রাত ২:৩০, শুক্রবার, ৩০শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত / গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার : ৮ দিনের রিমান্ডে
গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার : ৮ দিনের রিমান্ডে
জানুয়ারি ১৪, ২০১৭

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী নিও-জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক কমান্ডার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাষ ওরফে শান্ত ওরফে টাইগার ওরফে আদিল ওরফে জাহিদকে (৩২) গ্রেফতার করেছে ডিএমটির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। জঙ্গি সংগঠনে সে রাজীব গান্ধি নামেই বেশি পরিচিত।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের এ্যালেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।  শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। অন্যদিকে  পুলিশ দুর্ধর্ষ এই জঙ্গিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মনিরুল বলেন, গুলশান হামলায় সরাসরি সম্পৃক্ত যে কয়জনকে জীবিত ধরা হয়েছে, তাদের মধ্যে রাজীব গান্ধী অন্যতম। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে চালানো জেএমবির বোমা হামলার অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল আওয়ালের বগুড়ার আস্তানায় রান্না-বান্নার কাজ করতো রাজীব। সেখান থেকেই বড় নেতাদের ইশারায় সেও ধীরে ধীরে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে ও অভিযানে অংশ নিয়ে এই রাজীবও এক সময়ে শীর্ষ জঙ্গি নেতায় পরিণত হয়। পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম ওরফে মারজানের সঙ্গে গুলশান হামলার পরিকল্পনায় তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পশ্চিম রাঘবপুর এলাকার ভূতমারী ঘাট এলাকায়। তার বাবার নাম মাওলানা ওসমান গণি মন্ডল এবং মা রাহেলা বেগম। শুভ নামে তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ২০১৫ সালে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ‘হিজরত’ করে রাজীব। স্থানীয় একটি স্কুল থেকে সে এসএসসি পাস করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজীব গান্ধী গুলশান ও শোলাকিয়া হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি, টাঙ্গাইলের দরজি নিখিল চন্দ্র জোয়ারদার, পাবনার পুরোহিত নিত্যরঞ্জন পান্ডে, রংপুরের মাজারের খাদেম রহমত আলী, কুষ্টিয়ার চিকিৎসক সানাউর, পঞ্চগড়ের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর, দিনাজপুরের হোমিও চিকিৎসক ধীরেন্দ্রনাথ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীসহ ২২টি হত্যার পরিকল্পনাকারী ছিলো বলেও স্বীকার করেছে সে।

পুলিশ বলছে, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী আরও স্বীকার করেছেন, তিনি গুলশান হামলায় অংশগ্রহণকারী মো. খায়রুল ইসলাম পায়েল ওরফে বাধন, মো. শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিকাশকে নব্য জেমএবিতে ঢোকান। পরে তাদের হামলার জন্য বাছাই করেন। শোলাকিয়া হামলায় জড়িত শফিউল ইসলাম ওরফে ডনকেও তিনি প্রস্তুত করেছিলেন। নব্য জেএমবিতে যোগ দেওয়ার আগে রাজীব গান্ধী জেএমবির সুরা সদস্য নজরুল ইসলামের সহযোগী ছিলেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গুলশান হামলার ঘটনায় তারা এই প্রথম এমন একজনকে আটক করলো যার কাছে এ হামলা সম্পর্কে অনেক তথ্য রয়েছে। তার গ্রেফতার ওই হামলার ঘটনা তদন্তে এবং এ হামলার পরিপূর্ণ রহস্য উদঘাটনে তাদের সাহায্য করবে।’

 

 

 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top