সকাল ১০:৪৪, শুক্রবার, ২৮শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ Top News / গুরুত্বপূর্ণ ২০টি মামলার নমুনা ফিরিয়ে দিয়েছে ডিএনএ ল্যাব
কর্মবিরতিতে বিপাকে পুলিশ
গুরুত্বপূর্ণ ২০টি মামলার নমুনা ফিরিয়ে দিয়েছে ডিএনএ ল্যাব
মার্চ ২০, ২০১৭

রুদ্র রাসেল : রাজস্ব খাতে স্থানান্তর না করা এবং দুই মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ১৫ মার্চ থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ মামলার ডিএনএ প্রোফাইলিং না হওয়ায় বিপাকে পড়েছে পুলিশ।  সোমবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ওই ল্যাবে আসা অন্তত ২০টি মামলার ডিএনএ নমুনা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে (কালেকশন সেন্টার) কর্মরত আছেন ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। একযুগের বেশি সময় ধরে এই প্রকল্পে কাজ করার পরও এখন চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন তারা। এ বিষয়ে ডিএনএ ল্যাব প্রকল্পের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সাবিনা সুলতানা জানান, ‘প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন দেশের বাইরে আছেন। তাকে কর্মবিরতির বিষয়টি জানানো হয়েছে।’ ডিএনএ ল্যাব সূত্র জানায়, গত বছরের ৩০ জুন তৃতীয় মেয়াদে প্রকল্পের সময়সীমা শেষ হয়। তবুও জরুরি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রকল্প পরিচালক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘ডানিডা থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’। চিঠিতে গতবছরের ১ জুলাই থেকে তৃতীয় পর্বে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে তারা কাজ চালিয়ে যান। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের বেতন দেওয়া হলেও শতকরা ২৫ ভাগ বেতন কেটে রাখা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারির বেতন এখনও হাতে পাননি তারা। এ নিয়ে প্রকল্প পরিচালক ও ল্যাবপ্রধানের কাছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বারবার ধরনা দিলেও কিছুই করার নেই বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিএনএ ল্যাবের কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে ডিএনএ অধিদফতর বিল পাস হয়েছে। ৯২ জন জনবলেরও অনুমোদন পাওয়া গেছে।

কিন্তু এখন বলা হচ্ছে সেখানে তাদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে না। তাদের প্রশ্ন- ‘৮-১০ বছর চাকরি করেও এখন কেন তাদের নতুন করে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি নিতে হবে?’ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, কর্তৃৃপক্ষ তাদেরকে মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তৃতীয় পর্যায় শুরুর প্রথম এক বছরের মধ্যে রাজস্ব খাতে জনবল স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু এখন প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উল্টা তাদের আবার পরীক্ষা দিয়ে প্রকল্পে কাজ পেতে হবে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু ১০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে কর্মরতরা এখন আর এই শর্ত মানতে রাজি নন। এখানকার জনবলকে সরাসরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top