রাত ৩:১৫, শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবাধে ঢুকছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য
ভারতীয় এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্ত্র কারখানা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবাধে ঢুকছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য
এপ্রিল ১৯, ২০১৭

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে দেশে ঢুকছে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরকের চালান। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওপারে ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলোতে গড়ে উঠা ছোট ছোট কারখানায় তৈরি হচ্ছে এসব মারণাস্ত্র। বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসার পর অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র পৌছে যাচ্ছে জঙ্গিগোষ্ঠী আর সন্ত্রাসীদের হাতে। আর এসব আগ্নেয়াস্ত্রের জোরেই ক্রমেই আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে সন্ত্রাসীরা।

দীর্ঘদিন ধরেই ভারত থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক দ্রব্য পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা। সবচেয়ে বেশি অস্ত্রের চালান আসে শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকাগুলো দিয়ে। ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান রে¯োÍরাঁয় জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়েই ভারত থেকে দেশে আনা হয়েছিলো বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্রগুলো। গত এক বছরে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০৩ টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬৭৮ রাউন্ড গুলি, ১৬১টি ম্যাগজিন ও ৬ কেজি গানপাউডার উদ্ধার করেছে। এসব ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৭ জনকে। জেলায় সবচেয়ে বড় অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে গতবছরের অক্টোবর মাসে। ওই দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শংকরবাটী এলাকা থেকে ২২টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকছে অস্ত্রের চালান। এসব অস্ত্র বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে ধরা পড়ছে জেলার অধিবাসীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে সরবারহের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার বৈষ্ণবনগর, মোয়াজ্জেমপুর, কালিয়াচক, গোলাপগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট অস্ত্র তৈরির কারখানা। এসব কারখানায় মুলত লেদ মেশিনেই তৈরি করা হচ্ছে এসব অস্ত্র। পরে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে আর চোরাচালানকৃত গরুর মাধ্যমে এসব আগ্নেয়াস্ত্র পাচার হচ্ছে বাংলাদেশে। শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা, বিনোদপুর ও শাহাবাজপুর ইউনিয়নে রয়েছে অস্ত্র ব্যবসার একাধিক রাঘববোয়াল। প্রভাবশালী এই অস্ত্র ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক বিশ্বস্ত বাহকের মাধ্যমে এসব অস্ত্র পৌছে দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অস্ত্রের চালানসহ এর বাহকদের ধরতে পারলেও তার মূল হোতারা সহজে ধরা পড়েনা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে একটি অস্ত্রের চালান ঢাকায় পৌছে দিতে পারলে বাহকরা পান মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। আর সামান্য এই টাকার জন্য ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্র পৌছে দেয়ার কাজে জড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। তবে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে অস্ত্র ব্যবসার গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতে ছোট ছোট অস্ত্র কারখানা গড়ে উঠার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা। অস্ত্র চোরাচালানে ব্যবসায়ীরা ঘন ঘন কৌশল পরিবর্তন করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তা দমনে হিমশিম খাচ্ছে। অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে সম্প্রতি নৌ রুটকেও গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান জানান, গত আট মাসে ৩১টি অস্ত্র, ২৬১ রাউন্ড গুলি ও ৬ কেজি গানপাওডার উদ্ধার করেছে পুলিশ। অস্ত্র ব্যবসায়ীদের ধরতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন এসব কারনে এখন আগের চেয়ে বেশি অস্ত্র ধরা পড়ছে।  

চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি নূরে আলম জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের অনেক এলাকা দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় চোরাচালানীরা অবৈধ অস্ত্র পাচারে সুযোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন অস্ত্র ব্যবসার লাগাম ধরতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। গত এক বছরে র‌্যাব এই অঞ্চলে ৩৭টি অস্ত্র ও ২৬৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। এই অভিযান আরো জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আবুল এহসান জানান, অস্ত্র চোরাচালান রোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে বিজিবি। সেই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে সমন্বিত গোয়েন্দা নজরদারী। গত এক বছরে ৩৫টি অস্ত্র ও ১৪৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ভারতীয় নাগরিকদের ছবিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য বিএসএফের কাছে নিয়মিত দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন এব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে বিজিবি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top