বিকাল ৩:২০, মঙ্গলবার, ৩০শে মে, ২০১৭ ইং
/ চট্টগ্রাম / জঙ্গি আস্তানা: ঢাকার সোয়াট টিম সীতাকুণ্ডে
জঙ্গি আস্তানা: ঢাকার সোয়াট টিম সীতাকুণ্ডে
মার্চ ১৬, ২০১৭

জঙ্গি দমন অভিযানে সহায়তার জন্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পৌঁছেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দল, চূড়ান্ত অভিযানের জন্য যাদের অপেক্ষায় ছিল স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার বিকালে সীতাকুণ্ড পৌর শহরে ‘জেএমবির জঙ্গিদের’ একটি আস্তানা থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তারের পর পাশের ওয়ার্ডের ওই বাড়িতে অভিযান চালাতে গিয়ে বোমায় আহত হন এক পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখেছেন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা।

রাত পৌনে ১টার দিকে ঢাকা থেকে সোয়াটের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর দেড়টার দিকে সেখানে পৌঁছান কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (উত্তর) মসিউদ্দোল্লাহ রেজা জানান, ঢাকার এই দলের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।

“সোয়াট টিম এসেছে। এখন চূড়ান্ত অভিযান শুরু হবে।”

বাড়িওয়ালার কাছ থেকে খবর পেয়ে বুধবার বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে সীতাকুণ্ড পৌর এলাকার নামার বাজার ওয়ার্ডের আমিরাবাদ এলাকায় দোতলা সাধন কুটিরের নিচতলায় পুলিশের অভিযান শুরু হয়। সেখানে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ জসিম ও আর্জিনা নামের এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যে পাশের প্রেমতলা ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়ার ‘ছায়ানীড়’ নামের এই দোতলা বাড়িতে অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে গ্রেনেড হামলায় সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক আহত হন। পরে সীতাকুণ্ডের ওসি ইফতেখার হাসানের নেতৃত্বে আরেকটি দল এসে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন র‌্যাব ও সোয়াট সদস্যরা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নামার বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিউল ইসলাম চৌধুরী মুরাদ বলেন, সাধন কুটিরে অভিযানের পর পুলিশের একটি দলের সঙ্গে তিনিও প্রেমতলায় আসেন।

“পুলিশ দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন পরিদর্শক মোজাম্মেল। তিনি ছায়ানীড়ের গেইটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোতলা থেকে গ্রেনেড চার্জ করে। বিস্ফোরণে পায়ে আঘাত পেয়ে তিনি পড়ে যান।”

পুলিশের ঘেরাওয়ের মধ্যে থেকে ওই বাড়ি থেকে জঙ্গিরা মোট সাতটি গ্রেনেড ছোড়ে বলে কাউন্সিলর মুরাদ জানান।

তিনি বলেন, “বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। মনে হচ্ছে বিস্ফোরকগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী। ওই বাড়িতে কয়েকটি পরিবার আটকা পড়েছে।”

ঘটনাস্থলে থাকা  প্রতিবেদক মোস্তফা ইউসুফ জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সোয়াট সদস্যরা ওই বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেন এবং চারপাশে রেকি করা শুরু করেন।

পরে ওই বাড়ি ঘিরে তীব্র আলোর ব্যবস্থা করা হয়। একটি সাদা রঙের সাঁজোয়া যানও আনা হয় সেখানে। রাত ৯টার পর থেকে থেমে থেমে গুলির শব্দ পাওয়া যায় সেখান থেকে।

এর আগে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাং শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “বাড়ির মালিক আমাদের বলেছেন, দোতলায় তিনজন আছে। তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। আমরা তাদের ধরতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

ভবনের নিচতলায় থাকা দুটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “তাদের নিরাপদে সরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”

চট্টগ্রামে জঙ্গি দমনে বেশ কিছুদিন পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা না গেলেও সম্প্রতি কুমিল্লায় একটি বাসে তল্লাশির সময় পুলিশের দিকে বোমা ছোড়ার ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

গত ৭ মার্চ কুমিল্লায় দুই জঙ্গিকে আটক করার পর তাদের একজনকে নিয়ে ওই রাতেই মিরসরাইয়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ২৯টি হাতবোমা, নয়টি চাপাতি, ২৮০ প্যাকেট বিয়ারিংয়ের বল এবং ৪০টি বিস্ফোরক জেল।

এরপর চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এলাকায় এলাকায় ‘ব্লক রেইড’ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top