বিকাল ৪:১৯, শনিবার, ২৪শে জুন, ২০১৭ ইং
/ নির্বাচিত / চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীতীর ময়লা আবর্জনার ভাগাড়
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীতীর ময়লা আবর্জনার ভাগাড়
মে ১০, ২০১৭

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীতীর ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। ময়লার দুর্গন্ধে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে নদীতীরবর্তী এলাকায় বসবাসরত মানুষের জীবন। বৃষ্টির পানিতে এসব ময়লা-আবর্জনা নদীর পানিতে মেশায় মহানন্দার স্বচ্ছ পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে ধীরে ধীরে মারাত্মক দূষণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মহানন্দা নদী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত চার বছর ধরে জেলা শহরের খালঘাট এলাকায় মহানন্দা নদীর তীরে শহরের যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা। প্রথমে এলাকাবাসী বাধা দিলেও তাতে কর্ণপাত করেনি কর্তৃপক্ষ। বছরের পর বছর ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় মহানন্দার তীর এখন যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে করে ওই এলাকায় নদীতীরে দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসরত এলাকাবাসীসহ নৌ-পথের যাত্রীদের। এসব ময়লা-আবর্জনা থেকে জন্ম নিচ্ছে মশা ও মাছি। বৃষ্টির পানিতে এসব ময়লা-আবর্জনা নদীর পানিতে মেশায় নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, জেলা শহরের নয়াগোলায় পৌরসভার নিজস্ব ভাগাড় থাকলেও কয়েক বছর ধরে তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। নদীতীর দখলের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির নির্দেশে চার বছর ধরে পৌর এলাকার সমস্ত ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে খালঘাটে মহানন্দা নদীর তীরে। অথচ এই ভাগাড়ের পাশেই রয়েছে জনবসতি। প্রতিদিন খালঘাট, হুজরাপুর, রেলস্টেশন বস্তিসহ আশপাশের কয়েকশ’ নারী-পুরুষ গোসল করেন এখানে। এছাড়া এই খেয়াঘাটে নৌকায় করে প্রতিদিন ২/৩ হাজার মানুষ নদী পারাপার হয়ে থাকেন। কিন্তু পৌরসভার ফেলা ময়লা-আবর্জনার গন্ধে এখানে ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকাই এখন কষ্টকর বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার বিভাগের কর্মকর্তা জহির উদ্দিন জানান, চার বছর আগেও নয়াগোলায় পৌরসভার নিজস্ব ভাগাড়ে এসব ময়লা ফেলা হতো। কিন্তু পরে তা খালঘাটে মহানন্দা নদীর তীরে সরিয়ে নেয়া হয়। ময়লা আবর্জনার কারণে নদী দূষণের কথা তিনি স্বীকার করলেও বিষয়টি নিয়ে তিনি মেয়রের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার ৩/৪টি ট্রাকে করে এখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার এক কর্মী জানান, প্রতিদিন ৮-১০ ট্রাক ময়লা ফেলা হয় এখানে। এরই মধ্যে ময়লার স্তূপ ফেলে বেশ কিছু এলাকা ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসীর ধারণা যে কোন সময় ভরাট করা এই জায়গা দখল করে নিতে পারে প্রভাবশালীরা।
নৌকার যাত্রী তরিকুল ইসলাম বলেন, নৌকা পেতে দেরি হলে খালঘাটের বটগাছের নিচে খানিকটা বিশ্রাম নিতাম। কিন্তু এখন ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দুর্গন্ধে এখানে দাঁড়ানোই যায় না।

সদর উপজেলার যাদুপুর গ্রামের শাহজাহান আলী বলেন, খালঘাট দিয়ে নৌকায় করে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ চলাফেরা করেন। গত চার বছর ধরে এই এলাকার মানুষজনকে দুর্গন্ধ সইতে হচ্ছে। তিনি বলেন, নদীতীরের ময়লা-আবর্জনা থেকে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পথচারীদের নাকে রুমাল দিয়ে চলতে হয়। বিশেষ করে নৌকার যাত্রীরা খুবই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খালঘাটের একাধিক অধিবাসী জানান, একটি জনবসতি এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষ কিভাবে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করতে পারে এটা তারা বুঝছেন না। প্রথম প্রথম বাধা দিলেও প্রভাবশালীদের হুমকি ধমকিতে এক সময় চুপ হয়ে যান এলাকার মানুষ। ময়লার দুর্গন্ধে এখন এখানে বসবাস করায় তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিশেবাদী সংগঠন সেভ দ্য ন্যাচারের সমন্বয়ক রবিউল হাসান ডলার জানান, নদীতীরে আবর্জনা ফেলায় দূষিত হচ্ছে পানি। এখনই এসব কর্মকান্ড বন্ধ না হলে মহানন্দাকে বাঁচানো যাবে না বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান আরমান জানান, জনবসতি ওই এলাকায় যেন ময়লা ফেলা বন্ধ করা হয়, সেজন্য তিনি পৌর মেয়রের সাথে কথা বলবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম কারাঅন্তরীণ থাকায় এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top