সন্ধ্যা ৬:২৭, বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ
মার্চ ১৫, ২০১৭

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে সাধারণ মানুষের রান্না ঘর পর্যন্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে উত্তোলন যেমন বাড়ানো প্রয়োজন, তেমনি সঞ্চালন লাইন গ্যাস সরবরাহের উপযোগী করে তোলাও জরুরি। আমাদের আরো অনুসন্ধান কূপ খনন করা প্রয়োজন।

 বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর অনাবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্র আছে। সরকার গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে কেন ? বলা হয় গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার যে অজুহাত তোলা হয় তা ধোপে টেকে না। গ্যাসের অনুসন্ধান না চালিয়ে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে এর স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারবে না। ২০১২ সালে সমুদ্র সীমা নিষ্পত্তির পর থেকে মিয়ানমার অসংখ্য অনুন্ধান চালিয়ে পাঁচটি গ্যাস ক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছে। সেখানে আমাদেরও যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। গ্যাস শহরের রান্নার একমাত্র উপকরণ বলা চলে, যা স্বাভাবিক জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়াবে।

 ফলে সাধারণ মানুষের আয়-ব্যয়ের বৈষম্য বাড়বে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম বাড়বে। আজকের যুগে অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। শিল্পায়নের জন্য চাই ইন্ধন শক্তি। এদিক থেকে আমরা খুব পিছিয়ে। বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন ইন্ধন শক্তির মধ্যে রয়েছে গ্যাস ও কয়লা। নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশে কয়লার মজুদ মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও ঘনবসতির এই দেশে কয়লা উত্তোলন কতটা লাভজনক তা সংশয়ের উর্ধ্বে নয়।

 অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশেষত শিল্পায়নের জন্য ইন্ধনশক্তির সহজলভ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, সেহেতু সাগর প্রান্তে নতুন গ্যাসের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত স্থলভাগের মজুদ গ্যাস সতর্কভাবে ব্যবহার জরুরি হয়ে উঠেছে। গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি থেকে শুরু করে শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয়, সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার ব্যয় বাড়বে। তাই দাম বাড়ানোর কথা না ভেবে গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নিজেদের সামর্থ্য গড়ে তুলতে হবে। গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা প্রয়োজন।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top