দুপুর ১:১৩, রবিবার, ২৫শে জুন, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / জনগণের কল্যাণে কাজ করার শপথ
জাসাসের বর্ষবরনে খালেদা জিয়া
জনগণের কল্যাণে কাজ করার শপথ
এপ্রিল ১৫, ২০১৭

দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করে জনগণের কল্যাণে কাজ করার শপথ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের সাংস্কৃতিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেগম জিয়া।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা দেশ থেকে সন্ত্রাস, গুম-খুন-হত্যা, জঙ্গি হামলা ও নানা রকম ষড়যন্ত্র বিদায় করে দেশে শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো। সেজন্য আজকে ঐক্য, শান্তি ও কল্যাণের প্রয়োজন। তাই আসুন বাংলা নতুন বছরে আমরা আজকে শপথ করি, দেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করবো এবং জনগণের কল্যাণ করবো। দেশের মানুষ কষ্টে আছে-এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে বৃষ্টি ও বাইরে থেকে পানি এসে আমাদের হাওর অঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। সেজন্য গরিব কৃষকদের পাশে গিয়ে আমাদের দাঁড়াতে হবে। তাদের সাহায্য করতে হবে, যেন তারা এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারে।

গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সব সময় জনগণের কল্যাণ ও জাতীয় ঐক্যে বিশ্বাস করে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে জনগণ কারো হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না বলে সতর্ক করে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের অবস্থা দেখে অনেকে এগিয়ে আসতে চায়- অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের নামে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে দেশকে দুর্বল করার জন্য। বাংলাদেশে যখন ৮ কোটি লোক ছিলো তখন নিজেরা ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল। আজকে ১৬/১৭ কোটি লোক ঐক্যবদ্ধ, তাদের কারোর সাহায্যের প্রয়োজন নেই। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমরা সকলকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই। কিন্তু কেউ যদি আমাদের বন্ধু হয়ে প্রভূ হতে চায়, সেটা আমরা কখনো মেনে নেবো না। কারো প্রভূত্ব বাংলাদেশের মানুষ স্বীকার করবে না। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিকে ইঙ্গিত করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বেড়িয়ে এসেছেন। কিন্তু নিজের দেশের মানুষের স্বার্থের কথা, তাদের অধিকারের কথা বলতে পারেননি, কিছু করতে পারেননি। বরং তিনি নিজের দেশের মানুষের জন্য কিছু না করে, তাদের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে নিজের দেশের সবকিছু অন্যের কাছে দিয়ে এসেছেন, তার বিনিময়ে কিছুই আনতে পারেননি। এই সফরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) যদি সাহস করে শুধু একটা কথা বলতে পারতেন- তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা দেন, তাহলে আমি সমঝোতা করবো, অন্যথায় করবো না। এটা বললে আমরা সবাই তার পাশে থেকে সাহস ও সমর্থন জানাতাম।

জাসাস সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক চিত্র নায়ক হেলাল খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ডা. জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে খালেদা জিয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। তবলা, হারমোনিয়াম, ডুগযুগি ও বাঁশিসহ নানা বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনায় জাসাসের এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে জাসাস শিল্পীরা ভাটিয়ালী, দেশাত্মবোধক ও বাউল গান পরিবেশন করেন। হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে পহেলা বৈশাখের এই অনুষ্ঠান এক পর্যায়ে সমাবেশে রূপ নেয়। এদিকে, পহেলা বৈশাখে দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেছেন খালেদা জিয়া। গত শুক্রবার সকালে ওই শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি লিখেছেন, বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ হোক শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুক্তির। শুভ নববর্ষ।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top