সকাল ৬:২০, মঙ্গলবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / চালের দামে উর্ধ্বগতি
চালের দামে উর্ধ্বগতি
সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭

দুই দফা আমদানি শুল্ক কমানোর পরও বাজারে চালের দাম কমেনি, বরং বাড়ছে। কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। গতকাল বগুড়ার বাজারে মোটা চাল আটাশ প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং সরু চাল মিনিকেট ৫২-৫৪, কাঠারি ভোগ ৫৫-৫৬ টাকা বিক্রি হয়। শুল্ক কমানোর পর বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি বেড়েছে, কমেছে আমদানি খরচ। সরকারি মজুদও বেড়েছে। কিন্তু কোনভাবেই চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। নানা অজুহাতে চালের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। গত মাসে চালের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়। কিন্তু শুল্ক কমলেও দাম কমেনি।

 চলতি বছরের শুরু থেকেই দফায় দফায় চালের দাম বাড়ছিল। কিন্তু তখন সরকার সতর্ক হয়নি। এবার চালের বাজার আমাদের দেখিয়েছে, সরকারের পরিকল্পনায় ঘাটতি যেমন আছে, তেমনি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রয়েছে আরো বড় ঘাটতি। এবার বাজারে বছরের শুরু থেকেই অস্থিরতা বিরাজ করছিল। সেই অস্থিরতা তুঙ্গে ওঠে হাওড়াঞ্চলে বন্যায় ব্যাপক ফসলহানির কারণে। ক্রমেই দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও চরমে ওঠে। এ বছর হাওড় এলাকায় ফসল মার খাওয়াকে অজুহাত হিসাবে নিয়ে চালকল মালিকরা সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে দেয় চালের দাম।

 বোরো ধান কৃষকদের কাছে যখন ছিল তখন তারা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার জন্য হাহাকার করেছেন। সেই ধান চালকল মালিকদের গুদামে যেতে না যেতেই শুরু হয় সাধারণ ভোক্তাদের হাহাকার। দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অসঙ্গতির জন্য চালকল মালিকদেরই পোয়াবারো। তাদের কাছে কৃষক এবং ভোক্তা দুই পক্ষই জিম্মি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে কৃষক ধান উৎপাদন করে তারা প্রতিবছরই উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার কৃষকদের বদলে চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করায় সেখানেও তারা মুনাফা লোটার সুবর্ণ সুযোগ পায়। এবার খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের বেহাল অবস্থা-খতিয়ে দেখতে হবে কে বা কারা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে সরকার যথাযথ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top