বিকাল ৪:২৯, বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ বিনোদন / চার শতাধিক চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী রেহানা জলি
চার শতাধিক চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী রেহানা জলি
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭

অভি মঈনুদ্দীন : সোনা মিয়া, এদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের এক সময়ের দর্শকপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা।  চলচ্চিত্রে যার অভিষেক হয়েছিলো ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে। এরপর সোনামিয়া বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিলেন। সেই প্রখ্যাত অভিনেতার সুযোগ্য কন্যা চলচ্চিত্রের মমতাময়ী মা চরিত্রের অভিনেত্রী রেহানা জলি। ১৯৮৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় চারশো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। আজ থেকে বাইশ বছর আগে কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘মা ও ছেলে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে রেহানা জলির যাত্রা শুরু হয়।

 অভিনয়ে জলি এতোটাই পারদর্শী ছিলেন যে প্রথম চলচ্চিত্র অভিনয় করেই ১৯৮৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি ভূষিত হন। প্রথম চলচ্চিত্রেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি যেন রেহানা জলিকে অভিনয়ে আরো দায়িত্ববান করে তোলে। ফলে একধরনের স্পৃহা নিয়েই তিনি আজ পর্যন্ত চলচ্চিত্রে কাজ করে চলেছেন নিরলসভাবে। ‘মা ও ছেলে’র পর রেহানা জলি ‘নিষ্পাপ’, ‘বিরাজ বৌ’, ‘প্রেম প্রতিজ্ঞা’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’সহ আরো বেশ কিছু চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন। এজে মিন্টু পরিচালিত ‘প্রথম প্রেম’ চলচ্চিত্রে রেহানা জলি প্রথম নায়কের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন। সেই থেকে আজ অবধি তিনি চারশো’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে চলচ্চিত্রের একজন অবধারিত মা’তে পরিণত হয়েছেন তিনি। একজন মমতাময়ী মা হিসেবে চলচ্চিত্রাঙ্গনে রয়েছে তার বেশ সুনাম। যে কেউ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গেলে শুরুতেই রেহানা জলির কথা ভেবে রাখেন। কারণ মা’র চরিত্রে অভিনয় করতে করতে তিনি নিজেকে দক্ষ করে তুলেছেন।

 যে কোন চ্যালেঞ্জিং মা চরিত্রে তিনি অতুলনীয়। নিজের অভিনয় জীবন নিয়ে রেহানা জলি বলেন,‘ আমার বাবা সোনা মিয়া এবং ভাই ব্ল্যাক আনোয়ার অভিনয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও অভিনেত্রী হতে গিয়ে আমাকে অনকে কষ্ট পেতে হয়েছে। কারণ আমি অভিনয় করি এটা পরিবারের কেউই চাইতেন না। একসময় অভিনয়ের প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ দেখে আমার মা রাবেয়া খানম আমাকে সমর্থন করেন। তার আগ্রহ, উৎসাহেই আমার এতোদূর এগিয়ে আসা। তবে আমার ছোট ভাই খোকনও চাইতো আমি যেন অভিনয় করি। কিন্তু সেই ভাইটি আমার মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে মারা যায়।

আমার পরিবারের একমাত্র দুঃখ বা কষ্ট হচ্ছে অসময়ে ভাইকে হারানো। আমার ভাই মারা যাবার পর সেই যে আমার মা বিছানায় পড়েন, এখনো সেই বিছানাতেই সময় কাটছে তার। তারপরও সবকিছু মেনে নিয়ে দর্শকের কথা, পরিবারের কথা চিন্তা করে আমি নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছি। আজীবন সম্মান নিয়ে মানুষের মাঝে থাকতে চাই, চলচ্চিত্রে থাকতে চাই। বর্তমানে জলি হাছিবুল ইসলাম মিজান পরিচালিত ‘ফুলবানু’ চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top