সকাল ৯:৫২, বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ আর্ন্তাজাতিক / চলে গেলেন তিন শতকের সাক্ষী এমা মোরানো
চলে গেলেন তিন শতকের সাক্ষী এমা মোরানো
এপ্রিল ১৬, ২০১৭

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী মানুষটি ১১৭ বছর বয়সে ইটালিতে মারা গেছেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এমা মোরানো নামের এই নারী জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৯৯ সালে, ইটালির পিডমন্ট অঞ্চলে।

শনিবার ইটালির উত্তরাঞ্চলীয় ভারবানিয়া শহরে নিজের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী উনিশ শতকে জন্মগ্রহণকারীদের মধ্যে এমা মোরানোই ছিলেন জীবিত শেষ ব্যক্তি।

এই দীর্ঘ জীবনে তিনি তিনটি শতক দেখেছেন; দেখেছেন দুটি বিশ্বযুদ্ধ। তার জীবদ্দশায় ইটালিতে সরকার বদল হয়েছে ৯০ বার। বিবাহিত জীবনে মোরানোকে সইতে হয়েছে নির্যাতন। একমাত্র ছেলেকেও হারাতে হয়েছে।

আট ভাই-বোনের মধ্যে মোরানো ছিলেন সবার বড়। তবে তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ আয়ু পেয়েছেন। বিবিসি লিখেছে, এমা মোরানো তার দীর্ঘায়ু হওয়ার কারণ হিসেবে জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং দিনে তিনটি ডিম খাওয়ার অভ্যাসের কথা বলেছিলেন। এর মধ্যে দুটি ডিম তিনি কাঁচাই খেতেন।

তার মা বেঁচে ছিলেন ৯১ বছর, তার কয়েকজন বোনও শতায়ু হয়েছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপর রক্তশূন্যতা ধরা পড়লে দিনে তিন ডিম খাওয়ার ওই অভ্যাস শুরু করেন এমা মোরানো।

এর মধ্যে সকালে দুটি খেতেন কাঁচা, দুপুরে একটি ওমলেট করে। রাতে খেতেন মুরগির মাংস। কিছুদিন আগে ডিমের সংখ্যা দুইয়ে নামিয়ে আনার আগ পর্যন্ত তিনি ওই খাদ্যাভ্যাস চালিয়ে গেছেন।

গত ২৭ বছর ধরে তার চিকিৎসা করে আসা ডা. কার্লোস বাভা জানান, এমা মোরানো সবজি বা ফল কমই খেতেন। মোরানো মনে করতেন, ১৯৩৮ সালে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তও তার দীর্ঘায়ু হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তার ঠিক আগের বছর মোরানোর ছয় মাসের ছেলের মৃত্যু হয়।

যাকে মোরানো ভালোবাসতেন, সেই ছেলেটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত হয়। এরপর আর কাউকে বিয়ে করার ইচ্ছে তার ছিল না। ইটালির লা স্টাম্পা পত্রিকাকে ১১২ বছর বয়সে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে মোরানো বলেছিলেন, তিনি বিয়ে করেছিলেন বাধ্য হয়ে।

“সে বলেছিল, তাকে বিয়ে না করলে আমাকে মেরে ফেলবে। যখন আমাদের বিয়ে হল, তখন আমার বয়স ২৬ বছর।” আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদ না হলেও ১৯৩৮ সালে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন মোরানো। তার স্বামীর মৃত্যু হয় ১৯৭৮ সালে।

এমা মোরানো ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন নিজের শহরের এক কারখানায়। পরে বোর্ডিং স্কুলে রাঁধুনির কাজ নেন এবং সেখানেই ৭৫ বছর বয়সে অবসরে যান। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, “কেউ আমার ওপর ছড়ি ঘোরাক, তা আমি কখনও মেনে নিতে চাইনি।”

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা জেরন্টোলজি রিসার্চ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, এমা মোরানোর মৃত্যুর পর জ্যামাইকার ভায়োলেট ব্রাউন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী মানুষ। তার জন্ম হয়েছিল ১৯০০ সালের ১০ মার্চ।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top