বিকাল ৩:০২, বৃহস্পতিবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / জনস্বার্থ ইস্যুতে মাঠে নামতে চায় বিএনপি
শ্রমিক সমাবেশে অংশ নেবেন খালেদা জিয়া
জনস্বার্থ ইস্যুতে মাঠে নামতে চায় বিএনপি
এপ্রিল ১৮, ২০১৭

রাজকুমার নন্দী : নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ইস্যু, সরকারবিরোধী জনমত সৃষ্টি ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ে রাজপথে নামতে চায় বিএনপি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ দু’টি বৈঠকে দলটির নেতারা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজপথে নামার প্রস্তাব দিয়েছেন। ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও নেতারা জোটনেত্রীকে একই প্রস্তাব দেন। এছাড়া দল গুছিয়ে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে বেগম জিয়াকে মাঠে নামার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরাও। বিএনপি চেয়ারপারসনও সবকিছু গুছিয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ-দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে দ্রুততম সময়ে রাজপথে নামার চিন্তাভাবনা করছেন। কর্মসূচি চূড়ান্ত হলে দেশের কয়েকটি বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি বড় জেলাগুলোয় সমাবেশ করতে পারেন তিনি। তবে সেটা পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে সম্ভব নয়। অবশ্য এর আগে আগামী পহেলা মে ঢাকায় শ্রমিক সমাবেশে খালেদা জিয়া অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক সমাবেশের অনুমতির জন্য শ্রমিক দল ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেছে।

গত ডিসেম্বরে বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করার চিন্তা-ভাবনা ছিল বিএনপির হাইকমান্ডের। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের পর আগের সেই অবস্থান থেকে সরে আসে দলটি। বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, সরকারবিরোধী বিগত দু’টি আন্দোলন সফল না হওয়ায় নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েছেন। তাছাড়া সরকারের মামলা-হামলা ও নির্যাতনে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী এখনো এলাকাছাড়া। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করা প্রয়োজন। জেলায় জেলায় সম্ভব না হলেও অন্তত বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে ওই এলাকার নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা যাবে। তবে খালেদা জিয়া ছাড়া তৃণমূলকে চাঙ্গা-উজ্জীবিত করা কঠিন হবে। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে চেয়ারপারসনের দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও চাঙ্গা করা সম্ভব হবে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে উজ্জীবিত হলে তা দলের জন্য ইতিবাচক হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া ঢাকার বাইরে সফরে যাওয়ার আগে দলের তৃণমূল পুনর্গঠন কাজও শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে অনেক জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি কমিটিগুলোও দ্রুততম সময়েই দেয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।

এদিকে, খালেদা জিয়া সরাসরি মাঠে না নামলেও তার নির্দেশে সরকারবিরোধী জনমত তৈরিতে নতুন কৌশলে পোস্টার ও প্রচারপত্রের মাধ্যমে গত মাস থেকে দেশজুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ‘জাতীয় সম্পদ, জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে খালেদা জিয়ার ডাক’ সংবলিত ওই পোস্টারে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনসহ ১৯টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দলের ৮০টি সাংগঠনিক জেলা ইউনিটের মাধ্যমে সারাদেশে ইতোমধ্যে প্রচারপত্রটির লক্ষাধিক কপি সাঁটানো হয়েছে। দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

গত মাসে গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপিপন্থী পাঁচজন বুদ্ধিজীবী বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে খালেদা জিয়াকে জনসম্পৃক্ত ইস্যু নিয়ে রাজপথে নামার পরামর্শ দেন তারা। কথিত সংস্কারপন্থীদের ফিরিয়ে নেয়াসহ দল গুছিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে জনগণের মাঝে যাওয়ার আহ্বান জানান। খালেদা জিয়াও সবকিছু গুছিয়ে দ্রুতই জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বুদ্ধিজীবীদের জানান। জানতে চাইলে ওই বৈঠকে থাকা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার উচিত জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো, জনগণের সাথে কথা বলা। এ জন্য অবিলম্বে দল গুছিয়ে তার (খালেদা জিয়া) জনগণের মাঝে যাওয়া দরকার।

গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও খালেদা জিয়াকে রাজপথে নামার প্রস্তাব দেন দলটির নেতারা। ওই বৈঠকে নেতারা বলেন, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় আমাদের আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। তাছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন তৃণমূলে গেলে নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তির প্রেক্ষিতে করণীয় ঠিক করতে ১০ এপ্রিল স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দেশের জনগণ কিছুই পায়নি বলে মনে করে বিএনপি। দলটির দাবি, সফরে দেশের জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়েছে। বৈঠকে এই ইস্যুতে সরকারবিরোধী জনমত তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় দলটির নীতি-নির্ধারকরা। এ লক্ষ্যে বেগম জিয়াকে তারা আবারো রাজপথে নামার তাগিদ দেন। এছাড়া গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দেশবাসী কিছুই পায়নি বলে জোটের নেতারা মত দেন। এই ইস্যুতে সরকারবিরোধী জনমত তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে জোট নেতারা খালেদা জিয়াকে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলাগুলোতে সমাবেশ করার প্রস্তাব দেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০ দলীয় জোটের এক শীর্ষ নেতা জানান, সরকারবিরোধী জনমত সৃষ্টিতে জোটনেত্রীকে আমরা ঢাকার বাইরে একাধিক সমাবেশের প্রস্তাব দিয়েছি। তবে ঈদুল ফিতরের আগে এসব সমাবেশ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপি গণমানুষের দল। দলটি সবসময় জনগণের জন্যই কাজ করে থাকে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে চেয়ারপারসনের ঢাকার বাইরে সফরের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হলেই উনি (খালেদা জিয়া) ঢাকার বাইরে সফরে যাবেন।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top