রাত ৯:৩২, বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / গোপনে দেশ বিক্রি হলে খালেদা জানলেন কী করে, প্রশ্ন কাদেরের
হেফাজতের সাথে আপস নয়,কওমি উচ্চ শিক্ষার স্বীকৃতি
গোপনে দেশ বিক্রি হলে খালেদা জানলেন কী করে, প্রশ্ন কাদেরের
এপ্রিল ১৩, ২০১৭

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে গোপনে দেশ বিক্রির যে অভিযোগ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া করেছেন, তা তিনি কীভাবে জানলেন- এমন প্রশ্ন রেখেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেই সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সাঙ্গে আপস নয়, সরকার কওমি মাদ্রাসারা উচ্চ শিক্ষার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় এমন অবস্থানের কথা জানান কাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে বুধবার খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য হাস্যকর, উদ্ভট, স্ববিরোধী, অজ্ঞতার পরিচয়, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও উসকানিমূলক বলে আখ্যায়িত করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন- চুক্তি নাকি গোপনে হয়েছে। আবার বলছেন, দেশ নাকি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। গোপনই যদি হয়ে থাকে, তাহলে দেশ বিক্রির কথা খালেদা জানলেন কীভাবে? আওয়ামী লীগ নেতা কাদের বলেন, শুধু ভারত নয়, পৃথিবীর অনেক দেশের সঙ্গে এমওইউ সমঝোতা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে বৈঠকে কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রিক মূর্তি অপসারণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কওমি মাদ্রাসার উচ্চশিক্ষার স্বীকৃতি দেওয়া মানে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে কোনও আপোস করা নয়। এটা রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা। জনগণের আবেগ অনুভূতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের সাথে আমাদের কোনো অ্যালায়েন্স হয়নি। হেফাজতের চিন্তাধারার সাথে আমাদের মিলমিশ হয়ে গেছে- এ ধরনের ধারণা কোথা থেকে এল? জনগণের ‘আবেগ এবং একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর শিক্ষার স্বীকৃতি’ দিতেই প্রধানমন্ত্রী ‘বাস্তবসম্মত’ ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ কাদের। তিনি বলেন, এটার মানে এই না যে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আপস হয়েছে। কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আপসের কথা হাস্যকর। আমাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, এখানে হেফাজতে ইসলাম মূল বিষয় না। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যেতে পারে।

তাই প্রধানমন্ত্রী একটা বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর কওমি মাদ্রাসার সবাই হেফাজত করে এটা কে বলেছে?  ‘হেফাজতে ইসলামের সাথে মিতালি আত্মঘাতী হবে’- বাম নেতাদের এমন হুঁশিয়ারির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সামাজিক যে বাস্তবতা, এখানকার জনগণ যেটা ভাবে, আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের রাজনীতির রিয়েলিটি হচ্ছে- আমাদের জনগণের অনুভূতি ও আবেগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যারা বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তারাই এদেশের সত্যিকারের প্রগতিশীল। আওয়ামী লীগের দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কুমিল্লাসহ সারাদেশে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ব্যাপারে কেস টু কেস ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা দলে শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য পেছন থেকে মদদ যোগাচ্ছে ও উসকানি দিচ্ছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাম্মদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সুবহান গোলাপ এবং বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top