সকাল ৮:২৯, সোমবার, ১লা মে, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য / চাল ও সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে
চাল ও সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে
জানুয়ারি ২৭, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : রাজধানীর বাজারে চালের দাম বেড়েছে, যাকে ‘ধানের দামের সঙ্গে সমন্বয়’ বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা; আর দুই সপ্তাহ ধরে দাম বেড়ে চলা সয়াবিন তেলে এ সপ্তাহেও বাড়তি দাম গুণতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে চাল সরবরাহের প্রধান ভান্ডার উত্তরাঞ্চলের মিল মালিকরা দাবি করছেন, গত ১০/১৫ দিনে মিলে চালের দাম যতটুকু বেড়েছে- ঢাকার খুচরা বিক্রেতারা তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়িয়েছেন। আর কোনো পূর্ব ঘোষণা বা কারণ ছাড়া বোতলজাত ভোজ্য তেলে ক্রেতাদের বাড়তি দাম গুণতে হওয়ায় অবাক হয়েছেন খোলা সয়াবিন তেল ব্যবসায়ীরা।


গতকাল শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলে ৫২০ টাকা মূল্য লেখা আছে। এক লিটারের বোতলে মূল্য লেখা আছে ১০৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ৯৮ টাকা থেকে ১০০ টাকায় প্রতি লিটার সোয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছিল। তবে পরিবেশকরা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় গত সপ্তাহেই কোনো কোনো বাজারের দোকানিদের বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১০৫ টাকা করে রাখতে দেখা যায়। সকালে ঢাকার মিরপুর ও মহাখালী এলাকার কয়েকজন মুদি দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগেই সয়াবিন তেলে দাম বাড়ানোর কথা পরিবেশকরা জানিয়ে গেছেন।

 এখন অনেকে আগের দামে কেনা তেল নতুন দামে বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ নতুন মূল্য তালিক অনুসারে তেল কিনে বেশি দামে বিক্রি করা শুরু করেছেন। এমন দাম বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মাদ আলী ভুট্টো। তিনি বলেন, গত ১৫ দিনে খোলা তেলে লিটারে ৫ টাকা কমেছে, আর তারা উল্টো ৫ টাকা করে বাড়িয়েছেন। তাহলে দামের পার্থক্য হয়ে গেল ১০ টাকা।


এদিকে গত এক মাসে চালের দামও প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় একশ টাকা করে বেড়েছে বলে দাবি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। ইতোমধ্যেই বেশি দামে চাল বিক্রি শুরু করেছেন তারা। মহাখালী কাঁচাবাজারের চাল বিক্রেতা মুজিবুল হক বলেন, মোটা চাল (পাইজাম) ৫০ কেজির বস্তা ১৬শ টাকা থেকে ১৭শ টাকা হয়েছে, স্বর্ণা ১৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮৩০ টাকা হয়েছে, মিনিকেট ২৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪৫০ টাকা হয়েছে। নাজিরের বস্তা ২১শ টাকা থেকে বেড়ে ২২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিরপুরের শাহআলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা মোসলে উদ্দীন জানান, গত সপ্তাহ থেকে চালের দাম কিছু বেড়েছে। মিনিকেটের বস্তা ২২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩৬০ টাকা হয়েছে।

 আর জিরা নাজির আগে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা করে বিক্রি করলেও এখন ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি। চালের দামের বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাব রাইস এজেন্সির মালিক আকবর হোসেন বলেন, এ বছর ধানের দাম কিছুটা বেশি ছিল, যার কারণে চালের দামও কিছুটা বেড়েছে। মূল্য সমন্বয় করতে গিয়ে দাম বাড়াতে হয়েছে মিল মালিকদের। গতবার ধানে মণ ছিল ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা। এবার ৮৫০ টাকা মণে ধান কিনতে হয়েছে। কৃষকরা লাভ পেয়ে ধান চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

গত এক মাসে মিল পর্যায়ে চালের দাম বেড়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, মিটিকেটের দাম বস্তায় ৫০ টাকা বেড়ে ২২শ টাকা হয়েছে, পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে তা সাড়ে ২২শ টাকা হতে পারে, সে েেত্র ২৩শ টাকা মূল্যে বস্তা বিক্রি করাই যথেষ্ট। কিন্তু ঢাকায় মিনিকেট আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি। খুচরা বাজারে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়ান দাবি করে তিনি বলেন, তারা এমনই করে।

 যেমন ধরেন ডালের পাইকারি ও খুচরা দামে আপনি ১০ থেকে ১৫ টাকা পার্থক্য পাবেন। চালের দামে এতটা পার্থক্য না হলেও কেজিতে ২/৩ টাকা তো হয়ই। রসুনের দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে বলে জানান আদা-রসুন ও মসলার আড়ৎদার আমির হোসেন। তিনি বলেন, পাইকারী হিসেবে এখন ছোট রসুন ১৬০ টাকা ও বড় রসুন ১৮০-১৮৫ টাকায় বিক্রি করছি।

 বাজারে শাক-সবজি, তরি-তরকারি বিক্রি হচ্ছে কিছুটা স্থিতিশীল দামে। আমদানি করা রসুনের দাম এক সপ্তাহ আগে চড়া হয়ে উঠলেও তা কমে এসেছে বলে জানান মহাখালীর মুদি দোকানি শিমুল দাস। রসুনের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ২৩০/২৪০ টাকায় উঠেছিল। এখন আবার কমে ২১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ইন্ডিয়ান রসুন। মিরপুরে বাজার করতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, অধিকাংশ শাক-সবজির দাম স্থিতিশীল ছিল। তবে করলা ও শিমের দাম তুলনামূলক একটু বেশি মনে হয়েছে তার কাছে। শুক্রবার ছুটির দিনে শাক সবজির দাম কিছুটা বাড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top