দুপুর ১২:১০, বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / গার্হস্থ্য অর্থনীতি ঠেকাতে রাস্তায় ঢাবি শিক্ষাথী ও নীলক্ষেতের হকাররা
গার্হস্থ্য অর্থনীতি ঠেকাতে রাস্তায় ঢাবি শিক্ষাথী ও নীলক্ষেতের হকাররা
মার্চ ১৬, ২০১৭

ঢাবি প্রতিনিধি : গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রীদের আন্দোলনের পাল্টায় রাস্তায় নেমেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হকারদের দুটি দল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট করার দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রীদের ‘মহাসমাবেশ’ হয়েছে নিউ মার্কেট মোড়ে। এর কয়েকশ গজ দূরে নীলক্ষেত মোড় ও ভিসি চত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে গার্হস্থ্য অর্থনীতির আন্দোলনের বিরোধিতায় এক ঘণ্টা মানববন্ধন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ’ পাঁচেক শিক্ষার্থী। এদিকে গার্হস্থ্য অর্থনীতির ছাত্রীদের সমাবেশ শুরুর পর গাউছিয়ার দিক থেকে মিছিল নিয়ে হকারদের একটি দল সমাবেশস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। হকারদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। তিন পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নিউ মার্কেট ও নীলক্ষেত মোড় হয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরিও ধানমন্ডি এলাকায়। উত্তেজনার মধ্যে পুরো এলাকায় অবস্থান নেয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। তবে এর মধ্যেও কর্মসূচি চালিয়ে যান গার্হস্থ্য অর্থনীতির ছাত্রীরা।    


ঢাকার আজিমপুরের এ কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট করার দাবিতে গতবছর সেপ্টে¤॥^র থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার থেকে নিউ মার্কেট মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়ে আসার পর বুধবার তারা অভিযোগ করেন, আন্দোলন বন্ধ করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ নানাভাবে চাপ দিচ্ছে, বাসায় ফোন করে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বুধবার ওই সমাবেশ থেকেই বৃহস্পতিবারের মহাসমাবেশের কর্মসূচি দেন আন্দোলনকারীরা। সে অনুযায়ী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিউ মার্কেট মোড় আটকে তাদের মহাসমাবেশ শুরু হয়। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিসি চত্বরে ততক্ষণে কয়েকশ শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে গার্হস্থ্য অর্থনীতির ছাত্রীদের বিরোধিতায় মানববন্ধন শুরু করেন। ‘হোম ইকোর অবৈধ আন্দোলন-মানি না মানব না’, ‘একদফা এক দাবি- অধিভুক্ত মুক্ত ঢাবি’- ইত্যাদি সেøাগান দিতে শোনা যায় তাদের। পরে তাদের একটি অংশ আরও এগিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে গিয়ে সেখানে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে সেøাগান দিতে শুরু করেন।  


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র গোলাম সারওয়ার সানি তাদের কর্মসূচির বিষয়ে  বলেন, ওদের দাবি অযৌক্তিক। ওরা নিউ মার্কেট মোড় বন্ধ রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রের ভাষ্য, আমরা ওদের ইন্সটিটিউট হতে দেব না। উল্টো ওদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্তি থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক উর্দু বিভাগের তৃতীয় বর্ষের আবদুল কাদের জিলানী বলেন, তাদের দাবি তিনটি। এক. গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে বের করে দিতে হবে; দুই. আরও সাতটি নতুন কলেজকে নতুনভাবে অধিভুক্তির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে; ৩. অধিভুক্ত কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় সমাবর্তন করতে দেওয়া যাবে না। গার্হস্থ্য অর্থনীতির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আমরা ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। আর তারা এখানে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে।

তাহলে তারা কীভাবে ইনস্টিটিউট হতে চায়? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচি চলে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। তার আধা ঘণ্টা আগে গাউছিয়ার দিক থেকে শ’ তিনেক হকারের একটি মিছিল নিউ মার্কেট মোড়ের দিকে এগোলে বলাকা সিনেমা হলের সামনে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। একজন হকার  বলেন, চার দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করার কারণে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে।তাদের আর এই মোড়ে থাকতে দেওয়া হবে না। নিউ মার্কেট থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, দোকান মালিক সমিতির কর্মচারীরা এই আন্দোলন বানচাল করতে আসছে। আমরা ওদের ঠেকিয়ে রেখেছি। গার্হস্থ্য অর্থনীতির শিক্ষার্থীদের আমরা বলেছি যেন সরে যায়। এভাবে চললে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে। কিন্তু গত ১১ মার্চ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আসা শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া তারা রাজপথ ছাড়বেন না। পুলিশের বাধায় এগোতে না পেরে হকাররা বেলা পৌনে ১টার দিকে ওই এলাকা ত্যাগ করে। কিন্তু বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিক থেকে ২০-২৫ জন ছাত্রীর একটি দলকে গার্হস্থ্য অর্থনীতির সমাবেশ লক্ষ্য করে দৌঁড়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় আন্দোলনরত ছাত্রীরা উঠে দাঁড়িয়ে ব্যরিকেড তৈরি করে এবং সেøাগান দিতে শুরু করলে উত্তেজনা বেড়ে যায়।

কিছুক্ষণ বাকবিত-ার পর গার্হস্থ্য অর্থনীতির ছাত্রীরা সমাবেশের মাঝখান দিয়ে পথ করে দেন এবং সেখান দিয়ে বেরিয়ে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের দলটি। তাদের একজন  বলেন, গার্হস্থ্য অর্থনীতির আন্দোলনের কারণে কুয়েত মৈত্রী ও ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলের ছাত্রীরা গত চার দিন ধরে ক্যাম্পাসের বাসে চলাচল করতে পারছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী নিশাদ মৌরভী বলেন, প্রতিদিন এই ঝামেলা ভালো লাগে না। তাই আজ আমরাই এগিয়ে এসেছি। পরীক্ষা থাকে, গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে, ওদের তো আর মাথাব্যথা নেই। আজ প্রক্টর স্যারকে ইনফর্ম করার হুমকি দেওয়ার পর রাস্তা ছেড়েছে। এদিকে গার্হস্থ্য অর্থনীতির ছাত্রীদের সমাবেশের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র তারিন সুলতানা শাম্মী বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়েও তা পূরণ না করে আমাদের আজ রাস্তায় নিয়ে এসেছে। আমাদের ইনস্টিটিউট করার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো আর নাম ব্যবহার করে পরিচিত হওয়ার জন্য তারা এই আন্দোলন করছেন না। তারা কলেজের শিক্ষার যে উন্নয়ন চান, তা স্বায়ত্বশাসিত ইনস্টিটিউট হলেই সম্ভব বলে তারা মনে করেন। আমাদের কলেজ এখন যেভাবে চলছে, তাতে আমাদের অভিভাবক কয়েকজন। অভিভাবক একজন থাকলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন সহজতর হবে। কলেজের শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শাম্মী বলেন, এখন যেভাবে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি চলছে, তাতে শিক্ষার মান নিম্ন থেকে নিম্নতর হচ্ছে। যেখানে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আমাদের গার্হস্থ্য অর্থনীতির বিভাগগুলোর অনেক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, সেখানে আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top