সকাল ১০:৩৫, বৃহস্পতিবার, ২৭শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য / চালের দামে স্বস্তি আসেনি সাধারন মানুষের জীবনে * বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম
চালের দামে স্বস্তি আসেনি সাধারন মানুষের জীবনে * বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম
জুন ৩০, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: কয়েকমাস ধরে বাড়তে থাকা চালের লাগামহীন দর সরকারের নানা পদেেপর ঘোষণার পরও নিয়ন্ত্রণে না আসায় নিম্ন-মধ্যবিত্তসহ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আসেনি। ঈদের ছুটির পর গতকাল শুক্রবার রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাসখানেক ধরে চলা চালের দর অপরিবর্তিত রয়েছে; মোটা চাল কেজিপ্রতি ৪৮-৫০ টাকা এবং সরু চাল ৫০ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন আয়ের একাধিক ক্রেতা চালের দরবৃদ্ধির কারণে তাদের জীবনযাত্রার কষ্টের কথা জানিয়েছেন। এদিকে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েই চলেছে।


শেওড়াপাড়া, কচুতে, কারওয়ান বাজার ও মহাখালী বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা কেজি প্রতি ৪৮-৫০ টাকা ও পাইজাম কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকায়। সরু চালের মধ্যে মিনিকেট কেজিতে ৫৪-৫৬ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫-৬০ ও আঠাইশ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকায়। কচুতে বাজারে চাল কিনতে আসা চাকরিজীবী মোবারক হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই চালের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তের জীবন ধারণ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সরকারি হিসাবে জুন পর্যন্ত গত এক বছরে সাধারণ মানের মোটা চালের দাম বেড়েছে ১৬ শতাংশের বেশি; আর এক বছরে বেড়েছে ৪৮ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ঢাকার বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি চাল সর্বনিম্ন ৪৬ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন শুক্রবার শেওড়াপাড়া বাজারে চাল কিনতে আসা স্থানীয় সাহিদা বেগম। তিনি বলেন, আমাদের যৌথ পরিবারে দিনে কয়েক কেজি চাল লেগে যায়। চালের দাম বাড়লে আমাদের খুব কষ্টে পড়তে হয়।


চালের দাম বাড়ার বিষয়ে কচুতে বাজারের খুচরা বিক্রেতা জুয়েল বলেন, আমরা কেজিতে তিন থেকে চার টাকা লাভ করি। গত এক মাস ধরে বেশি টাকায় চাল কেনা পরছে।বন্যায় ধান নষ্ট হওয়াকে চালের দর বাড়ার কারণ হিসেবে দেখান শেওড়াপাড়ার খুচরা বিক্রেতা আজাদ মিয়া।তিনি বলেন, পাইকারি বিক্রেতাদের থেকে চাল কিনি আমরা। তারা চালের দাম বাড়াইলে আমাদের কিছু করার থাকে না।কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা শমশের বলেন, দুই-তিন মাস ধরেই চালের দাম বেশি, মিলাররা দাম বেশি রাখে।

 চালের বস্তা প্রতি ২০-৫০ টাকা লাভ হয় আমাদের।শুক্রবার কচুতে ও কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, পাইকারিতে বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) স্বর্ণা দুই হাজার ২৭০ থেকে দুই হাজার ২৮০ টাকায়, পাইজাম দুই হাজার ৩৮০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরু চালের মধ্যে মিনিকেট বস্তাপ্রতি দুই হাজার ৬৮০ থেকে দুই হাজার ৭০০, নাজিরশাইল তিন হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৭০০ এবং বিআর আঠাইশ (দেশি) দুই হাজার ৪০০ ও বিআর আঠাইশ (বিদেশি) দুই হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কচুতে বাজারের মা তৃপ্তি ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন বলেন, চালের দাম অনেক চড়া, প্রচুর দাম। টাকা দিয়েও ভাল চাল পাচ্ছি না। চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে ‘মিল মালিকদের সিন্ডিকেট’ ও ‘সরকারের অব্যবস্থাপনা’ দায়ী বলে মনে করেন কচুতে বাজারের সবচেয়ে বড় পাইকারি চাল বিক্রেতাদের একজন জনপ্রীতি রাইস এজেন্সীর সত্ত্বাধিকারী ফজলুর রহমান।

তিনি বলেন, মিল মালিকেরা প্রচুর চাল মজুদ করে সিন্ডিকেট করছে। কুষ্টিয়া, নওগা, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিল মালিকরা এই সিন্ডিকেট বেশি করছে। মিল মালিকেরা বুঝে গেছে সরকারের মজুদে চাল নাই, তাই তারা ইচ্ছামতো মুনাফা হাতাচ্ছে। বুধবার সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নিজেও চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করেছেন।


বাজারের অন্য পণ্যের মধ্যে রোজার শেষ দিকে মাংসের দাম বাড়লেও তা কিছুটা কমে এসেছে। গরুর মাংস কেজি প্রতি ৪৮০ টাকা, খাসি ৫৮০-৬০০ টাকা, বিদেশি মুরগি কেজিতে আড়াইশ টাকা ও দেশি মুরগী প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৪৫০ টাকা। এদিকে, কাঁচা মরেচর ঝাল যেন কমছেই না। দফায় দফায় বেড়েই চলেছে এর দাম। গত সপ্তাহেও যে মরিচ ছিল ৯০-১০০ টাকা কেজি তা এ সপ্তাহে এসে দাঁড়িয়েছে ১১০-১২০ টাকায়।

বৃষ্টিতে মরিচ পচে যাওয়াকেই দাম বাড়ার কারণ হিসেবে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে সবজির দাম কিছুটা কমলেও বেড়েই চলেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। গত সপ্তাহেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৬৫ টাকা থাকলেও এ সপ্তাহে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬৫-১৭০ টাকায়। অন্যদিকে মাছের বাজারও বেশ চড়া। শুক্রবার রাজধানীর পুর্ব রাজাবাজার, শুক্রাবাদ, গুলশান-১ এর ডিসিসি মার্কেট ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top