

সততা, নিষ্ঠা একাগ্রতার সঙ্গে আপনারা স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন। আপনাদের মূল লক্ষ্য হবে মানুষের সেবা করা। তিনি বলেন, আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত এবং আজ যে শপথ নিলেন তা স্মরণে রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজ নিজ জেলাগুলোতে সমস্যা আছে, তা চিহ্নিত করে সমাধান ও উন্নয়ন কাজ করতে হবে। পাশাপাশি আরও উন্নয়ন কীভাবে করা যায় সেভাবে কাজ করবেন। সরকার ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতাকে যত বিকেন্দ্রীকরণ করা যাবে, জনসভা তত বেশি নিশ্চিত হবে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। এর আগে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিলাম। এবার সরাসরি নির্বাচন করেছি। যাতে তারা জেলার মানুষের সেবা করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য মানুষের সেবা করা। যখন স্বাধীনতা অর্জন করি সাড়ে সাত কোটি মানুষ ছিল। আজ ১৬ কোটি মানুষ। আমাদের ভূখ- সীমিত। তার মাঝে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে জনগণের সেবা নিশ্চিত করেছি। দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সরকার গুরুত্ব দিয়ে সারা দেশে উন্নয়ন করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশকে এগিয়ে নিচ্ছি তার সুফল পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চাই। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক। জেলা পরিষদের সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্যতরা আগামী ১৮ জানুয়ারি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শপথ নেবেন বলে স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক জানান। তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বর্জনে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দল মনোনীত ২১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ভোটের আগেই। ভোটের দিন আওয়ামী লীগ ও তাদের বিদ্রোহীরা জেতেন ৩৮ জেলায়। প্রতি জেলায় একজন করে চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হন এ নির্বাচনে। ১৯৮৮ সালে এইচ এম এরশাদ সরকার প্রণীত স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেওয়ার বিধান ছিল; পরে আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় একবারই সরাসরি নির্বাচন হয়েছিল। ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠনের জন্য নতুন আইন করে।  এরপর ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকার ৬১ জেলায় আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়। অনির্বাচিত এই প্রশাসকদের মেয়াদ শেষে এবারের নির্বাচন হয়।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top