সকাল ৬:২১, মঙ্গলবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / চামড়া পাচারের আশংকা
চামড়া পাচারের আশংকা
সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭

কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া পাচারের আশংকা করছেন উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। ট্যানারি মালিক সিন্ডিকেটের কারসাজিতে টানা তৃতীয় বছরেও চামড়ার দামে ধস নেমেছে। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় প্রায় দুই হাজার চামড়া ব্যবসায়ী এবার টাকার অভাবে চামড়া কিনতে পারেননি। চামড়া ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের প্রতিটি জেলায় কোরবানির সময় দুই থেকে আড়াই লাখ পিস চামড়া আমদানি হয়।

সে হিসেবে প্রতি বছর কোরবানির সময় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ পিস গরুর চামড়া হয়। চামড়ার নিয়ন্ত্রণ এখন বড় বড় কয়েকজন ট্যানারি মালিকের হাতে। ট্যানারি মালিকরা চামড়া সংগ্রহে তেমন আগ্রহ দেখান না। আড়তদারদের শত শত কোটি টাকা ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া। যে সামান্য মূল্যে এবার চামড়া কিনেছেন আড়তদাররা তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্য ভারতে পশুর চামড়া।

 চামড়া ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, ট্যানারি মালিকরা দাম নির্ধারণ করেছে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪৫ টাকা। গরুর চামড়ার বেচাকেনা ছিল ৮শ’ থেকে এক হাজার টাকা। সূত্র আরো জানায়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে একটি গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকার ওপর। এ ছাড়া খাসির চামড়া কেনা হয়েছে ৭০-৮০ টাকায়। ভারতে এই চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকার ওপরে। ফলে ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেওয়া দামে ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে পারবেন না। তাই ভারতে চামড়া পাচার হওয়ার আশংকা করছেন কউ কেউ বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর বের হয়েছে।

 আমরা আশা করব চলমান সংকটে দেশ থেকে কাঁচা চামড়া যাতে ভারতে পাচার না হয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ প্রয়োজন। এবার কারসাজি করে লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। দেশেই লবণ উৎপাদন বা পর্যাপ্ত লবণ আমদানি করার ব্যবস্থা আগেই গ্রহণ করতে হবে। যাতে কেউ অজুহাত সৃষ্টির সুযোগ না পায়। সীমান্তেও কড়া নজরদারি রাখতে হবে যাতে এখান থেকে কোরবানির পশুর চামড়া ওপারে পাচার না হয়।

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top